হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) মেলায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে মাটির তৈজসপত্র

সাইফুল্লাহ হাসান॥ এক সময় গ্রামবাংলায় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা ব্যাপক ছিল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তবে শখের বশে মানুষজন এসবের ব্যাবহার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারছে না।
মৌলভীবাজার অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শাহ মোস্তফা মেলায় এই মাঠির তৈজসপত্রের কদর লক্ষ করা গেছে।
উপমহাদেশের অন্যতম সাধক হযরত সৈয়দ শাহ জালাল (রঃ) এর অন্যতম সহচর হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা শের-ই সরওয়ার চাবুকমার (রঃ) এর এক দিনব্যাপী ৬৮১ তম ওরস মোবারক ১৫ জানুয়ারি রাতে এশার নামাজের পর মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। প্রতি বছরই ওরস উপলক্ষে দরগাহ প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকা জুড়ে দুই তিনদিন পূর্ব থেকেই মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
এই বছর করোনা নতুন ধরন অমিক্রনের কারনে ওরস ও মেলা ১ দিন করা হয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে শহরের শাহ মোস্তফা সড়কসহ আশপাশের প্রায় বেশ কিছু এলাকা জুড়ে দোকানপাট বসে। বিরাজ করে এক উৎসবের আমেজ। মেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপাশি শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা, আসবাবপত্র ও হরেক রকমের খাবারের দোকান বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেলায় নানা সামগ্রী নিয়ে আসেন দোকানিরা।
তবে এবার মেলায় ঘুরতে আসা সব বয়সের মানুষকে হারিয়ে যাওয়া সেই মাটির জিনিসপত্রের দোকানে ভিড় করতে দেখা গেছে। মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্রের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির পানি পানের জগ-মগ, চায়ের কাপ, বিভিন্ন রকমের বাটি ও মাটির বল। আরও রয়েছে ফুলদানি, হাড়ি, সরা ও কলসিসহ হরেক রকমের ব্যবহারিক জিনিসপত্র।
এছাড়াও ছোট্ট শিশুদের মাটির তৈরি খেলনা সামগ্রী এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পশু, পাখি, বাঘ, হাতি, ঘোড়া, ভাল্লুক, বানর রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ মাটির তৈরি পুতুল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে সম্পূর্ণ মাটির তৈরি ডিনার সেট।
সরেজমিন দেখা যায় মেলায় আসা লোকজন অন্যান্য সামগ্রী কেনার পাশাপাশি মাটির তৈরি কোনো একটি পণ্য কিনছেন।
কথা মেলায় আসা আব্দুল্লাহ আল মনতাছিরের সাথে। তিনি বলেন, প্রতিবছর এরকম মেলায় আমাদের অনেক ভালো লাগে। বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ঘুরতে আসি। মেলায় এসে নাগরদোলা চড়লাম, অনেক কিছু খেলাম। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে আকর্ষণীয় মাটির তৈরি জিনিসগুলো। দুইশত টাকা দিয়ে একটি মাটির পানি রাখার জগ কিনলাম। জগটি অনেক সুন্দর করে নকশা দিয়ে তৈরি করা।
মাটির তৈজসপত্র দোকানের সামনে কথা হয় পরিবার নিয়ে আসা শিক্ষক আবদুল আহাদের সাথে। তিনি তার বাসার জন্য ছোট্ট একটি কলসি কিনেছেন। তিনি বলেন, আগেকার সময় দেখতান মাটির কলস গ্রাম অঞ্চলে বেশ চাহিদা ছিল। কিন্তু এই মাটির পাত্রের ব্যবহার বর্তমানে একেবারে নেই বললেই চলে, শহরাঞ্চলে তো দেখাই যায় না। মাটির পাত্রের উপকারীতাও রয়েছে।
মাটির তৈজসপত্র ব্যবসায়ী নন্টু জানান, এইবার মেলা স্বল্প সময়ের সেজন্য মানুষ আগের চেয়ে কিছু কম। মাটির জিনিসপত্র পত্র নিয়ে প্রতি বছরই মেলায় আসি। অনেক ধরনের মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করলাম। বিশেষ করে ফুলদানি, মগ, প্লেট বেশি বিক্রি হয়েছে। আর বাচ্চাদের জন্য তৈরি বিভিন্ন ধরনের পশু, পাখি বেশি চলছে।
তিনি বলেন, তৈজসপত্র গুলে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে আমরা নিয়ে আসি। ক্রেতার কাছ থেকে খুব বেশি লাভ করি না। সামান্য লাভ হলেই বিক্রি করে দিচ্ছি।




মন্তব্য করুন