কুলাউড়ায় ত্রাণের গম নিয়ে বিড়ম্বনায় বানভাসী মানুষ

July 3, 2017,

বিশেষ প্রতিনিধি॥ কুলাউড়া উপজেলায় বানভাসী মানুষের মাঝে চালের পরিবর্তে গম দেয়া হচ্ছে ত্রাণ হিসেবে। আর এই গম নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বানভাসী মানুষ। থৈ থৈ পানি, গম শুকানোর মত জায়গা কিংবা রোদ কোনটাই নেই। না ফেলতে পারছেন, না খেতে।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য সর্বশেষ ত্রাণ হিসেবে বরাদ্ধ এসেছে ৬৯ মেট্রিক টন গম। উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় দুর্গত মানুষের মধ্যে এই গম বিতরণ করা হয়।
১ জুলাই শনিবার থেকে এই গম ইউনিয়ন পর্যায়ে বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা শুরু হয়েছে।
উপজেলার জয়চন্ডী আবুতালিপুর, মিটুপুর, বেগমান এলাকার বন্যা কবলিত মানুষ জানান, ৫ কেজি করে পরিবার প্রতি গম দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে ৫ কেজি কিন্তু একটা বালতি দিয়ে দ্রুত বিলি করার জন্য কাউকে ৪ কেজি আবার কাউকে সাড়ে ৪ কেজি করে গম দেয়া হয়েছে। আবুতালিপুর গ্রামের দিলারা বেগম, শামসুল মিয়া, নৃপেন্দ্র নাথ, জিতেন্দ্র দাস. তারেক মিয়া জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর ত্রাণ হিসেবে দেয়া হলো গম। এই গম শুকাবো কোথায়? ভাঙবো কোথায়? উল্টো খাজনার চেয়ে যেন বাজনা বেশি হয়ে গেলো।
ভকুশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান মনির জানান, তিনি এখনও গম বিতরণ করেননি। ৩ জুলাই সোমবার থেকে বিতরণ শুরু করবেন। প্রতি পরিবারে ১৩ কেজি করে গম দিবেন বলে জানান। তবে গম শুকানো ও ভাঙানো একটা বাড়তি ঝামেলা।
কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শিমুল আলী জানান, দুর্গত মানুষের জন্য ৬৯ মেট্রিক টন গম বরাদ্ধ এসেছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়েছে। গম দেয়াটা সরকারি সিদ্ধান্ত। আমাদের কিছু করার নেই।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌঃ মোঃ গোলাম রাব্বি জানান, গম প্রতি পরিবারের জন্য ১৩ কেজি করে বরাদ্ধ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। জয়চন্ডী ইউনিয়নের বিষয়টা আমি জেনেছি। সেখানে নাকি লোকজন বেশি হওয়ায় তারা কম করে দিয়েছে। আর গমের পরিবর্তে চাল দেয়া যায় কি-না বিষয়টা নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com