ফিরে দেখা ২০১৯ : বড়লেখায় নারী আইনজীবি খুনের ঘটনা

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় বিদায়ী ২০১৯ সালে অনেকগুলো হত্যাকান্ড ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আলোচিত ঘটনাগুলোর অন্যতম হচ্ছে লোমহর্ষক নারী আইনজীবি আবিদা সুলতানা হত্যাকান্ড। নানা বাড়ী বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ছাড়াও স্বামীর ছুরিকাঘাত ও শ্বাশরুদ্ধ করে স্ত্রী খুন, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ইউরোপগামী ৩ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু, সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহতসহ আরো অনেকগুলো চাঞ্চল্যকর ঘটনা বছর জুড়েই ছিল দেশব্যাপি আলোচিত ও সমালোচিত।
মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির (কাঠালতলী) মাধবগুল গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল কাইয়ুমের বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানা (৩২) গত ২৬ মে দিনে দুপুরে পৈত্রিক বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। তিন বোনের মধ্যে তিনি বড় ছিলেন। এ খুনের ঘটনায় পুলিশ বাসার ভাড়াটিয়া মাওলানা তানভির আহমদকে পুলিশ শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে পুলিশ তার স্ত্রী হালিমা সাদিয়াকে গ্রেফতার করে। ৭ নভেম্বর পুলিশ ইমাম তানভীর আলম (৩৪), তার ছোটভাই আফছার আলম (৩০) এবং স্ত্রী হালিমা সাদিয়া (২৮)’র বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। বড়লেখায় নির্মমভাবে নিজ বাসায় নারী আইনজীবি হত্যাকান্ডটি টক অব দি কান্ট্রিতে পরিণত হয়।
২১ ফেব্রুয়ারী রাতের আধারে অবৈধভাবে টিলা কাটতে গিয়ে টিলা ধসে মাটি চাপায় হারুনুর রশীদ (২৫) নামে এক মাটি শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। তিনি বালিশকোনা গ্রামের ফয়জুর রহমানের ছেলে।
দালালদের খপ্পড়ে পড়ে ইউরোপ গমণের পথে গত ১০ মে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিকে মৃত্যু ঘটে ফাহাদ আহমদ নামে এক তরুণের। সে পৌরসভার গাজিটেকা পূর্বের চক এলাকার দুবাই প্রবাসী আব্দুল আহাদের ছেলে। এসময় জুয়েল আহমদ নামক তরুণ নিখোঁজ হয়। সে উপজেলার সাত্তার খাই গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। নিখোঁজের ৭ মাসেও জুয়েল আহমদের সন্ধান পায়নি তার বাবা-মা। গত ২২ নভেম্বর ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বড়লেখার আরো ২ তরুণের। ভূমধ্যসাগর পথে মরক্কো থেকে স্পেনে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে তাদের মৃত্যু ঘটে। তারা হলো উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের সুড়িকান্দি গ্রামের আপ্তাব আলীর ছেলে জাকির হোসেন ও উত্তর পকুয়া গ্রামের ছোয়াদ আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন। ইউরোপগামী তরুণ ফাহাদ, জাকির, জালাল ও জুয়েলের পরিবারে কান্নার মাতম আজও থামেনি।
৮ জুন বিয়ানীবাজার হতে বড়লেখায় নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই খালাতো বোনের মৃত্যু হয়। উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউপির উত্তর পকুয়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হল- উপজেলার হলদিরপার গ্রামের আব্দুল আহাদের মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৪) এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ গ্রামের ময়না মিয়ার মেয়ে শাম্মি আক্তার (১২)।
৯ জুন পারিবারিক কলহের জেরে পান্না বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধু স্বামীর ছুরিকাঘাতে খুন হন। উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউপির দৌলতপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর ঘাতক স্বামী মতছিন আলী পালিয়ে গেলেও পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। নিহত পান্না বেগম বিয়ানীবাজার উপজেলার পাড়িয়াবহর গ্রামের ইসমাইল আলীর মেয়ে।
৫ আগষ্ট বড়লেখা থানা পুলিশ রান্নাঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় শরীফা বেগম (৪৫) নামে ৪ সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার করে। তিনি উপজেলার উত্তর চান্দগ্রামের রমিজ আলীর স্ত্রী।
বড়লেখায় স্বামীর দেয়া আগুনে শরীরের প্রায় ৭০ ভাগ অগ্নিদগ্ধ হতদরিদ্র স্ত্রী আছমিনা বেগমের উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ নেন থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক। পুলিশ স্বামী সাহেদ আহমদকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ওসি ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ মাস ঢাকায় চিকিৎসা করিয়ে হতদরিদ্র অগ্নিদগ্ধ আছমিনা বেগমকে সুস্থ করেন। ওসি মো. ইয়াছিনুল হকের মানবিকতার বিষয়টি দেশব্যাপী আলোচিত হয়।
২৩ আগস্ট ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আব্দুর রূপ (২৫) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুর রূপ বড়লেখার সদর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল (উত্তর) গ্রামের সাজ্জাদ আলীর ছেলে। ঘটনার ২ দিন পর বিএসএফ নিহত আব্দুর রূপের লাশ হস্তান্তর করে।
৩০ আগস্ট পুলিশ এক অজ্ঞাত মহিলাসহ ৩ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এরা হলেন উপজেলার দাসেরবাজার ইউপির চানপুর গ্রামের মৃত রমনি দাসের ছেলে কৃষক রনজিত দাস (৫০) ও তালিমপুর ইউপির সরুয়ামাঝি গ্রামের মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আলী আছকর (৪৫)।
১ সেপ্টেম্বর বড়লেখায় ইমা বেগম (২০) নামে অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পাষন্ড স্বামী জামাল উদ্দিন (২৩)। পুলিশ স্ত্রী হত্যাকারী জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর থেকে আমির উদ্দিন (৪৫) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মোহাম্মদনগরের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
১৩ ডিসেম্বর। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের সালদিগা গ্রামের একটি মুর্তা বেতের বাগান থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের (৪০) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আজও ওই অজ্ঞাত লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর পাথারিয়া চা বাগানের সহকারী ইলেক্ট্রিশিয়ান শৈলেন তেলী মটর মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।



মন্তব্য করুন