ফের জঙ্গী আস্তানা গড়ার পায়তারা, মৃত্যুর হুমকিতে প্রতিবাদকারীরা

October 14, 2025,

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ জঙ্গি নেতারা ছিলো জেলে। ছাত্র ও জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকার পতনের সময় বিক্ষুব্দ ছাত্র-জনতা দেশ জুড়ে বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি ভবন, অফিস, আদালত,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ স্টেশন, বাসাবাড়িতেও হামলা ও ভাংচুর চালায়। এই সময় ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছাত্র জনতার ছদ্মবেশে নরসিংদী জেলা কারাগারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও স্বশস্ত্র হামলা চালিয়ে সেখান থেকে শীর্ষ দুধর্ষ ৯জন জঙ্গি নেতাসহ ৮২৬ জন কয়েদি অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে জঙ্গি গোষ্ঠী। এছাড়াও দেশের অন্যান্য কারাগার থেকে জঙ্গিরা পলায়নের পর তারা আগের মতো হতে শক্তি সঞ্চয় করছে। তারা আগের মতো প্রতিটি আস্তানায় ঘাটি গড়তে চাচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামে তাদের একটি ঘাটি গড়ার প্রত্যয় ছিলো। ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী জেএমবি’র প্রধান সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ও হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ একাধিক শীর্ষ নেতা এই আস্তানায় এসেছিলেন। এই গ্রামে ফাঁসি কার্যক্রর হওয়া তাদের সক্রিয় সহযোগী শীর্ষ জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের বাড়িতে জঙ্গিদের আস্তানা ছিলো। এলাকার কিছু সচেতন মানুষ ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের এমন উগ্র কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। ওই এলাকার মানুষের প্রতিবাদের কারণে তখন রিপন শত চেষ্টা করেও জেএমবি জঙ্গিদের আস্থানা সফল ভাবে গড়ে তুলতে পারেনি।

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জঙ্গি রিপন  ২০০৬ সালে ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয়। এর পর ধারাবাহিক গণমাধ্যমে রিপনসহ অন্যান্য শীর্ষ জঙ্গিদের ছবিসহ সংবাদ ছাপা হলে এলাকার মানুষজন প্রতিবাদী হয়ে উঠে। স্থানীয়দের এই আন্দোলন চলমান থাকে। এনিয়ে জেএমবিসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকার প্রতিবাদীদের উপর চরম ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। কারাগারে থাকা জঙ্গি রিপনের পরামর্শে বাহিরে থাকা অন্যান্য জঙ্গিরা প্রতিবাদকারীদের প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর কারাবাস করার পর মৃত্যু কার্যকর হয়ার আগেই জঙ্গি রিপনের ইচ্ছে পূরনে ওই এলাকার প্রতিবাদকারী পাশ্ববর্তী গ্রামের সাব্বির আহমেদ সাকিব (৩০) নামের একজনকে ১৭ আগষ্ট ২০১৬ সালে ধরে নিয়ে জামায়াতুল মোজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের জঙ্গিরা তাকে গুম করে। যা আজ পযর্ন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তার গুম হওয়ার পর প্রতিবাদীদের মধ্যে ভয় কাজ করলেও জঙ্গিদের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থামেনি। রিপনের এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এলাকার তরুণ ব্যবসায়ী, সংগঠক ও সমাজ সেবক মিনহাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে অব্যাহত প্রতিবাদের কারণে এবং দেশ জুড়ে জনগণ জঙ্গি ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় অবশ্য জঙ্গি কর্মকাণ্ডের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দেশীয় আইনে জেএমবির শীর্ষ জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি হয়। তার ফাঁসি হওয়াতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন সফল হয়। জঙ্গি রিপন মৃত্যুদন্ড হলেও তার সঙ্গী সাথী জঙ্গীরা এখনো জীবিত। জঙ্গি রিপনের ফাঁসির পর তারা এলাকার প্রতিবাদী লোকদের দেখে নিবে বলে কটোর হুঁশিয়ারি ও প্রাণে হত্যার হুমকি দেয় তার সহযোগি জঙ্গিরা। তখন থেকে তাদের বেশ কিছু শীর্ষ নেতাসহ অন্যান্য জঙ্গিরা জেলে থাকায় তাদের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে আনেকটাই নিরাপদ ছিলেন প্রতিবাদকারীরা। এখন জেল থেকে জঙ্গিরা পলায়নের পর এবং দেশের রাজনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনের কারণে তারা আবারও আগের মতো অনেকটা গোপনীয় ভাবে সংগঠিত হচ্ছে। এবং আগের সময়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধাঁদানকারীদের টার্গেট করে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে।

জানা যায় ওই এলাকায় তাদের আস্তানা গড়তে তারা যে কোনো সুযোগে প্রতিবাদকারীদের মেরে ফেলতে চায়। এর মধ্যে অনেক প্রতিবাদীকে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে এলাকায় না পেয়ে তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নানা হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে। তাদের হুমকির প্রেক্ষিতে ওই প্রতিবাদীদের পরিবারের অনেক সদস্যই ভয় ও আতঙ্কে মৌলভীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জীবন নাশের আশঙ্কায় তারা চরম উৎকণ্ঠায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সম্প্রতি জঙ্গি কার্যক্রম বিরোধী প্রতিবাদী লিটন আহমেদ (৩৫) কে ১৪ অক্টোবর রাতের আধাঁরে এলাকা থেকে তুলে নিয়ে প্রাণে হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে একটি জঙ্গলে ফেলে রাখে। এলাকার অন্যান্য জঙ্গি বিরোধী প্রতিবাদীদের খোঁজ খবর নিয়ে তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের নানা ভাবে নির্যাতন করছে ও প্রাণে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। জেএমবি জঙ্গিদের ভয়ে তারা এখন অনেকেই নীরবে গ্রাম ছাড়া।

জানা যায় জেএমবি জঙ্গি সংগঠন সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। এরপর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোট সরকার গঠন করার পর তারা কাজে আরও সক্রিয় হয়। তখন জঙ্গি উত্তাণের জন্য জঙ্গি সংগঠনের সাথে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর গোপন আতাতকে দায়ী করা হয়ে ছিলো।  আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং প্রধান বিরোধী দল হয় জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি ইসলামীদল নিয়ে গঠিত জোট। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোট এখন আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসায় জঙ্গিরা এখন অনেকটাই উৎফুল্ল ও বেপরোয়া। আগামীতে তাদের উগ্র ও জঙ্গিবাদী  কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে উঠার ইঙ্গিত বর্তমানেও পাওয়া যাচ্ছে। এবিষয়ে স্থানীয় প্রতিবাদকারী অনেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান জঙ্গিরা নানা ভাবে কৌশলে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে। তারা প্রাণে হত্যা করতে হন্য হয়ে খোঁজছে। ইতিমধ্যেই তাদের দুইজন সহকর্মী প্রতিবাদীদের ১ জনকে গুম ও অন্য জনকে প্রাণে হত্যা করেছে। তারা এলাকা ছাড়া হলেও নতুন করে জঙ্গিদের নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আইশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের কাছে অনুরুরোধ জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com