শ্রমিকদের দাবি ধাপে ধাপে পূরণ হবে, বাধ্যতামূলক বীমা চালু জরুরি-নাসের রহমান

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংক লুট করার একটা সিস্টেম আছে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। পাকিস্তানে কিছুটা থাকলেও আমাদের দেশের মতো নয়।
শুক্রবার ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসের রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ বসবাস করছে। তাই সীমিত সম্পদের মধ্যেই শ্রমিকসহ সকল শ্রেণির মানুষের চাহিদা পূরণ করতে হবে। বর্তমান সরকার মাত্র আড়াই মাস হয়েছে—পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণে আমরা চেষ্টা করবো।
তিনি বীমা খাতের দুর্বলতার সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব দেশ—ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কায়—বীমা ছাড়া কোনো মোটরযান রাস্তায় নামতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশে এই নিয়ম কার্যত নেই। একটি সিএনজি ৫-৬ লাখ টাকা দিয়ে কেনা হলেও মালিকরা বীমা করে না। দুর্ঘটনা বা চুরি হলে তখন তাদের কান্নাকাটি করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ভারতে বীমা খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ শতাংশ, নেপালে প্রায় ৩ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে তা প্রায় শূন্য দশমিক ১ এর কাছাকাছি। বীমা বাধ্যতামূলক করা হলেও আমরা সেটিকে তাচ্ছিল্য করি।
বীমার সুবিধা তুলে ধরে এমপি নাসের রহমান বলেন, গাড়ি চুরি হলে বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দেয়, এমনকি গাড়ি উদ্ধারের দায়িত্বও নেয়। কিন্তু আমাদের দেশে কেউ কেউ নিজের গাড়ি লুকিয়ে রেখে চুরির নাটকও করে।
ব্যাংক খাতের সমালোচনায় তিনি বলেন, এদেশে বীমা কোম্পানি করলেই লাভ। ৮২ টি কোম্পানি। ব্যাংক হল ৫৬ টা আর ভারতে ৩৪ টার চেয়ে আরও কম। কেন? কারণ আমরা ব্যাংক লুট করতে হবে না? ভারতে তো ব্যাংক লুট হয় না। ব্যাংক লুট করার কোনো সিস্টেমই নেই। এ-ই ব্যাংক লুট করার সিস্টেম বাংলাদেশ আর আরেকটা দেশ আছে তবে আমাদের চেয়ে কম পাকিস্তান। আগে আমরা ভাই ভাই ছিলাম তো, মহব্বত, ঐ একই জিনিস রয়ে গেছে। আর কোনো দেশে ব্যাংক লুট নেই।
নাসের রহমান বলেন, যেখানে ভারতের মতো বড় অর্থনীতির দেশেও ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। প্রশ্ন হচ্ছে—এত ব্যাংক কেন? ব্যাংক লুট করার জন্যই কি এই ব্যবস্থা? ভারতে ব্যাংক লুটের কোনো সিস্টেম নেই, কিন্তু বাংলাদেশে তা বিদ্যমান।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগে পাকিস্তানের সঙ্গে ছিলাম—সেই পুরনো কিছু খারাপ চর্চা এখনো রয়ে গেছে। তবে অন্য কোনো দেশে এমন ব্যাংক লুটের সংস্কৃতি নেই।
পরিবহন খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যত সিএনজি আছে, আফ্রিকায় পঙ্গপালও এত নেই। এখন নতুন করে টমটমও বেড়েছে। তিনি সাধারণ শ্রমিকদের দাবির মূখে শহরে পরিত্যক্ত জায়গা পাওয়া গেলে শ্রমিকদের অফিস হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করবো।
শহরে চালিত টমটমের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, শহরে চলাচলে ১০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধির দাবিটি যৌক্তিক, আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক। সকলেই বিষয়টি সু- বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রশিকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, আলহাজ মো. আব্দুল মুকিত, মো: ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান মজনু এবং পৌর বিএনপির সভাপতি মো. অলিউর রহমান।
এছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য করুন