বিশ্ব পরিবেশ দিবসে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও সনাক শ্রীমঙ্গলের সহযোগিতায় র্যালী

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), শ্রীমঙ্গল এর সহযোগিতায় এবং উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে বায়ু দূষণ এই প্রতিপাদ্যকে নিয়ে এবং আসুন বায়ু দূষণ রোধ করি এই শ্লোগানকে সামনে রেখে র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০ জুন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা চত্বর থেকে শুরু করে চৌমুহনা পর্যন্ত প্রদক্ষিন করে আবার উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র্যালীতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল আলম।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন সনাক সহ সভাপতি দ্বীপেন্দ্র ভট্টাচার্য, সদস্য শাহ আরিফ আলী নাসিম, জহর তরফদার, কবিতা রানী দাস, রহিমা বেগম, স্বজন সদস্য তমাল কান্তি রায় ও টিআইবির এরিয়া ম্যানজোর পারভেজ কৈরী প্রমুখ। র্যালীতে ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের সদস্যবৃন্দ, এবং উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালরে শিক্ষাথ՜ীবৃন্দ বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আইডিয়া, এমসিডা এর প্রতিনিধিরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন অংশগ্রহন করনে।
সনাকের পক্ষ থেকে বলা হয় বৈশি^ক পরিম-লে পরিবেশ দূষণজনিত বহুমুূখী সঙ্কট একটি অন্যতম আলোচিত বিষয়। বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বিশে^র বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, যা বায়ু দূষণের জন্যও দায়ী, যার ব্যবহার হ্রাস করার মাধ্যমেও পরিবেশকে উন্নত করা যায়। জাতিসংঘের ইন্টার গভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, প্রাক শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বৈশি^ক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রীতে সীমাবদ্ধ করতে হলে কয়লাভিত্তিক সকল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ২০৫০ সালের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে । এ প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ মানুষের জন্য সবুজ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা এবং জীবজগৎ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় বিশ^ব্যাপী জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। তবে এ বছর ঐ সময়ে ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় বাংলাদেশ সরকার ২০ জুন তারিখে দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৯ এর মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘‘বায়ু দূষণ” এবং শ্লোগান হলো ‘‘আসুন বায়ু দূষণ রোধ করি”।
জাতিসংঘ ঘোষিত ‘‘টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা’’র অভীষ্ট ৩ এর লক্ষমাত্রা ৩.৯ এ বায়ু দূষণ রোধের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো এবং অভীষ্ট ১১ এর লক্ষ্যমাত্রা ১১.৬ এর মাধ্যমে বায়ুর গুণগত মান নিশ্চিত করে নগরসমূহে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনার গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। অভীষ্ট ১৫ নির্ধারণের মাধ্যমে বন উজাড় রোধ করার মাধ্যমে মরুকরণ রোধ করে পরিবেশ রক্ষার উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু পরিবর্তন রোধ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট লক্ষ্য-১৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, বিশে^র ১৯৭টি শিল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসি) কর্তৃক আয়োজিত কপ২১ সম্মেলনে বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তন রোধে প্যারিস চুক্তিতে সম্মত হয়, যার মাধ্যমে পৃথিবীর বায়ু দূষণ রোধসহ প্রকৃতি, পরিবেশ এবং বনভূমি রক্ষাসহ সব ধরনের পরিবেশ বান্ধব অভিযোজন কার্যক্রম ও জ্বালানি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হলেও বায়ু দূষণ ক্রমাগতভাবেই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঘোরতর ঝুঁকি হয়ে দাড়িয়েছে।



মন্তব্য করুন