কুলাউড়ায় বাক্ প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

কুলাউড়া অফিস॥ কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের এক বাক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গভীর রাতে ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বাইরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১১ এপ্রিল মঙ্গলবার গ্রামবাসী ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে ৯ এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাত অনুমাণ ২টায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, শরীফপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য জয়নুল ইসলামের বাড়ির একটি কক্ষে অভিযুক্ত ৩ জনকে আটক রাখা হয়। আটককৃত ৩ জন হলো নিশ্চিন্তপুর গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে রহিম আলী (১৮), রজব আলীর ছেলে মঈনুল ইসলাম (২৬) ও মনোহরপুর গ্রামের জমির আলীর ছেলে শুকুর আলী (১৯)। গ্রামবাসী জানান, রোববার রাতে ঘটনার পর নির্যাতিতা বাক প্রতিবন্ধি কিশোরীর মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত হিসাবে একই গ্রামের জুবেল মিয়া (২২) ও আব্দুল হক (৪৫) কে কুলাউড়া থানা পুলিশ আটক করেছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ সোমবার রাতেই তাদের ছেড়ে দেয়। এ দিকে ঘটনাস্থলেই ফেলে যাওয়া একটি ছোরার সূত্র ধরে গ্রামবাসীরা মঙ্গলবার রহিম আলী, মঈনুল ইসলাম ও শুকুর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ৩ জনেই রোববার রাতে বাক প্রতিবন্ধী কিশোরীর ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে তার সম্ভ্রম হানির চেষ্টার কথা স্বীকার করে। পরে গ্রামবাসীরা স্থানীয় ইউপি সদস্যের বাড়িতে তাদের আটকে রেখে কুলাউড়া থানায় খবর দেয়। সরেজমিন ঘটনাস্থল ইউপি সদস্য জয়নুল ইসলামের বাড়িতে গেলে আটক তিন অভিযুক্ত রহিম, মঈনুর ও শুকুর নির্যাতিতা বাক প্রতিবন্ধীর মার সামনে তারা স্বীকার করে, তারা ঘরের বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করলে কিশোরীর হাল¬া চিৎকারের ঘর থেকে দৌঁড়ে পালিয়েছে। তারা কিশোরীকে ধর্ষণ করেনি। তাদের সাথে রাজেল মিয়া (২৬) নামক আরও একজন যুক্ত ছিল।
৯নং ওয়ার্ড মেম্বার জয়নুল ইসলাম ও একই ইউনিয়নের আরও একজন মেম্বার হারুন মিয়া জানান, ধৃত ৩ জন সকাল থেকে এক কথাই বলছে। তারা বাক প্রতিবন্ধির ঘরে প্রবেশ করলেও ধর্ষণ করেনি।
নির্যাতিতা কিশোরীর মা জানান, সোমবার ধরে নেয়া জুবেল মিয়া ও আব্দুল হকই ঘরের বেড়া কেটে প্রবেশ করে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তাদরেকে পুলিশ ধরে নিলেও কুলাউড়া উপজেলা সদরে তার এক বোন জামাইর অনুরোধে বিষয়টি আপোষ রফা করে নিতে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
তবে উপস্থিত গ্রামবাসীরা জানান, আসলে সোমবার প্রাথমিকভাবে ধরে নেয়া দুই জনের (জুবেল মিয়া ও আব্দুল হকের) সাথে কোন এক ঘটনায় নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবারের পূর্ব বিরোধ ছিল বলে তিনি মূল আসামীদের নাম না বলে অন্য দুই জনের নাম বলছেন।
নির্যাতিতা বাক প্রতিবন্ধি কিশোরী তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে আকার ইঙ্গিতে জানায়। তার মা ও স্বজনরাও বলেছেন সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
সোমবার প্রাথমিকভাবে ধরে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া জুবেল মিয়া ও আব্দুল হক জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নির্যাতিতার মা তাদের নাম বলছেন। তারা আদৌ এ ঘটনার সাথে যুক্ত নয়।
কুলাউড়া থানার এসআই জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, কিশোরীর মায়ের বক্তব্যে সোমবার জুবেল ও আব্দুল হককে ধরে নেয়া হয়েছিল। সে রাতেই নির্যাতিতার এক আত্মীয় বিষয়টি নিজেরাই মিটিয়ে নিবেন বলে জানানোয় রাতেই দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার গ্রামবাসী তিনজনকে আটক করার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, তাদেরকেও এখন থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এ রিপোর্ট লেখার সময় রাত ৭ টায় এসআই জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে জানান, আমরা ৩ জন অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ অভিযোগকারী মা ও মেয়েকে নিয়ে থানায় ফিরছি। থানায় আসার পর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হবে। বাকি তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য করুন