২০০১ সালের পর দেশে আর অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই হয়নি-এম নাসের রহমান

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসার সুযোগ নেই। গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগ আর তাদের নেত্রী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রতি যে অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার করেছে তা এদেশের মানুষ ভুলবেনা। আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবার জনগণের রাজত্ব ফিরে আসবে। যে যতই চেষ্টা করুক। আমজনতা পার্টি, জনতার পার্টি, অমুক পার্টি, তমুক পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বিভিন্ন ধরনের পার্টি বের হচ্ছে। এদের কোন বেইজ নেই। দুইটা ভোটও পাবে কিনা সন্দেহ আছে।
তিনি বলেন, বিগত ১৮ বছর বিএনপির প্রতি যে অন্যায় হয়েছে আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করে পরিসমাপ্তি হবে। প্রতিপক্ষ থাকুক বা না থাকুক আমরা বিএনপির সমর্থকরা জনগণের কাছে বিএনপির ৩১ দফা নিয়ে ঘরে ঘরে যেতে হবে। মানুষকে বুঝাতে হবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের কল্যাণে জনগণের কল্যাণে কী কী কাজ করবে। দলের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। যে কোন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। জনগণের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়াতে হবে। সুখ দুঃখের খোঁজ রাখতে হবে তাহলেই বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত হবে।
নাসের বলেন, দেশে নির্বাচন যদি গুনতে হয় তাহলে গুনতে হবে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচন। এর পরে আর দেশে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই হয়নি। ২০০৮ সালে একটা নির্বাচন হয়েছিল যারা ধান ছড়ায় ভোট দিয়েছেন এটাকে কিন্তু নৌকার ভোট হিসেবে গণনা করা হয়েছিল। ভোট গ্রহণ শেষে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এসে সেন্টারের দরজা বন্ধ করে ধান ছড়ার ব্যালট পেপার নৌকার ভোটের সাথে গুনে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছিল।
যেখানে নৌকায় পেয়েছিল ২০০ ভোট আর ধান ছড়ায় পেয়েছিল এক হাজার ভোট সেখানে ৫০০ ভোট ধানছড়ার নৌকার ওপর রেখে বান্ডিল বেধে ঘোষনা দিয়েছে ৭০০ ভোট নৌকায় লিখো আর পাঁচশ ভোট লিখো ধান ছড়ায়। এভাবে হয়েছিল ২০০৮ সালের নির্বাচন। এর পর থেকে দেশে যতো নির্বাচন হয়েছে সবই জাল জালিয়াতির তুমি, আমি, আর ডামি ভাগবাটোয়ার তামাশার নির্বাচন। দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে মার খেতে হয়েছে। ভোট সেন্টারে মানুষ যায়নি। এইগুলোর এখন আর সুযোগ নেই।
শুক্রবার ২৫ এপ্রিল বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাউরবাগ রমিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন।
মনুমুখ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মাওলানা আব্দুল হেকিমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মুকিত, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ বদরুল আলম, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, বকসী মিছবাউর রহমান, মুজিবুর রহমান মজনু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়াছ আহমেদ, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মারুফ আহমেদ।
এতে আরো বক্তব্য দেন মনুমুখ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোস্তফা মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান প্রমূখ।
দীর্ঘ দিন পর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন কে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দেয় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা । সম্মেলনে প্রার্থীরা দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বিলবোর্ড দর্শনীয় স্থানগুলোতে ছেয়ে যায়। ইউনিয়ন সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মো.মোস্তফা মিয়া নির্বাচিত হন। সাধারণ পদে আব্দুর রহমান ২২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রার্থী সিরাজ মিয়া ২১৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। মোট ভোটার ছিল ৪৫৯ টি। ভোট কাস্ট হয় ৪৪১ টি। বাতিল ভোট ১টি। দুটি বুথে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো.ফখরুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান মজনু। পোলিং এর দায়িত্ব পালন করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান, কাজল মাহমুদ,শেরওয়ান আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা জগলু আহমেদ ও খালেদ চৌধুরী ।



মন্তব্য করুন