বিদায় বেলায় সবাইকে কাঁদালেন, নিজেও কাঁদলেন ইউএনও ইসলাম উদ্দিন, উপজেলাজুড়ে বইছে বেদনার সুর

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : কর্মদক্ষতা, সততা ও মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে অল্প সময়েই শ্রীমঙ্গল উপজেলাবাসীর মন জয় করা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ ইসলাম উদ্দিন প্রিয় কর্মস্থল শ্রীমঙ্গল থেকে বিদায় নিলেন। চোখে ছিলো পানি, তবুও স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে সহকর্মী ও উপজেলার সকলের কাছ থেকে বিদায় নিলেন তিনি। প্রিয় এই কর্মকর্তাকে বিদায় জানাতে এসে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। এ সময় কাঁদলেন ইউএনও, কাঁদালেন তাকে বিদায় দিতে আসা সকলে। তাঁর এই বিদায়ে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।
কৃতজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণায় ভরে উঠেছে স্থানীয়দের ফেসবুক টাইমলাইন, যেন এক প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে তার বিদায়কে সম্মান জানিয়ে অশ্রু ঝরিয়েছে সাধারণ মানুষ। স্মৃতি হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ দিলেন সম্মাননা স্মারক ও হৃদ্যতার উপহার। তাঁর আকস্মিক বিদায়ে উপজেলাজুড়ে বইছে বেদনার সুর। এ যেন আত্মারা আত্মীয় বিদায়ের ক্ষণে প্রিয়জনের ভালবাসার একান্ত আকুতি। নিজের সৃষ্টিশীল কাজ আর উদ্যমী মানবিক চরিত্রের কাজের মাধ্যমে এরই মধ্যে তিনি উপজেলাবাসীর মন জয় করেছেন।
কর্মবীর ইউএনও ইসলাম উদ্দিন ছিলেন সৃষ্টিশীল ও সাধারণের কাছে বিশ্বাস ও আস্থার নাম। ইউএনও হয়ে মানুষের মাঝে ‘ইউএনও ভীতি’ দূর করতে কর্মস্থলের সাধারণ মানুষকে পরিবার মনে করে ভালোবাসতে শুরু করেন। উপজেলায় প্রায় দেড় বছরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে গেছেন তিনি। তার হাসিমুখ দেখে সবাই ভরসা পেতেন, কথা বলার সাহস পেতেন। সর্বসাধারণের জন্য তার দরজা সব সময় খোলা ছিল। দারিদ্র্য, নিপীড়িত মানুষ সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেত। তাই তো সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর ছিল তার সজাগ দৃষ্টি। তার প্রশাসনিক এলাকায় জনস্বার্থবিরোধী কোন ঘটনা তার নজরে এলে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক সরেজমিনে গিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে তা দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করেছেন। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যে মূলধর্ম কাজের মধ্যদিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। দেড় বছরের কর্ম সময়ে নিজের বিনয়ী আচরণ এবং নিজ দায়িত্বের বাইরে অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে ইতিহাস সৃষ্টি করে হয়েছেন বেশ প্রশংসিত।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি শ্রীমঙ্গলে দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলার সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছিল গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছিল জনভোগান্তি, আর বৃদ্ধি পেয়েছিল জনসেবার মান। এ উপজেলায় যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি কর্মগুণে সাধারণ মানুষের কাছে জনবান্ধব ও মানবিক ইউএনও হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
কাবিটা, কাবিখা, টিআর, এডিপিসহ সব বরাদ্দে এনেছিলেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি, মানবিক আচরণ এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাঁকে মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলে। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, ভ্রাম্যমান আদালত, দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণ, পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষায় নানা কার্যকরি পদক্ষেগ্রহণ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি বাড়ায়।
মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনেও তিনি ছিলেন অনন্য। অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় পরিবারকে সহায়তা, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের আমলে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। নিজের অফিসের পাশাপাশি কর্মদক্ষতার সঙ্গে পৌরসভাও সামলে নিয়েছিলেন তিনি। অফিস সময়ের বাইরেও জনবান্ধব মানসিকতা নিয়ে উপজেলাবাসীকে হাসিমুখে সেবা দিয়েছিলেন। জনসেবায় তার নিষ্ঠা, কর্মতৎপরতা, কর্মদক্ষতা ও উদ্যোগের কারণে পর্যটন নগরীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে।
