রাজনগর ও কমলগঞ্জে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত

July 9, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে।

রাজনগর উপজেলার উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনুনদীর ভাঙ্গনে কয়েকটি ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ২৫ টি গ্রাম প্লাবিত। পানিবন্দি হয়ে পরেছেন পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

অব্যাহত বারিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছেন দুর্গত এলাকার লোকজন।

বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা এলাকায়  ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁেধ ভাংগনের সৃষ্টি হলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

টেংরা ইউনিয়নের প্লাবিত গ্রাম গুলো হলো- উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পন্ডিতনগর। এছাড়াও বন্যার আশংকায় রয়েছেনরামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গনেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর, ভাঙ্গারহাট এলাকার লোকজন। অকস্মাৎ এ বন্যায় প্লাবিত এলাকার দুর্গত মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন। প্লাবিত এসব এলাকায় খাবার পানি, গোখাদ্য সহ নানান সমস্যা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকার লোকজন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের উচু জাগায় আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার জানান, উজিরপুর এলাকায় ভাঙ্গনের ঝুকি দেখা দিলে সকাল থেকে এলাকার লোকজনকে নিয়ে মনুনদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করি। কিন্তু পানি বৃদ্ধির কারণে বাঁধ ভেঙ্গে তাৎক্ষণিক ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পার্শবর্তী কয়েকটি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়াও দুর্গতদের স্বার্থে যা করার সব ব্যবস্থা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টি থামলেও উজানের পানিতে বাড়ছে নদী ও হাওরের পানি। বিপদ সীমায় উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জেলার নদীর পানি।

মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩টি স্থানে ভেঙ্গে প্রায় ৩৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ওই এলাকার বসত বাড়ি, ক্ষেতকৃষি ও রাস্তাঘাট। বন্যার ঝুঁকিতে শঙ্কায় জেলার নদী ও হাওর পাড়ের বাসিন্দারা।

মনুনদী চাঁদনীঘাট ব্রীজ এলাকা সর্ব শেষ রাত ৮টার রিডিং অনুয়ায়ী বিপদ সীমার ৭১ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তীরবর্তী মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান রোড এলাকাসহ শহরের বাসিন্দারা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙ্গন ও বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন।

হঠাৎ করে গেল দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ক্রমেই বাড়ছে জেলার নদী ও হাওরে পানি। জেলার মনু, কুশিয়ারা,ফানাই,ধলাই ও জুড়ী নদী ছাড়াও হাকালুকি,কাউয়াদিঘি ও হাইলহাওর পানিতে ভরে গেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় জানায় চলমান বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে পানি বাড়ছেই। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় জেলার নদী তীরের বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান গেল দুই দিন থেকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে জেলা সবক’টি নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে ও কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করছে। মনু ও ধলাই নদীর তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চলের বাসা-বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি থামলেও আবারও মুষলধারে বৃষ্টি হওয়া শঙ্কায় বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন জেলার নদী ও হাওর তীরের বাসিন্দারা। গেল দু’দিনের পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডিং অনুযায়ী জেলার সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে মনুনদীর পানি মৌলভীবাজার শহর সংলগ্ন চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭১ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুলাউড়ার মনুব্রিজ পয়েন্টে মনুনদীর পানি ৭০ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে জুড়ীনদী বিপদ সীমার ২৫ সেন্টিমিটার, শেরপুরের কুশিয়ারা নদীর পানি ২২ সেন্টি মিটার নীচ দিয়ে ও কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায় বর্তমানে জেলায় মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ত্রাণ সামগ্রীও বিতরণ করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উপচে পড়া প্রতি রক্ষা বাঁধের ৪/৫ টি স্থান ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ধলাই নদীর ভাঙ্গনের স্থান মেরামত নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি রয়েছে ভারতের। তবে সুযোগ পেলে ওই স্থান মেরামতসহ জেলার নদীর প্রতিরক্ষার বাঁধ গুলো ভাঙ্গন রোধে তারা সর্তক নজদারি রাখছেন। তারা মাঠে রয়েছেন,সব প্রস্তুতিও রয়েছে।

জেলার শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান জানান গেল দুই দিনে ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। তিনি জানান আবহাওয়ার এই অবস্থা আরও ২-৩ দিন এরকম থাকতেও পারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com