বড়লেখায় ছাড়পত্রহীন ব্রিক ফিল্ডে তৈরী হচ্ছে ইট! পুড়ানো হচ্ছে কাঠ

January 28, 2020,

আব্দুর রব॥ বড়লেখা উপজেলার দৌলতপুর ইটাউরী এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বিএসএস ব্রিক্স ফিল্ড তৈরী করছে ইট। আর এ অবৈধ ইটের ভাটায় প্রকাশ্যে পুড়ানো হচ্ছে অবৈধভাবে বনাঞ্চল উজাড় করে সংগৃহীত কাঠ। অবৈধ ব্রিক্স ফিল্ডে অবৈধ কাঠ পুড়ানোয় সৃষ্ট বিষাক্ত ধোয়া আর ধুলোবালিতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটলেও রহস্যজনক কারণে নির্বাক পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলায় মোট ১৩টি নিবন্ধিত ব্রিক্স ফিল্ড রয়েছে। এরমধ্যে ১০টি আধুনিক প্রযুক্তির এবং ৩টি সনাতন পদ্ধতির। ২০১৪ সালে সরকার সকল সনাতন পদ্ধতির ব্রিক্স ফিল্ডকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্রিক্স ফিল্ডে রূপান্তরিত করার নির্দেশ প্রদান করে। ১০ টি আধুনিক পদ্ধতির ব্রিক্স ফিল্ডের মধ্যে পরিবেশগত কারণে ষাটমা ব্রিক্স ফিল্ডের ছাড়পত্র বাতিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ছাড়পত্র বাতিল ঘোষণা করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইট তৈরী করছে ষাটমা ব্রিক্স মালিক পক্ষ। প্রায় ৬ বছর ধরে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করে সনাতন পদ্ধতিতে ইট পুড়াচ্ছে সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি গ্রামে নজরুল ব্রিক্স ও জগডুবায় এনএমএস ব্রিক্স ফিল্ড। নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর ইটাউরী এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই গত ৬-৭ বছর ধরে অবৈধভাবে ইট পুড়াচ্ছে বিএসএস (বন্ধন সমবায় সমিতি) নামক ব্রিক্স ফিল্ড। এ ব্রিক্স ফিল্ডে শুধু অবৈধভাবে ইট তৈরীই হচ্ছে না, ইট তৈরীতে অবৈধভাবে বনাঞ্চল উজাড় করে সংগৃহীত কাঠও পুড়ানো হচ্ছে অনেকটা প্রকাশ্যে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দৌলতপুর-শাহবাজপুর সওজ রাস্তার দক্ষিণ পাশ সংলগ্ন বিএসএস ব্রিক্স ফিল্ডে ইট তৈরী হচ্ছে। ইট পুড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারী-বেসরকারী বনাঞ্চলের ব্যাপক কাঠ। ফিল্ডেই কাঠ ওজন দেয়ার বিশাল বাটখারা রয়েছে। শ্রমিকরা জানায় অফিস বাজারের আব্দুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী এ ফিল্ডে কাঠ সাপ¬াই দেন। এ ব্রিক্স ফিল্ডের অদুরে রয়েছে হাজী ইউনুছ মিয়া মেমোরিয়েল উচ্চ বিদ্যালয়, পরগনাহী দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসা, ইটাউরী মহিলা আলিম মাদ্রাসা, কবিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক সমজিদ ও বাজার। ইটভাটা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী যাতায়াত করেন। ট্রাকে-ট্রাক্টরে এ ব্রিক্স ফিল্ডের মাটি পরিবহণ করায় উপচেপড়া মাটি রাস্তায় পড়ে এবং ব্রিক্স ফিল্ডের ভিতরে মাটি ও ইটবাহী যানবাহন চলাচলের ফলে এলাকা ধুলিময় ও কাঠ পুড়ানোয় ধোয়াময় হয়ে মারাত্মক বায়ুদুষন হচ্ছে। অবৈধভাবে ইট তৈরী ও কাঠ পুড়ানোর কারণে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে প্রতিদিন মারাত্মক দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিএসএস ব্রিক্স ফিল্ডের ম্যানেজার আব্দুল আহাদ জানান, তাদের ব্রিক্স ফিল্ডের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড় রয়েছে। ইট ভাটায় কাঠ পুড়ানো অবৈধ স্বীকার করে জানান, সকল ফিল্ড মালিকই প্রথম দিকে কিছু না কিছু কাঠ পুড়িয়ে থাকেন। তিনিও সামান্য কাঠ রেখেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর (মৌলভীবাজার) জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক মো. বদরুল হুদা জানান, সনাতন পদ্ধতি পরিবর্তন না করায় বিএসএস ব্রিক্স ফিল্ডকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। অবৈধভাবে ইট ও কাঠ পুড়ানোর ব্যাপারে সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com