সুখী সমৃদ্ধশালী মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে-রাজনগরে ত্রাণ বিতরণে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহছানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাই মিলে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি প্রতিবছর বন্যার কারণ বিশ্লেষণ করে বলেন, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে আমাদের নদী সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এই কারণে বাংলাদেশে মাঝে মাঝে বড় ধরণের বন্যা হয়।
তিনি বলেন, আমদের দেশের নদী গুলোর অসুবিধার কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়া। বন্যার ঢল যখন নামে তখন সমস্যার সৃষ্টি হয়। সরকারের দ্বয়িত্ব হচ্ছে অভিজ্ঞতার আলোকে স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ নির্মাণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা করা।
১১ জুলাই শনিবার রাজনগর উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে টেংরা দারুস সুন্নাহ ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে বন্যায় অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মাঝে ফুড প্যাকেট বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রায় ৫৪টি অভিন্ন নদীর সংযোগ রয়েছে। ভারত অধিকাংশ নদীতে বাঁধ দিয়ে রেখেছে। তারা পানি আটকিয়ে রেখে বৃষ্টির সময় পানি ছেড়ে দেয়। পানি আটকিয়ে রেখে তারা সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এতে অসুবিধা নেই। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, আন্ত:নদী সংযোগ নিয়ে উভয়ে আলাপ করতে হয়। আমাদের একটা নদী কমিশন রয়েছে। কিন্তু নদী কমিশন ভারতের সাথে আমাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর মিটিং করতে পারে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এটি আমাদের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়েছে। তাছাড়া সরকারের যে সমস্ত মন্ত্রনালয়ে এ দায়িত্বে আছে তাদের অনেকের দূর্নীতি ও লুটপাটের মানসিকতা আছে। যার কারণে আমরা বার বার এই সমস্যায় পড়েছি। এই কারণে বাংলাদেশে মাঝে মাঝে বড় ধরণের বন্যা হয়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বড় ধরণের বন্যা হয়। এতে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। যদি সরকার এই সমস্ত বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল হতেন ও আমরা ঠিকমত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রাখতে পারতাম। তাহলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। আমরা দাবী জানাচ্ছি সরকার এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। সংসদে ও আলোচনা হতে পারে। এতে বিরোধীদল জাতীয় স্বার্থে জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।
জুবায়ের বিগত সরকারের জুলুম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ২৪’র ৫ আগষ্ট এর বাংলাদেশে বৈষম্য দুর করার আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা সফল হয়েছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয় লাভ হয়েছে। তিনি বিগত স্বৈরশাসকের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসক ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এখন ভারত থেকে আমাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে ডিসেম্বরে আমি আসতেছি।
তিনি বলেন, আসতে যদি চান তবে গেলেন কেন? এখন বলে মাথা উচু করে আসবে। এসে আদালতে সারেন্ডার করবে। তিনি বলেন, ভালো কথা মামলা আছে হাজার হাজার মানুষ মেরেছেন, ক্রসফায়ার করেছেন, আয়না ঘরেও মেরেছেন, রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই।
তিনি বলেন, সাড়ে ১৬ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংসদীয় ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ভেঙ্গে লুটপাট করেছে বিগত শাসক দল। বাংলাদেশে আজকের অর্থনীতি খারাপের পিছনে তারা দায়ী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৮ লক্ষ কোটি টাকা তারা পাচার করেছে। যা বর্তমান বাজেটের তিনগুণ। দেশের সম্পদ লুটপাট ও পাচারের জন্য তিনি বিগত সরকারকে দায়ী করে তাদের বিচার দাবী করে বলেন, দেশে আসেন। ফাঁসির দড়ি আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, আগষ্টে ১৪শ মানুষ হত্যা, ২০ হাজার আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এসবের বিচার হবে, আগামীর বাংরাদেশে ফ্যাসিবাদের কোন ঠাই হবে না। এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা অর্থনীতি ঠিক করবো। আমাদের জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিনত হবে।নতুন বাংলাদেশে কোন দূর্নীতি ও কোন বৈষম্য থাকবেনা।
তিনি আকস্মিক বন্যায় অধিক অধিক ক্ষতিগ্রস্থ ১ জন মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ তিনি।
রাজনগর উপজেলা আমীর আবুর রাইয়ান শাহিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মিসবাহুল হাসানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জামায়াতের মৌলভীবাজার জেলা আমীর প্রকৌশলী মো: সায়েদ আলী। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা আমীর মো: আব্দুল মান্নান, জেলা সেক্রেটারি মো: ইয়ামীর আলী, বিগত নির্বাচনের মৌলভীবাজার-১ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো: আলা উদ্দীন শাহ, রাজনগর উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল শহীদ, রাজনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মাস্টার জাহাঙ্গীর আহমদ মুহিত, রাজনগর সদর ইউনিয়ন আমীর দেলোয়ার হোসেন বাবলু, টেংরা ইউনিয়ন সভাপতি মাহমুদুর রহমান, সেক্রেটারি মামুন আহমদ ও প্রবাসী নেতা আবুল কালাম রাসেল।



মন্তব্য করুন