শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাঁধায় বিএনপির সম্মেলন পন্ড

January 26, 2021,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ পুলিশের বাধায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির দ্বি বার্ষিক সম্মেলন পন্ড হয়েছে। ২৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় শহরের অদূরে সিন্দুরখান সড়কের পাশে এই সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। এ উপলক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এম নাসের রহমান সম্মেলনে প্রধান অতিথি এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজি মুজিব), জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফয়জুল করিম ময়ুন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বিশেষ অতিথি থাকার কথা ছিল।

কিন্তু পুলিশ বলছে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে জন সমাগম এড়াতে ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি না থাকায় সম্মেলনে বাধা দেয়া হয়।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, গত ২৪ জানুয়ারী এ সম্মেলন উপলক্ষে অনুমতি প্রদানের জন্য দলীয় প্যাডে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি আবেদন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয় ২৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গল শহর বা শহরতলীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার দ্বি বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। এতে জেলা শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে অবগত করে জেলা পরিষদের অডিটরিয়াম বরাদ্দ নিয়েছিলাম। অথচ দুইদিন অতিবাহিত হলেও হলের চাবি আমাদের দেয়া হয়নি। পরে জেলা সভাপতির সাথে কথা বলে শহরতলীতে সম্মেলনের স্থান নির্ধারণ করি। ২৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা নেতৃবৃন্দের সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা ছিল। সকাল ১০টার দিকে একদল পুলিশ সম্মেলন স্থল ঘিরে ফেলে এবং সম্মেলন অনুষ্ঠানে বাধা দেয় এবং সভাস্থলের মাইক বন্ধ করে দেয়। এসময় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে পুলিশ সম্মেলনে ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে। এসময় সম্মেলনে উপস্থিত মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজি মুজিব) বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিতি ছিল, কিন্তু পুলিশ সম্মেলনের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে ভীতির সৃষ্টি করে। যাতে জেলার নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে যোগ দিতে না পারেন সে জন্য রাত থেকেই সম্মেলন বানচাল কারার জন্য নেতাকর্মীদের ফোনে হুমকি দেয়া হয়। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওসি সাহেবসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সম্মেলনস্থলে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হয়। আমি তাদের অনুরোধ করে কয়েক মিনিটের জন্য সময় নিয়েনেতাকর্মীদের উদেশ্যে বক্তব্য দেই-এবং নেতা কর্মীদের বলি জেলা সভাপতি এম নাসের রহমান পরবর্তিতে কমিটি ঘোষনা করবেন। হাজি মুজিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণতন্ত্র তো এ দেশে না-ই। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের গণতন্ত্রের কোন পরিবেশ নেই। আওয়ামীলীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে বিএনপিকে তারা অনেক ভয় পায়, যে কারণে তারা পুলিশকে ব্যবহার করে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সম্মেলনে বাধা দিচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে না যাবার জন্য শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুময়ান কবির আমাকে ফোন করে বলেন, শ্রীমঙ্গলে বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠান করা যাবে না। উপরের নিষেধ রয়েছে। বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, শুধু আমকে নয়, শ্রীমঙ্গল থানা থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দকে অনুরূপ ফোন করে সম্মেলন করতে নিষেধ দেন। তিনি বলেন, দেশের কোথাও আজ আইনের শাসন নেই। গোটা দেশ আজ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্র আজ বিপন্ন।

তবে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ন কবির বলেছেন, করোনা ভাইসার পরিস্থিতির কারণে সভা সমাবেশের উপর জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যে কারনে বিএনপির এই সম্মেলন না করতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এম নাসের রহমান বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি আগে থেকেই শ্রীমঙ্গল থানাকে অবহিত করা হয়। কোন কমিউনিটি সেন্টার বা কারো ব্যক্তিগত জমিতে ঘরোয়া পরিবেশে সম্মেলন করার বিষয়ে পুলিশের কোন অনুমতি লাগে বলে কারো জানা নেই। কোভিড-১৯ এর অজুহাতে প্রশাসন আমাদের সম্মেলন যেভাবে বানচাল করে দেয়া হলো তাতে আমার প্রশ্ন-সারাদেশে পৌর নির্বাচন চলছে। এনিয়ে ক্ষমতাসীন দল মিটিং মিছিল সমাবেশ করে মানুষের সমাগম  করে বেড়াচ্ছে, অথচ সেখানে করোনার অজুহাত দেখানো হয় না। কেবলমাত্র বিএনপির ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসের অজুহাত দেখানো হচ্ছে। তিনি ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠানে পুলিশি বাঁধা আবারো প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুছ ছালেক বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা ও সংক্রমণ রোধ আইন ২০২০ অনুযায়ী সব ধরনের জন সমাগম ও মিছিল মিটিং করা যাবে না। তিনি বলেন সম্মেলন এর আয়োজকরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কোন অনুমতি নেননি। সে কারণে লোক সমাগম এড়ানোর জন্য এসিল্যান্ড এর নেতৃত্বে পুলিশ  তাদেরকে সম্মেলন না করতে নিষেধ করে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com