কাশিমপুর পাম্প হাউজে ৭৮ কোটি টাকার নতুন মেশিন স্থাপন : মনু প্রকল্পের ভেতর কৃষিতে সুফল আসবে

July 31, 2018,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মনু প্রকল্পের অধিনে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরের  ২৪ হাজার ১শ ৭৮ হেক্টর এলাকার ১৯ হাজার ২শ ২৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমির বন্যা নিয়ন্ত্রন, নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থা প্রদান করার লক্ষে কাউয়াদীঘি হাওরের কাশিমপুর পাম্প হাউজে দ্বিতীয় বারের মত স্থাপন করা হয়েছে নতুন পাম্প মেশিন। পুনরায় নতুন মেশিন স্থাপন করায় স্থানীয় কৃষকরা বেজায় খুশি। এর আগে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ যাবৎ এই হাওরে পানি সেচ এর অভাবে জলমগ্ন হয়ে থাকতো প্রায় বারো মাস। এতে কৃষকেরা কৃষি ক্ষেতে তেমন একটা লাভমান হতে পারেন নাই। এবার নতুন পাম্প স্থাপনের পর বিশাল এই হাওরে আগের মত পানি নাই ।  পাহাড়ি ঢল অথবা বৃষ্টির পানি হাওরে ঢুকে পড়লে  পাম্প মেশিন  দিয়ে সেচ করে কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয় পাইবো কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ১৯৭৫-৭৬ সালে পাম্প হাউজ স্থাপন করা হয়। পাউবো প্রকৌশলীরা বলছেন এ মেশিনগুলো স্থাপন হওয়াতে প্রকল্পের আওতার সকল কৃষকেরা নির্ভিগ্নে কৃষি ক্ষেত করতে পারবে। বন্যা,কিংবা বৃষ্টির পানি হাওরে লেগে থাকলেও নতুন সংযোগের কারনে সহজে সেচ করে কুশিয়ারা নদীতে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

এদিকে রুপা আমন চাষাবাদ করতে কাউয়াদীঘি হাওর এলাকার কৃষকেরা জমি আবাদ করতে ব্যস্থ সময় পাড় করছেন। তবে হাওর এলাকার সিংহভাগ যায়গায় পানি এখনো লেগে থাকায় রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ,ফতেপুর, ও সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের কৃষকদের দুশ্চিন্তা এখনো কাটেনি।

ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য ও বেড়কুড়ি (মোল্লাবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা হাজি মোঃ ইসমাঈল আলী বলেন, “ মেঘে পানি বাড়ছে মিশিনে হিছের (সেচ করছে ) না। জমি পানিতে তল করিলিছে। দুই-চাইর দিনের মধ্যে হাইল (সাইল) ধানের চারা রূপন করমু। তিনি তার ভাষায় আরো বলেন, “এবার ১২ কিয়ার হাইল জমি ক্ষেত করমু”। “আরো ১০-১২ কিয়ার জমি পানির তলে আছে এখনো”। তারা ( পানি উন্নয়ন বোর্ড) হিচলে (সেচ করলে) ক্ষেত করমু”। তিনি আরো জানিয়েছেন,  ফতেপুর ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী শাহাপুর মৌজায় প্রায় ৫শ কিয়ার সাইল জমি এখনো পানির নীচে। এছাড়াও ইউনিয়নের গন্দিপুর,ভেড়িগাঁও,ছোয়াব আলী,মুনিয়ার পাড়,রামপুর,গালিমপুরসহ অনেক এলাকায় জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধানের চারা রূপন করতে পারছেনা কৃষকেরা।

পানি সেচ করে কুশিয়ারা নদীতে দ্রুত নিস্কাসন করা হলে এসব এলাকায় সাইল (রূপা আমন) ক্ষেত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।  বেড়কুড়ি (মোল্লাবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা ও মৌলভীবাজার জর্জ কোর্টের আইনজীবি এডভোকেট মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,  ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেড়কুড়ির পূর্ব ও দক্ষিণ এলাকায় এবার ১০ কিয়ার এর মত জমিতে আমন ধানের চারা রূপন করা যাবে ।

অবশিষ্ট ৫ থেকে ১০ একর জমি পানির নীচে তলিয়ে আছে এখনো।  এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার অন্যবারের চেয়ে কাউয়াদীঘি হাওরে পানি একটু কম। জলাবদ্ধতা তেমন একটা সমস্যা বলে মনে হচ্ছেনা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিধ কাজী লুৎফুর বারী সোমবার (৩০ জুলাই)বলেন, গত বারের চেয়ে এবার কাউয়াদীঘি হাওরে ৩ ফুট পানি কম দেখা যাচ্ছে। হাওরের উচু এলাকায় রোপা আমনের মধ্যে ৪৯, বিআর ২২ জাতের ধান রোপন করা হচ্ছে বেশী। জেলায় আমনের লক্ষ মাত্রা ৯৬ হাজার ২শ ৪৬ হেক্টর। এ পর্যন্ত চাষ করা হয়েছে ৪ হাজার ২শ ৭৫ হেক্টর জমি। কাউয়াদীঘি হাওরে আমন চাষের পরিমান ২শ ৯৩ হেক্টর জমি এবং জেলায় রূপা আমন চাষে জমির পরিমান ৯৬ হাজার ৪শ ৩৫ হেক্টর ।

এদিকে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নতুন ৮টি পাম্প মিশিন চালু হয়েছে। হাওরের পানি সেচ করতে ৫-৬টি মিশিন চালু থাকে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুর হান্নান বলেন, শুনেছি ধানের বীজতলায় পানি উঠেছে। তবে নতুন করে পাম্প মেশিন চালু হওয়াতে কৃষকেরা উপকার পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কাউয়াদীঘি হাওরে পানির পরিমান ৮.১ মিটার  ও কুশিয়ারা নদীতে ৮.২ মিটার। নদীতে পানির পরিমান বেশি থাকায় সেচ করে হাওর থেকে পানি নিস্কাসন করতে হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com