জেলায় বেড়েছে ভিক্ষুকদের দৌরাত্ন

আশরাফ আলী॥ ভিক্ষাবৃত্তি এমন একটি পেশা যা সমাজের নিকৃষ্টতম পেশা। কেন এই পেশার প্রতি মানুষের ঝোঁক। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা এগুলো মানুষের মৌলিক চাহিদা। এ মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির দিকে ঝোঁকে। জীবিকা নির্বাহ করার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দিন শেষে ভিক্ষুকরা যে টাকা আয় করে তা দিয়ে সংসার চলে।
এই ভিক্ষুক থেকে মুক্ত নয় মৌলভীবাজার শহরসহ পুরো জেলা। শহরে বেড়েই চলেছে ভিক্ষুকদের দৌরাতœ। শহরের চৌমূহনা এলাকায় গেলে দেখা যায় অনেক ভিক্ষুককে ভিক্ষা করতে। কোন গাড়ি আসলে গাড়ির পিছু পিছু নিয়ে ভিক্ষার হাত পাততে। অনেক ভিক্ষুক আছেন তাদের জিজ্ঞেস করা হলে বলে এছাড়া তাদের অন্য কোন উপায় নেই। গ্রামে-গঞ্জে কাজ না থাকার ফলে এ পেশার দিকে ঝোঁক প্রবণতা বেশী। তবে অনেকেই বলেন তাদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অপ্রিয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে ডানপাশে সাইবোর্ডে লেখা রয়েছে আসুন ভিক্ষুক মুক্ত মৌলভীবাজার গড়ে তুলি। কিন্তু আসলেই কি ভিক্ষুক মুক্ত করতে কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলায় সরকারি হিসাবমতে ২০৭০ জন ভিক্ষুক রয়েছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে ভিক্ষুকদের শতভাগ পূর্ণবাসন সহ তাদের বিভিন্ন পেশায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। ভিক্ষুকদের বয়স্কভাতা দেওয়া হচ্ছে। ভিক্ষুক মুক্তকরণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। তাদেরকে বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে এসে সেলাই মেশিন দেওয়া সহ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় ভিক্ষুকদের নিয়ে আসা হচ্ছে। ভিক্ষুকদের ঋণ সহায়তার মাধ্যমে পূর্ণবাসনের চেষ্টা চলছে।
সদর উপজেলার জগৎসী এলাকার অঞ্জলী বেগম বলেন, কয়েকবার ছবি নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন ধরণের ভাতা পাইনি। ৭০ বছর বয়সে বয়স্ক ভাতা না পেয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষার জন্য ঘুরি। মেম্বার-মেম্বারনী শুধু নাম নেয় আর ছবি তুলে।
সুশীল সমাজের দাবি, ভিক্ষুক মুক্ত মৌলভীবাজার এখন সময়ের দাবি। ভিক্ষাবৃত্তি বন্দ করতে হলে প্রতিটা গ্রামে, পাড়ায়, মহল্লায় ও শহরে ভিক্ষুকদের তালিকা করে তাদের পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বাজেটের একটি অংশ ভিক্ষুকদের পূর্ণবাসনে বরাদ্ধ রেখে ভিক্ষুকদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করলে ভিক্ষাবৃত্তি বন্দ করা যাবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি ১৬ গ্রেডের কর্মকর্তাদের একদিনের বেতন দিয়ে ভিক্ষুকদের পূর্ণবাসনের চেষ্টা চলছে। এমনকি স্পেশাল হিসেবে যদি কোন ভিক্ষুক চায় তাকে রিক্সা কিনে দিতে তাহলে সরকারের পক্ষ কিনে দেওয়া হবে।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, সমাজসেবা অফিসের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, যুব উন্নয়নের হাঁস-মুরগি লালন পালন, সবজি চাষ ও ক্ষুদ্র কুঠির শিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে কিছুটা অর্থায়নের মাধ্যমে ভিক্ষুকদের পূর্ণবাসনে কাজ চলছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম বলেন, জেলা জুড়ে ভিক্ষুকদের তালিকা করা হচ্ছে, ফান্ড তৈরী করা হয়েছে। সরকার থেকে বরাদ্ধ আসছে ভিক্ষুকদের পূর্ণবাসনের জন্য।



মন্তব্য করুন