কুলাউড়ার হিঙ্গাজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা অচলাবস্থায় পরিণত

কুলাউড়া অফিস॥ কুলাউড়া উপজেলার অন্তর্গত হিঙ্গাজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা শাহনুর খান দীর্ঘদিন থেকে মাদ্রসার বিভিন্ন ক্লাসে পাঠ্যবইয়ের মূল বিষয় ব্যতিরেকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাদের ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদুদীর গুণকির্তন করতে থাকেন এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের শহীদ ঘোষণা করে শোক পালনের জন্য ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকল ছাত্র/ছাত্রীদের দোয়া করতে আহবান জানান। এবং তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। সর্বশেষে ২ ডিসেম্বর ২০১৬ ইং তারিখে অত্র মাদ্রাসার আলীম শ্রেণীতে ক্লাস নেওয়ার সময় যথারীতি পূর্বের মত সরকারের সমালোচনা দিয়ে শুরু করে রাসূলে করিম (সাঃ) ও সাহাবায় কেরামদের মান ক্ষুন্ন করার জন্য কটুক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এবং ইসলামের তৃতীয় খলিফা রাসুলে করিম (সাঃ) এর অন্যতম সাহাবী হযরত ওসমান (রাঃ) এর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তাহার নামে কুৎসা রটনা করেন এবং কারবালার ঘটনার উলে¬খ করে তিনি এ ঘটনার জন্য ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে সম্পূর্ণ দোষারুপ করে তাকে হত্যাকারী জঘন্য ঘাতক ইয়াজিদ এর প্রশংসা করেন। যা সম্পূর্ণরুপে ধর্মদ্রোহিতার শামীল এবং ইসলাম ধর্মের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। মাওলানা শাহনূর খাঁনের এহেন আচরণ ছাত্র/ছাত্রীরা মেনে নিতে না পেরে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরুপ ক্লাস বর্জন করেন। এরপর ছাত্র/ছাত্রীরা অত্র মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ প্রদান করেন। এহেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বিষয়টির সুরাহা না করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমতাবস্থায় ধর্মীয় অনূভূতিতে আঘাতকারী মাওলানা শাহনুর খানকে মাদ্রাসা থেকে অপসারন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের উদ্যোগে স্থানীয় হিংগাজিয়া বাজারে ও হিংগাজিয়া স্কুল চৌমুহনীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং ব্রাহ্মণবাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। এহেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খাঁন সাহেদ, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমদুদ হোসেন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রীদেরকে একত্রিত করে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তুু বিষয়টির কোন সুরাহা না হওয়ায় ছাত্র/ছাত্রীরা মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের কাছে লিখিত অভিযোগ পত্র প্রদান করেন। গভর্নিং বডির সভাপতি বিষয়টি আমলে নিয়ে উত্তেজিত ছাত্র/ছাত্রীকে আশ্বাস প্রদান করেন যে তিনি বিষয়টি সঠিক সুরাহা করে দিবেন। তিনি গভর্নিং বডির সকল সদস্যদেরকে নিয়ে বিষয়টির তদন্ত্র সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে মাওলানা শাহনূর খানকে দোষী সাব্যস্থ করে তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার জন্য দুইদিনের সময় বেধে দেন, অন্যথায় তাহাকে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করা হবে। গভর্নিং বডির সদস্যদের বেধে দেওয়া সময়ের ভেতরে মাওলানা শাহনুর খান পদত্যাগ না করায় ও গভর্নিং বডি বহিস্কার না করায় তখন মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রীরা প্রতিবাদ স্বরুপ মাওলানা শাহনুর খানকে অপসারণের দাবীতে আবারও ক্লাস বর্জন করে এবং ধর্মীয় অনূভূতিতে আঘাতকারী মাওলানা শাহনুর খান কে মাদ্রাসা থেকে অপসারণের জন্য মাদ্রাসার সম্মুখে মানববন্ধন করে। বর্তমানে ছাত্র/ছাত্রীদের ক্লাস বর্জনের কারণে মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ রয়েছে এবং এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মধ্যে চরম ক্ষোভে বিরাজ করছে।



মন্তব্য করুন