কুলাউড়ার কোনাগাঁও জঙ্গি রিপনের দাফন সম্পন্ন : মিডিয়া কর্মীদের পুলিশ আটকে দেয়

বিশেষ প্রতিনিধি॥ কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কোনাগাও গ্রামের বাড়িতে জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের দাফন কঠোর পুলিশি প্রহরায় সম্পন্ন হয়েছে। জঙ্গি রিপন কোনাগাও গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। রিপন ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে সবার বড়। বাবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক ইউসুফ আলী ও মাতা শেলি বেগম।
১২ এপ্রিল বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কোনাগাও শাহী ঈদগাঁহ ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান কোনাগাও জামে মসজিদের ইমাম মোঃ ইব্রাহিম আলী। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দু’টি গাড়ি বাড়িতে পৌঁছায়। বুধবার রাত ১০টায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রিপনের ফাঁসি কার্যকর হয়।
কিছু সময় রিপনের লাশ আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসিকে দেখার জন্য উম্মুক্ত রাখা হয়। পরে রিপনের লাশ গোছল শেষে কাফন পড়ানো হয়। রাত ১টা ৪০ মিনিটে পুলিশ পহারায় কোনাগাঁও ঈদগাহ মাঠে নামাজে যানাজা শেষে পার্শবর্তী কোনাগাঁও জামে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় বাড়ির ১ কিলোমিটার আশপাশে গনমাধ্যমকর্মীসহ কাউকে যেতে দেয়নি পুলিশ।
মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের পুলিশ সরকারীপার নামক স্থানে আটকে দেয়। রাত ১টা ৪০ মিনিটে জানাযা শেষ হলেও এসআই হারুনসহ ১০/১২ জন পুলিশ ওসির স্যারের অনুমতি নেই বলে সরকারী পারে সাংবাদিকদের রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আটকে রেখে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। এসময় সাংবাদিকরা কুলাউড়া থানার ওসির সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি একটু অপেক্ষা করেন বলে ২ ঘন্টা সময় পার করেন। শেষে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ৩টায় সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করে রিপনের কবরস্থানে ও তার বাড়ীতে গিয়ে পুলিশ কিংবা কাউকে পায়নি। এসময় কুলাউড়া থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দায়সারা গোছের জবাব দেন।

মুফতি আব্দুল হান্নান ও জঙ্গি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের জানাযা ও দাফনের ছবি দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় এলেও কুলাউড়া থানার অতি উৎসাহী ওসির বাধার কারনে সাংবাদিকরা রিপনের জানাযা কিংবা দাফনের কোন ছবি তুলতে পারেনি। এ নিয়ে জেলার সাংবাদিকদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এতে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন।
মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি আব্দুল হান্নান, জঙ্গি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা ‘মুফতি’ আব্দুল হান্নান ও জঙ্গি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলেরও একই সময়ে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে।



মন্তব্য করুন