তবে তাঁর বিদায়ই যেন এখন সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। কর্মতৎপরতা, কর্মদক্ষতা, মানবিকতা, উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং জনবান্ধব মানসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইসলাম উদ্দিন এর বদলিজনিত বিদায়ে এখন শ্রীমঙ্গল উপজেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ইউএন’র বিদায়বেলার ভিডিও ও ছবিগুলো এখনো ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে আবেগঘন লেখালেখি। অনেকে তাকে অত্যন্ত সৎ ও বিনয়ী দাবি করে তার বিদায় যেন মেনে নিতেই পারছেন না।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি মোঃ মোবারক হোসেন লোপ্পা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, বিদায় শব্দটা ছোট হলেও এর ভার অনেক বেশি। আমাদের উপজেলায় আপনার কর্মকাণ্ড ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আপনি কেবল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাই ছিলেন না, ছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে মিশে ছিল এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য গভীর মমত্ববোধ। যোগ্য নেতৃত্ব আর মানবিকতার সংমিশ্রণে আপনি এই উপজেলাকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, তা আমাদের কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। একজন জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আপনার প্রতিটি কর্মপরিকল্পনা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। সময়ের পরিক্রমায় মানুষ আসে, মানুষ যায়, তবে কিছু মানুষ রয়ে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়। আপনি তেমনি একজন ব্যত্তিত্ব, যিনি অল্প সময়েই এ অঞ্চলের মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। আপনার সততা, দক্ষতা ও অমায়িক ব্যবহার আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে। আপনি চলে যাচ্ছেন আপনার নতুন গন্তব্যে, কিন্তু আপনার সৃজনশীল কাজগুলো আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে আজীবন। আপনার বিদায় আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার হলেও, আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় আমরা গর্বিতচিত্তে আপনাকে বিদায় জানাচ্ছি।
শহরের ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ শিপু স্ট্যাটাসে লেখেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুধু একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর পওশাসকই ছিলেন না, উনি একজন নীতিবান, সৎ ও মানবিক মানুষ ছিলেন। উনার অসাধারণ নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। শ্রীমঙ্গলে দায়িত্ব পালনকালে সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উনি স্থাপন করেছেন, তা আমাদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও উনি যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উনার অবদান শ্রীমঙ্গলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে-এটাই আমাদের বিশ্বাস।
শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ শাহিন আহমেদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন মহোদয় বাংলাদেশের রাষ্টওব্যবস্থার এক মূল্যবান সম্পদ। উনি উনার দায়িত্বকালীন সময়ে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করেছেন। চলমান অর্থবছরে উনার কাজের প্রতিফলন সবাই দেখতে পারবেন, যদিও অনেকেই হয়তো জানবেন না যে এসবের পেছনে উনার অবদান রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা জনগণের বৃহত্তর কল্যাণে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন এবং নিজের কর্মদক্ষতার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনতে পারেন তার একটি জীবন্ত উদাহরণ তিনি স্থাপন করেেে গছেন। তিনি যে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা যদি ভবিষ্যৎ কর্মকর্তারা ধরে রাখতে পারেন, তবে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের চেহারা আমূল পরিবর্তিত হবে। তিনি একজন বহুমাত্রিক (মাল্টি-ডায়নামিক) ব্যক্তিত্ব, এবং এ ধরনের দক্ষ ও স্মার্ট মানবসম্পদ আমাদের রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে তিনটি ভিন্ন দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু তিনি তা দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। আমার