কুলাউড়ায় নিরীহ পরিবারকে ভূমিহীন করার পায়তারা

June 12, 2017,

এইচ ডি রুবেল॥ কুলাউড়ায় একটি নিরীহ পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি মহল। মৌরশি সূত্রে মালিক পরিবারটির মাথাগোঁজার সম্বল বাড়িটি দখলে থাকার পরও চক্রটি প্রভাব খাঁটিয়ে তাদের নামে করে নিয়েছে। এখন শুধু উচ্ছেদ করার বাকি। নিরীহ পরিবারটি বিভিন্ন জনের ধারে ধারে ঘুরে পায়নি কোন সুরাহা।

১১ জুন রোববার সন্ধায় ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক মোঃ লাল মিয়া কুলাউড়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের কুরবানপুর মৌজার অন্তর্গত জেএল নং-২৪, দাগ নং ৬৪৮১ ও ৬৪৮২ এর অন্তর্গত ০৫.২০ শতাংশ ভূমিতে তারা দুই ভাই একত্রে দীর্ঘ দিন থেকে বসবাস করে আসছেন। বিগত স্যাটেলমেন্ট মাঠপর্চায় যায়গাটুকু তাদের নামে অন্তর্ভূক্ত হলেও তসদিকের সময় তাদের সরলতার সুযোগে আপন চাচাতো ভাই মোসলেম উদ্দিন আহমদ অফিসারদের সাথে আতাত করে তাদের নামে অন্তর্ভূক্ত করে নেন। এ বিষয়ে ৩০ ধারায় আপত্তি মামলা করেন লাল মিয়া। আপত্তি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক মাত্র ১দিন শুনানী করে ঐ দিন রাতে তাঁর কুলাউড়া শহরের বাসায় লাল মিয়াকে একান্ত দেখা করতে বলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যার কারনে পরদিন দেখা করে জানতে পারেন আপত্তিটি নামঞ্জুর করে প্রতিপক্ষ মোসলেম উদ্দিন আহমদের পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ৩১ ধারায় রেকর্ড সংশোধনের জন্য আপিল করেন তারা (আপিল নং-৪৮১১)। আপিলের পেক্ষিতে বিষয়টি নিম্পত্তির জন্য কুলাউড়া সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার একেএম এনায়েতুর রহমান ২৮ মার্চ উভয় পক্ষকে হাজিরের নির্দেশ দিলে উভয় পক্ষ হাজির হয়ে দখলদার দাবি করলে ধাপে ধাপে ৩ দফা সরেজমিন তদন্ত করা হয়। ৩ দফায় সার্ভেয়াররা তিন রকম রিপোর্ট জমা দেন। প্রথম ধাপে সার্ভেয়ার আবুল কাশেম লাল মিয়ার কাছে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করলে দাবিকৃত অর্থ দিতে অক্ষম হওয়ায় প্রতিপক্ষকে দখল দেখানো হয়। লাল মিয়ার আপত্তির প্রেক্ষিতে ২য় দফায় ডি.এম খবির উদ্দিনের সরেজমিন তদন্তে লাল মিয়ার পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তিতে ৩য় দফায় এএসও রুহুল আমিন গাজী ও সার্ভেয়ার আব্দুল জলিল সরেজমিন তদন্ত করেন। তারা ৩ শতক জমি লাল মিয়াদের ও বাকিটা প্রতিপক্ষের দখলে উল্লেখ করেন। এএসও রুহুল আমিন গাজী ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন লাল মিয়ার কাছে। টাকা দিতে না পারায় রায় চলে যায় পতিপক্ষের পক্ষে। হতাশ হয়ে লাল মিয়া সিলেট জোনাল অফিসার এর নিকট কোর্ট বদলীর আবেদন করেন।

এদিকে স্থানিয় সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাজিক ভাবে বৈঠকে বসবেন বলে আপিল অফিসারকে পত্রের মাধ্যমে জানান। অপরদিকে ২য় দফায় সরেজমিন তদন্তে লাল মিয়ার পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল হলে মোবাইল ফোনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম সরেজমিন পুণঃ তদন্তের অনুরোধ করেন (যা ৩১ ধারার নকলে উল্লেখ রয়েছে)। পরবর্তিতে সেটেলমেন্ট অফিসার তড়িঘড়ি করে লাল মিয়ার আপিল নামঞ্জুর করে ৩০ ধারার রায় বহাল রাখেন।

এমতাবস্থায় নিরীহ দরিদ্র লাল মিয়া নিরূপায় হয়ে বিভিন্ন মহলের নিকট গিয়ে সুরাহা না পেয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ভিটে মাটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লাল মিয়ার পুত্র জুবেল আহমদ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com