নিয়োগ পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর, কুলাউড়ায় প্রবেশ পত্র এলো ৫ ডিসেম্বর!

কুলাউড়া অফিস॥ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের নিম্ন মানের সেবায় নিয়োগ পরীক্ষার ৩ দিন পর প্রার্থী নিয়োগ প্ররীক্ষায় অংশ গ্রহনের প্রবেশ পত্র পেল। নিয়োগ পরীক্ষা ছিল ২ ডিসেম্বর ঢাকার শেরে বাংলা নগর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। আর প্রার্থীর কাছে ডাক যোগে প্রবেশ পত্র এসে পৌছেছে ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকালে। এ ঘটনাটি ঘটে কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের পালকীছড়া চা বাগানের শ্রমিক সন্তান রাম বচন কৈরীর বেলায়। রাম বচন কৈরী দরিদ্র একটি চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান। অনেক কষ্ট করে প্রাইভেট পড়িয়ে সে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীনে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ থেকে ২০১৬ শিক্ষা বর্ষে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এম এ পাশ করে। সে পালকীছড়া চা বাগানের প্রথম এম পাশ ছাত্র। নিজেরও পরিবারের দৈন্যদশা থেকে উঠে আসতে সংবাদ পত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন দেখে গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) অধীনে উচ্চমান সহকারী পদে আবেদন করেছিল। এ পদের নিয়োগ পরীক্ষা ছিল ২ ডিসেম্বর ঢাকার আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ১১টায়। পরিচালক (উপ-সচিব) স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এ কে এম আমিনুল ইসলাম-এর গত ১০ নভেম্বর স্বাক্ষরিত স্মারক নং স্বাপকম/এইচইডি/প্রশা:/কর্মচারী নিয়োগ ৩০৬/২০১৬/৩৯৬২ মূলে নিয়োগ পরীক্ষার একটি প্রবেশপত্র প্রেরণ করা হয় সরকারী ডাক বিভাগের মাধ্যমে। প্রেরিত প্রবেশ পত্রটি দীর্ঘ ২৪ দিনে ৫ ডিসেম্বর এসে পৌছে শমশেরনগর উপ-ডাকঘরে। শমশেরনগর উপ-ডাকঘর থেকে যথারীতি এদিনই প্রাপক রাম বচন কৈরীর কাছে পৌছে দেওয়া হয়। প্রার্থী রাম বচন কৈরী খামটি খুলে হতবাক হয়ে যান নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ দেখে। তিন দিন আগেই যথারীতি নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে গেছে। প্রার্থী রাম বচন কৈরী নিয়োগ পত্রের কপি দেখিয়ে ৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, বড় আশা ছিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করলে হয়তো উত্তীর্ণ হতে পারতাম। নিয়োগ পরীক্ষার তিন দিন পর প্রবেশ পত্র আসার দায় কে নিবে বলেও রাম বচন কৈরী প্রশ্ন করেন। শমশেরনগর উপ-ডাক ঘরের সহকারী মাস্টার (অপারেটর) কৃষ্ণা রানী চন্দ ৫ ডিসেম্বর ডাকটি গ্রহন করে সেদিনই প্রাপকের কাছে পৌছে দিয়েছেন বলে জানান। নিয়োগ পরীক্ষার তিন দিন পর ডাক পৌছায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কেন বিলম্ব হলো তা তিনি জানেন না।



মন্তব্য করুন