ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির প্রতিবাদে এনডিএফ’র বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার॥ আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে বিশ্বব্যাপী প্রভাব বলয় বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ, বাজার দখল ও পুনর্বন্টন প্রশ্নে ইউক্রেনে রুশ সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর পূর্ব-ইউরোপমূখী সম্প্রসারণের কারণে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধউন্মাদনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবানে এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটি উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের কোর্টরোডস্থ কার্যালয় হতে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়। ১ মার্চ মঙ্গলবার মিছিল পরবর্তীতে সন্ধ্যায় জেলা এনডিএফ’র নেতা মোঃ সোহেল মিয়ার সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন এনডিএফ জেলা সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, জেলা এনডিএফ’র সদস্য মোঃ কিসমত মিয়া, হোটেল শ্রমিকনেতা মোঃ শাহিন, সিরাজুল ইসলাম ও সোহেল আহমেদ সুবেল।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন সমগ্র পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা এক গভীর ও সামগ্রিক সংকট, দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, আঞ্চলিক ও স্থানিক যুদ্ধের প্রক্রিয়ায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। বিশ্ব বাজার বন্টন পুনর্বন্টন নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো যে যুদ্ধ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে ধারাবাহিক তৎপরতা চালাচ্ছে তারই অংশ হচ্ছে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন। এই আগ্রাসনের লক্ষ্য হচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্ব গঠিত সামরিক জোট ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ নীতি মোকাবেলা করে স্বীয় লক্ষ্য হাসিল করা। অন্যদিকে তাইওয়ান স্বাধীনতার ইস্যু নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও বৃহত সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্যে অগ্রসরমান পুঁজিবাদী চীনের মুখোমুখি অবস্থান ও তাইওয়ান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে তাকে চীনের রেড লাইন ঘোষণা বিশ্ব পরিস্থিতিকে উত্তেজনাকর করে তুলেছে। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে বিশ্বযুদ্ধের সম্ভবনা মূর্ত হয়ে উঠেছে। সাম্রাজ্যবাদীরা জোরদার করছে সর্বাত্মক যুদ্ধ প্রস্তুতিকে। তাদের এই যুদ্ধ প্রস্তুতি থেকে আমাদের দেশও মুক্ত নয়। ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশকে নিয়েও আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব সুতীব্র। বক্তারা বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ উন্মদনার বিরুদ্ধেবিশ্ব শ্রমিকশ্রেণি ও জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
প্রতিবাদ বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন চাল-ডাল, তেল-লবন-চিনি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ, শাক-সবজিসহ দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে সরকারের মন্ত্রীরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে সাফাই গাইছেন ‘দেশের জনগণ নাকি ঘুমের মধ্যে বড়লোক হয়ে যাচ্ছে’ ‘মানুষ বেশি খাচ্ছে বলে চালের দাম বাড়ছে’ ‘মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে বলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে’ ইত্যাদি। সরকারে পশ্রয়ে সোয়াবিন তেলের রেকর্ড মূল্য বৃদ্ধির সময়ে ১৫ দিনের মাথায় ব্যবসায়ীরা আবারও ১২ টাকা বৃদ্ধি করে প্রতি লিটার ১৮০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। সরকার ডিজেল, কেরোসিন, সিলিন্ডার গ্যাস, গাড়িভাড়া বৃদ্ধির পর এখন গৃহস্থালীতে ব্যবহার্যসহ সকল ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য দ্বিগুণ বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে যা আগামী ২১-২৪ মার্চ গণশুনানির নামে নাটক করে চুড়ান্ত করতে চলেছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিরও পাঁয়তারা চলছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলের মূল্য ও নিত্যপণ্যের অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধি করে শ্রমিক, শ্রমজীবী, স্বল্প আয়ের মানুষ ও ব্যাপক জনগণের জীবন ও জীবিকাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আয় বাড়েনি। করোনাকালে যখন নতুন করে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে চলে গেছেন তখন সরকার জনগণের জীবন ও জীবিকাকে উপেক্ষা গ্যাস-বিদ্যুত-জ্বালানিসহ সকল ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার করতে চাচ্ছে। বক্তারা সরকারের ভর্তুকি প্রত্যাহারের নীতির সমালোচনা করে বলেন ভর্তুকি প্রত্যাহার নয়, বরং খেলাপি ঋণ আদায়, বিদেশে পাচার কৃত অর্থ ফিতর এনে এবং ভ্যাটের আওতা কমিয়ে উচ্চ বিত্তের উপর প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি করে ভর্তুকির পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে, জনগণের জন্য স্বল্প মূল্যে সর্বাত্মক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।



মন্তব্য করুন