ক্ষুদ্র জীবনে এমন একজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবো তা কখনো কল্পনাও করিনি। সব সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা হয়, তা যে সঠিক নয়, এটি উনার সঙ্গে কাজ না করলে উপলব্ধি করতে পারতাম না। আমি তেলবাজি করতে পারি না, এবং এটি আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণও নয়। তবে ভালো কিছু দেখলে তা তুলে ধরার চেষ্টা করি, যাতে সমাজ তা জানতে পারে এবং অনুপ্রাণিত হয়। আমি আপনার সততা ও ন্যায়বিচারের একজন অনুরাগী। আপনাকে তেলবাজি করতে পারব না, তবে আল্লাহর কাছে আপনার জন্য খাঁটি নিয়তে দোয়া করব এবং সবাইকে আপনার জন্য দোয়া করতে বলব। ভালো থাকবেন, এবং আপনার মতোই অটল থাকবেন।
জুলাই যোদ্ধা ও সর্বদলীয় ইসলাী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের নেতা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বিদায় যেমন ধ্রুব সত্য, তেমনি কিছু বিদায় বড় বেশি ব্যথার। মানুষের জীবনে আসা-যাওয়ার এই মিছিলে কেউ কেউ রেখে যান এমন কিছু স্মৃতি, যা সময়ের ধুলোয় কখনো মলিন হয় না। কিছু ফুলের সুবাস যেমন ফুরোয় না, ঠিক তেমনি কিছু মানুষের কর্মগুণ আর অমায়িক ব্যবহারের প্রশংসা কখনো শেষ হওয়ার নয়। তেমনই একজন বহুগুণে গুণান্বিত এবং আলোকিত মানুষ আমাদের শ্রীমঙ্গলের বিদায়ী ইউএনও মহোদয়। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সেই অস্থির ও অচল অবস্থার সময়ে তিনি যখন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গল ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি প্রমাণ করেছেন সেবা ও সততার প্রকৃত রূপ। রাজনৈতিক পরিচয় বা দল-মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন, তা সত্যিই বিরল।
উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ইউএনও ইসলাম উদ্দিন ছিলেন, খুব স্থির ও ধৈর্যশীল মানুষ। মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। বিরক্ত, অবহেলা বা ব্যস্ততা দেখাতেন না কাউকে। ছিলেন কর্মদক্ষ, সাহসী, চৌকস, কর্তব্যপরায়ন, সৎ ও নিষ্ঠবান ও জনবান্ধব অফিসার। সকলকে সাথে নিয়ে উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করেছেন। একজন নিষ্ঠাবান ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে তার জুড়ি নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অসহায় দুস্থরা তাদের প্রয়োজনে ইউএনও এর কাছে গিয়ে কখনো নিরাশ হয়ে ফেরেনি। সকলের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথা বলতেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি যেকোনো দপ্তরে কেউ হয়রানি হলে তা তাৎক্ষণিক সমাধান করতেন তিনি। তাই তার কাছে গিয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেতো সবাই। উপজেলার সকল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছেন। এমন মানবিক ও জনবান্ধব ইউএনও আমাদের উপজেলায় খুব কমই এসেছেন। তাঁর মতো একজন কর্মকর্তার বিদায় আমাদের জন্য বড় ক্ষতি এবং মেনে নেওয়া কষ্টদায়ক।
সদ্যবিদায়ী ইউএনও মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, একজন ইউএনওর কাছে মানুষ কিছু প্রত্যাশা নিয়ে আসেন। আমার সঙ্গে সবাই কথা বলতে পেরেছেন। আমি মানুষের কথা শুনেছি। ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপেও অনেকে যোগাযোগ করেছেন। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকতে, সব সেবাগ্রহীতার কথা শুনতে এবং মানুষের ভোগান্তি কমাতে। সেটা অফিস সময়ই হোক আর গভীর রাতেই হোক। বেশিরভাগ সময় আমি এই উপজেলাকে নিয়ে ভেবেছি। উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনেক রকমের সহযোগিতা আমি পেয়েছি। বিনিময়ে মানুষের অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পেয়েছি। সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে বদলিজনিত কারণে কোনো জেলায় বা উপজেলায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। বিদায় বেলা মানুষ যেভাবে আমাকে বিদায় দিয়েছেন আমি তাতে খুবই কৃতজ্ঞ। ইউএনও হিসেবে প্রথম স্টেশন শ্রীমঙ্গলকে আমি কখনো ভুলব না। ভালো থাকুক শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রতিটি মানুষ। আমার কর্মজীবনে সেরা সঞ্চয় হিসেবে পেয়েছি এখানকার মানুষের ভালোবাসা।
প্রসঙ্গত, বদলিজনিত কারণে ইসলাম উদ্দিন শ্রীমঙ্গল থেকে বিদায় নিয়ে বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছেন এবং শ্রীমঙ্গলে নতুন ইউএনও হিসেবে সদ্য যোগদান করেছেন চুনারুঘাট উপজেলার ইউনএও জিয়াউর রহমান।



মন্তব্য করুন