শ্রীমঙ্গলে ভাঙ্গা সড়ক: জনদুর্ভোগ চরমে

October 17, 2019,

 

তোফায়েল পাপ্প্্ু॥ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সংস্কারাভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে সৃষ্ট খানাখন্দকে জনসাধারনের চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারন মানুষ।

দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ভেতরে মূল সড়কসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মালিকানায় পৌরসভার অংশই কম। ছোট্ট এই পৌরসভার সড়কের মালিকানার ভাগিদারে পৌরসভা ছাড়াও রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় (এলজিডি), সড়ক ও জনপদ (সওজ) এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে এই সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠেলাঠেলির প্রতিযোগীতায় সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়ে থাকে বছরের পর বছর। আর হলেও নি¤œ মান, দুর্ণীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সড়ক সংস্কার কাজ হওয়ায় কয়েক মাসের ব্যবধানে সড়কগুলো পুরনো রূপে ফিরে আসে। এতে সড়ক সংস্কার খাতে সরকারের গত পাঁচ বছরে প্রায় অর্ধ কোটিরও টাকা খরচ হলেও জন ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কেন্দ্রস্থল চৌমহনা ভেদ করে চলে যাওয়া ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক (হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার রোড) এর ৪ কিলোমিটার, শ্রীমঙ্গল-শমসেরনগর সড়কের বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা  সড়ক ও জনপদের মালিকানাধিন। আবার ষ্টেশন রোডের কিছু রাস্তার মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে আবার কলেজ রোডের জোড়াপুল থেকে বাডর্স স্কুল পর্যন্ত আরো এক কিলোমিটার অংশ সড়কের মালিকানা রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিডি)।

গত প্রায় ৫ বছর থেকে ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনপথ।

জানা গেছে, শহরের চৌমুহনা থেকে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত শমসের নগর রোডের এক কিলোমিটার রাস্তা গত পাঁচ বছরের মধ্যে দু’বার বিনা টেন্ডারে সংস্কার কাজের পেছনে প্রায় ২০ লাখ টাকার খরচ হয়। কিন্তু সড়ক সংস্কারে নি¤œমানের সামগ্রী ও অনিয়মের কারনে কয়েক মাসের ব্যবধানে পিচ উঠে রাস্তাটি আবারও বেহাল রুপে ফিরে যায়। সরকারের মন্ত্রী বা  ভিআইপি’র আগমনের খবর হলেই দেখা যায় সড়ক ও জনপদের লোকজন জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার কাজ করতে। এতে করে একদিকে সরকারের লাখ লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ থেকেই যাচ্ছে।

শহরের ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউপি কমপ্লেক্স থেকে চৌমহনা পর্যন্ত মৌলভীবাজার রোড ও চৌমহনা থেকে পল্লী বিদুৎ সমিতির সদর দপ্তর পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, সর্বশেষ এই দু’টি সড়কে মজবুতি করণ কাজ হয়েছিল ২০০২ সালে। এরপর দীর্ঘসময়ে ওই দু’টি সড়ক আর কোন সংস্কারের মুখ দেখেনি।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ কলেজ রোড বছরের পর বছর ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিদিন শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজ, দি বার্ডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ও গাউসিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রীসহ আবাসিক এলাকার লোকজন চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার যোগাযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। অভিযোগ করে কলেজ রোডের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ জানান, ‘কলেজ রোডের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গত দু’বছর থেকে বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে কারো যেন কোন মাথা ব্যাথাই নেই’। তিনি জনদুর্ভোগ লাগবে দ্রুত সময়ের ভিতরে কর্তৃপক্ষের নিকট জোড় দাবী জানান জোড়াতালি না দিয়ে টেকসই কাজ করার’। উপজেলা আবাসন সেবা সংস্থার সভাপতি আবু সিদ্দিক মুসা জানান, ‘শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিন শত শত পর্যটক বেড়াতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘ বছর থেকে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তির কারনে পর্যটকের আগমন হার হ্রাস পাচ্ছে এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকরা শ্রীমঙ্গল সম্পর্কে বিরুপ ধারণা নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশংকা করেন রাস্তা-ঘাট সংস্কার না হলে শ্রীমঙ্গলে গড়ে উঠা পর্যটন শিল্পে ধ্বস নামবে’।

কলেজ রোডের সংস্কার কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি সর্ম্পকে জানতে চাইলে ১৬ অক্টোবর উপজেলা প্রকৌশলী সঞ্জয় মোহন সরকার জানান, ‘এই রাস্তা সহ আরও কয়েকটি রাস্তা মেরামত কাজের প্রকল্প নিয়ে আমি সিলেটি আছি। আশা করি আজকের মিটিং এ অনুমোদন হয়ে যাবে’। এভাবে তিনি গত প্রায় দু’বছর থেকেই এই প্রতিবেদকে জানিয়ে আসছেন প্রকল্পে তুলেছি, অনুমোদন হলেই মেরামতের কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে ১৭ অক্টোবর অনুমোদন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এবার বলেন, ‘অনুমোদন হয়নি-কিছু বিলম্ব হতে পারে’।

সড়ক ও জনপদের সহকারী প্রকৌশলী লুৎফুর রহমান মিরাজ বলেন ‘চৌমহনা থেকে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত সড়ক সংস্কারে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকার একটি মাইনর কাজের দরপত্র আহবান করা হবে। এতে করে সাময়িক ভাবে সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে’। প্রকৌশলী লুৎফুর আরো জানান, ‘মৌলভীবাজার রোড থেকে হবিগঞ্জ রোডের মুছাই পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং প্রকল্পটি একনেকে লাইভে রয়েছে’। দ্রুত এই প্রকল্পটি পাশ হবে বলে তিনি আশা করে বলেন, এর পরপরই দরপত্র আহবান করা’ ।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শাহরিয়ার আলম যুগান্তরকে জানান, ‘শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনা থেকে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত নিচু সড়ক হওয়ায় পানি জমে পিচ উঠে যায়। ফলে মজবুত কাজ করতে আমরা আরসিসি ঢালাই এর একটি প্রকল্প মন্ত্রনালয়ে পাটিয়েছি। প্লানিং কমিশন থেকে একনেকে পাস হলেই টেন্ডার আহ্বান করে কাজ শুরু করতে পারব’। এই প্রত্রিুয়ায় আরও কত সময় লাগতে পারে এমন প্রশ্ন রাখা হলে, তিনি সঠিক সময় জানাতে পারেননি।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com