মৌলভীবাজার সদরের নয় ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পরাজয়ের আশঙ্কা!

তমাল ফেরদৌস॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হতে পারে- এমন আশঙ্কা ভোটার, রাজনীতিবিদ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের।
অপরদিকে-একটিতে নিশ্চিত বিজয়, একটিতে পঞ্চাশ শতাংশ এবং একটিতে ৭০ শতাংশ জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।
অযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া, একই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীসহ একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণ, মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীদের একে অপরের প্রতি দোষারোপ, স্থানীয়ভাবে দলীয় মেরুকরণসহ বিভিন্ন কারণে এই ফলাফল হওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে।
রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতীক পাওয়ার পর এপর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় প্রার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণও এই সংকট কাটাতে পারেনি। বরং দিন যতো গড়িয়েছে প্রার্থীদের অবস্থান তত নীচে নেমে গেছে। কারণ হিসেবে বলা যায়, জেলা নের্তৃবৃন্দ যখন যার পক্ষে প্রচারণায় গিয়েছেন তখনই ওই প্রার্থী নিজের ব্যক্তিগত প্রচারণায় পিছিয়ে গেছেন। তিনি অনেকটা নেতা নির্ভর প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে মাঠ পর্যায়ে কর্মী বাহিনীর কাজে ভোটারদের সন্তুষ্টি নিয়ে শংকা তৈরী হয়েছে। ভোটাররা যাকে ভোট দেবে তিনিই বেশিরভাগ সময় মাঠ পর্যায়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে দল আওয়ামী বিদ্রোহীদের বহিষ্কারের সুপারিশ করলেও মাঠ পর্যায়ে মানুষজন বিদ্রোহীদেরও আওয়ামী লীগ নেতা মনে করে। এছাড়া দলীয় প্রার্থী ভোটারদের কাছে যেসব আশ্বাস নিয়ে ভোট চাচ্ছেন সেভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীও একই আশ্বাসে ভোট চাচ্ছেন। ফলে আওয়ামী ঘরানার ভোট ভাগাভাগি হচ্ছে। পক্ষান্তরে অন্য প্রার্থীরা সেই সুবিধা নিচ্ছে।
এছাড়া ১২টি ইউনিয়নেই জেলা নের্তৃবৃন্দের পছন্দের প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটার রয়েছেন। এর মধ্েয কেউ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আবার কেউ পান নাই। এই প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন পান আর নাই পান তিনি কিন্তু নেতার পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। সঙ্গত কারণেই নেতা উনার পক্ষে থাকবেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। এই হিসেবে অনেক নেতাই দলের প্রার্থী বা বিদ্রোহী প্রার্থী যেই হোক তাঁর পক্ষেই কাজ করেছেন। কারণ অতীতে দেখা গেছে বহিষ্কার হলেও ওই ব্যক্তি পরবর্তীতে দলীয় পদ না পেলেও নেতার কাছ থেকে সব ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই হিসেবে অনেক দলীয় প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে পিছিয়ে পড়েছেন।
এছাড়াও আরেকটি কারণ রয়েছে সেটা হলো-দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর অনেক প্রার্থীই মনে করেছেন যে, দল তাঁকে মূল্যায়ন করেছে। তিনি নিজেও জানেন মনোনয়ন পেলেও মাঠে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর সাথে ভোটের মাঠে তিনি পেরে উঠবেন না। ফলে তাঁর প্রচারণায়ও ছিল ঢিলেঢালা ভাব। এই প্রেক্ষাপটে অনেক প্রার্থীই ভোটের মাঠে পিছিয়ে রয়েছেন। এটি পরাজয়ের একটি বড় কারণ।
তবে নির্বাচনী প্রচারণায় জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ, জেলা ছাত্রলীগ, জেলা কৃষক লীগ, জেলা শ্রমিক লীগসহ সংগঠনগুলোর প্রতিদিনের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। প্রার্থীদের সক্ষমতার অভাব, ইমেজ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে জয়লাভ করতে না পারলে এখানে অভিভাবক সংগঠন দায়ী নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে সদরের একাটুনা, চাঁদনীঘাট ও খলিলপুর এই তিন ইউনিয়ন নিয়ে সব পর্যায়ের মানুষের মধ্েয ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
খলিলপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী অলিউর রহমান। শুরুতে তাঁর পক্ষে সুর উঠলেও এখন কিছুটা ভাটা পড়ছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিএনপি প্রার্থী স্বতন্ত্র আবু মিয়ার পক্ষে কথা শোনা যাচ্ছে। এই ইউনিয়নে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ভোট যেকোন প্রার্থীর বিজয়ের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর বলে জানা গেছে। মৎস্যজীবীরা এখন দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে শেষমেষ নৌকার প্রার্থীর পক্ষেই জনগণ রায় দেবে বলে ভোটাররা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
চাঁদনীঘাট ইউনিয়নে এবার ত্রিমূখী লড়াই হবে এই ধারণা করা হচ্ছে। এটি সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নেছার আহমদের ইউনিয়ন। শুরুতে দলীয় প্রার্থী আখতার উদ্দিনের পক্ষে ব্যাপক সুর উঠলেও এখন কিছুটা ধীর হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আখতার উদ্দিন, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আছলম মিয়া ও বিএনপি প্রার্থী সাদিক আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন। তবে এপর্যন্ত এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ এর কেউ জয়লাভ করতে পারেনি। আগামী ২৬ ডিসেম্বর হয়তো নতুন কোন ইতিহাস রচনা হতে পারে। তবে প্রচার প্রচারণায় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।
একাটুনা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ানের বিজয় অনেকটা সুনিশ্চিত বলে ভাবা হচ্ছে। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা, ব্যাপক জনপ্রিয়তা, দল মত সবার সাথে প্রার্থী আবু সুফিয়ানের সুসম্পর্ক ভোটের মাঠে তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



মন্তব্য করুন