সুজনের পাশে দাঁড়ালেন মৌলভীবাজারের মেয়র

স্টাফ রিপোর্টার॥ টাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না চা শ্রমিক সন্তান” -এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয় বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর। এই সংবাদ দেখে চা শ্রমিকের মেধাবী সন্তান সুজন রবিদাসের সাহায্যে অনেকেই এগিয়ে আসছেন।
সুজনের সংবাদ পড়ে মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র ফজলুর রহমান। তিনি সুজনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। শুক্রবার ২২ নভেম্বর সুজনকে পৌরসভা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১৬ হাজার টাকা দেন মেয়র। এ সময় তিনি তাকে কিছু কাপড় উপহার দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আই নিউজের সম্পাদক ও বিটিভির জেলা প্রতিনিধি হাসানাত কামাল এবং কালিঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা।
ভর্তির টাকা পেয়ে সুজন বলেন, আমি খুশি এবং আনন্দিত যে আমি লেখা পড়া চালিয়ে যেতে পারব। এই সংবাদ প্রকাশের পর আরো অনেকেই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন। সুজন মেয়র ফজলুর রহমান, আই নিউজ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের একটা মেধাবী সন্তান টাকার জন্য লেখাপড়া করতে পারবেনা, এটা হতে পারেনা। বৃহস্পতিবার রাতে আই নিউজে সংবাদ দেখেই আমি যোগাযোগ করি। সে যেন ভর্তি হতে পারে সেজন্য ভর্তির টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। পিছিয়ে পড়া সমাজের মানুষকে এগিয়ে নিতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
সুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র , শত অভাবের মধ্য ১২ বছরের লেখাপড়া জীবনে হার মানেননি, লেখাপড়া থেকে মনোযোগ সরেনি। পাড়া, প্রতিবেশীদের সাহায্যে এতদিন লেখাপড়ার খরচ চালালেও, থেমে যাচ্ছিল মেধাবী ছাত্র সুজন রবিদাসের লেখা পড়া।
ভর্তির টাকার অভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। সময়ে চলে যাবার পরে এখন শেষ আশা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু ভর্তি ফি’র ১৬ হাজার টাকা এখনো সংগ্রহ না করতে পেরে অনিশ্চিত হয়ে পরে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। ১ ডিসেম্বর ভর্তির শেষ দিন ।
এই অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়ে সুজন বলেন, এত এত মানুষ লেখাপড়া করছে। সরকারসহ ভিত্তশালীরা কত জনকে সাহায্য করছে। কিন্তু কয়েক হাজার টাকার জন্য কি থেমে যাবে আমার শিক্ষা জীবন! এত কষ্ট করে এই পর্যন্ত এসেছি। বাবা-মার মুখে একটু হাসি দেখার জন্য। পরিবারকে সচ্ছল করার জন্য।
সুজন রবিদাস মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউরা চা বাগানের চা শ্রমিক নারায়ণ রবিদাসের ছেলে।
সুজনের বাবা নারায়ণ রবিদাস বলেন, আমার পক্ষে তার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয় । আমি চা বাগানে কাজ করে দৈনিক ১০২ টাকা আয় করি। আমার স্ত্রী, বড় ছেলে এবং আমার আয় মিলে মাসে ৫ হাজার টাকা রোজগার হয়। তার ওপরেই চলে ৬ জনের সংসার।
সুজনকে নোয়াখালী নিয়ে যাওয়া আসা এবং বইপত্র ও ভর্তির টাকাসহ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরকার । এবং ভর্তির পর তার থাকা খাওয়া বাবদ প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা লাগবে। আমার ইচ্ছে থাকলেও আমি পারছিনা। সরকার বা কোন বিত্তবান এগিয়ে আসলে তবেই সম্ভব সুজনের লেখাপড়া নিয়মিত হবে।
তিনি বলেন, আমাদের ঘরে অনেক দিন খাবার থাকেনা, প্রায়ই অর্ধেক খাবার সবাই মিলে খাই। কিন্তু আমার ছেলে এত কিছুর মধ্যেও লেখাপড়া থেকে তার মনোযোগ নষ্ট করেনি ।
আমার বড় ছেলেও টাকার জন্য লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেনি। অষ্টম শ্রেণীতে ওঠেই তার থামতে হয়।
খুঁজ নিয়ে জানা যায়, অদম্য মেধাবী সুজন খেয়ে না খেয়ে অভাবের সংসারের মানুষের সাহায্য নিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং এইচ এস সিতে জিপিএ-৪.৫৮ পেয়েছেন।
সুজনের লেখাপড়ায় বিভিন্ন সময় সাহায্য করে এসেছেন স্থানীয় কালিঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা। তিনি বলেন, সে খুবই মেধাবী। যদি কিছু অর্থনৈতিক সমর্থন পায়, সে জীবনে ভাল কিছু করতে পারবে। সুজনে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে মানুষের সেবা করতে চান।



মন্তব্য করুন