দেশসেরা শ্রীমঙ্গলের ‘বড়ছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’

তোফায়েল পাপ্পু॥ ‘দশে মিলে করি কাজ হারি জিতে নাহি লাজ’এ স্লোগানকে সামনে রেখে আত্ম কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টিতে গ্রামের কিছু দরিদ্র বেকার নারী পুরুষ দেখেছিল একটি স্বপ্ন।একটি সমবায় সমিতি গঠনের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ পথ পরিক্রমার পর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ লাভ করেছে।
মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল মির্জাপুর ইউনিয়নের শহরশ্রী বাজার ‘বড়ছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সেই সমিতি দেশসেরা ‘জাতীয় সমবায় পুরষ্কার ২০১৮’ লাভ করেছে।
২ নভেম্বর শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘দেশসেরা জাতীয় সমবায় পুরষ্কার ২০১৮’ পুরষ্কার প্রদান করেন। সমিতির বর্তমান সভাপতি মো. মছদ্দর আলী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘দেশসেরা জাতীয় সমবায় পুরষ্কার ২০১৮’ স্বর্ণ পদক ও সম্মাননা সনদ গ্রহন করেন বলে সমিতি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ১নং মির্জাপুর ইউনিয়নের এই সমিতির সাবেক সভাপতি মো. কুটি মিয়া ও সম্পাদক লুৎফুর রহমানের উদ্যোগে একদল উদ্যোমী নারী পুরুষ আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিগত ২০০২ সালে মাত্র ৪৮ জন সদস্য সমন্বয়ে ৯৬০ টাকা মুলধন নিয়ে এ সমবায় সমিতির যাত্রা শুরু করে। এর পর এতে নারী পুরুষ সদস্য ও মূলধন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর মাধ্যমে গ্রামের দরিদ্র ও বেকার সদস্যদের কল্যাণে নানা কর্মসূচি গ্রহন ও বাস্তবায়িত হতে থাকে। এসব কর্মসূচির মাঝে রয়েছে, চাষাবাদের জন্য সুষ্ট পানি ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র ও কৃষি ঋণ চালু করে ধান বীজ, পানের বরজ, সবজি উৎপাদন, মৎস ও পোল্ট্রি ফার্ম, গবাদি পশুর খামার, সেলাই মেশিন, সিএনজি অটো রিক্সা, স্বাস্থ্য সেবা, গৃহ নির্মাণ, বিবাহ, স্যানিটেশন, শিক্ষা উপকরন ক্রয়ে সহজ শর্তে ঋণ দান করছে। পাশাপাশি বনায়ন ও বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে অনুদান প্রদান করার কারনে সমিতিটি দেশসেরা হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে। বর্তমানে এই সমিতির সদস্য সংখ্যা ৮’শ ২৪ জন ও মূলধন ৭২ লাখ টাকা ছাঁড়িয়ে গেছে। সমিতির উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক গ্রামের ৬’শ ৭৫ হেক্টর উঁচু জমি ৩ ফসলি জমিতে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসতে স্লুইচ গেইট নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন করে। এর ফলে এসব কৃষি জমিতে চাষাবাদ সম্প্রসারণের সাথে সাথে জমির মূল্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে সমিতির বর্তমান সভাপতি মো. মছদ্দর আলী ও সম্পাদক সবুজ আলম জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে সমিতির মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণে স্থানীয়ভাবে বাজার স্থাপন, নিজস্ব ভবন নির্মাণ, সদস্যদের শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনা, গবাদি পশু, মৎস্য খামার ও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন, বৃক্ষ রোপন, কীটনাশক মুক্ত সবজি ও ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এতে করে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এসব কর্মসূচী বাস্তবায়িত হলে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এসব কর্মতৎপরতার জন্য বহুমূখী সমবায় শ্রেণীতে ৬৭৪/১৯ নং নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানকে সম্প্রতি সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক ‘জাতীয় সমবায় পুরষ্কার ২০১৮’ এর জন্য দেশসেরা সমিতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। এছাড়া এর পূর্বে এই সমিতি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি হিসাবে পুরষ্কার লাভ করে।
এদিকে পাবসস দেশ শেরা স্বর্ণ পদক অর্জন করায় সমিতির সদস্যসহ এলাকার সবার মাঝে আনন্দ- উদ্দিপনা বিরাজ করছে।



মন্তব্য করুন