হাকালুকির হাওরখাল বিলের বাঁধ কেটে মাছ লুট পন্ড

আব্দুর রব॥ হাকালুকি হাওরের প্রায় দেড় হাজার একরের গুটাউরা হাওরখাল বদ্ধ জলমহালের বাতিল ঘোষিত ইজারার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে মাছ আহরণ করতে গত শুক্রবার এ বিলের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন শুরু করে। খবর পেয়ে বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুসরাত লায়লা নীরা কয়েক কোটি টাকার মাছ লুটের পায়তারা পন্ড করে দিয়েছেন। সোমবার ও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে থেকে কেটে ফেলা বাধ পুনঃস্থাপন করেন। এসময় থানার ওসি (তদন্ত) মো. জসীমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালটি ১৪২২ বাংলা থেকে ১৪২৭ বাংলা সন পর্যন্ত বার্ষিক ৭২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা খাজনায় সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দিতে ভুমি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। কিন্তু ভুমি মন্ত্রণালয় জলমহালটি পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অনুকুলে ইজারার আদেশ জারি করে। নীতিমালা পরিপন্থী এ ইজারা আদেশের বিরুদ্ধে দরখাস্তকারী সমিতি হাইকোর্টে রীট পিটিশন করে। শুনানী শেষে বিজ্ঞ হাইকোর্ট ইজারা আদেশ বাতিলের রায় ঘোষণা করেন।
এদিকে নীতিমালা বর্হিভুতভাবে ভুমি মন্ত্রণালয় মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ১৪২৪ বাংলা থেকে ২৪২৯ বাংলা পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য জলমহালটি ইজারা প্রদানের আদেশ জারি করে। নীতিমালা পরিপন্থী এ আদেশের বিরুদ্ধেও সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি সুপ্রীমকোর্টে রীট মামলা দায়ের করেন (রীট নং-১৫৬১/২০১৮)। অপরদিকে মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিও সুপ্রীমকোর্টে লিভ টু আপিল মামলা দায়ের করে। সুপ্রীমকোর্ট উভয় মামলা একত্রিত করে বিচারের জন্য হাইকোর্টে প্রেরণ করেন। সম্প্রতি হাইকোর্ট হাওরখাল বদ্ধ জলমহালের ইজারা বাতিল ঘোষণা করেন। আদালতের কোন ধরণের আদেশ ছাড়াই মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম গত ৩ মাস ধরে বিলের পশ্চিম-উত্তর পাড়ে বাসা তৈরী করে মাছ লুটের পায়তারা চালান। অভিযোগ রয়েছে মাধবকুণ্ড মৎস্যজীবি সমিতিকে সামনে রেখে ফেঞ্চুগঞ্জের কতিপয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার মাছ লুটের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গত শুক্রবার প্রভাবশালীরা হাওরখাল বিলের পশ্চিম-উত্তর পাড়ের বাধ কেটে পানি নিষ্কাশন শুরু করে। ৪০-৫০ জন জেলে নিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। খবর পেয়ে সোমবার ও মঙ্গলবার সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুসরাত লায়লা নীরা থানা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কাটা বাধ পুনঃস্থাপন করেন এবং অবৈধভাবে মাছ লুটের তৎপরতা না চালাতে বাতিল ঘোষিত ইজারাদার সমিতির সভাপতি আব্দুস সালামকে নির্দেশ দেন।
২১ জানুয়ারী মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বিলের পাড়ে ৩টি বাসা তৈরী ও বিলে মাছ ধরার প্রস্তুতি এবং ৪০-৫০ জন জেলের অবস্থান। বাসার তত্ত্ববধায়ক আব্দুল জলিল শাহ জানান, ফেঞ্চুগঞ্জের নুরুল চেয়ারম্যান ও মাধবকুণ্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম গত কার্তিক মাস থেকে তাকে নিযুক্ত করেছেন। তারা বিলের ইজারা পেয়েছেন দাবী করলেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বাসায় মাছ ধরার জন্য জালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মজুত, বিলের একাংশে বাশের খাটি পোতা ও মাছ বিক্রির গড় প্রস্তুত থাকতেও দেখা যায়। এব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুস সালাম জানান, মাছ ধরার জন্য নয়, বিল রক্ষণাবেক্ষনের জন্য বাসা তৈরী করেছেন। পানি কমানোর জন্য বাধ কেটেছিলেন। তবে প্রশাসনের নির্দেশে তা মেরামত করে দিয়েছেন।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুসরাত লায়লা নীরা জানান, হাওরখাল বিলের ইজারা বাতিল করেছেন আদালত। অবৈধভাবে মাছ আহরণের নানা তৎপরতার খবর পান। মাধবকুণ্ড সমিতি বাধ কেটে পানি নিষ্কাশন করছিল। তিনি দাঁড়িয়ে থেকে কেটে ফেলা বাধ পুনঃস্থাপন করেছেন। হাওরখাল বিল থেকে অবৈধভাবে কেউ যাতে মাছ ধরতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারী অব্যাহত থাকবে।



মন্তব্য করুন