বড়লেখায় স্কুলভবন নির্মাণে অনিয়ম বাধা দেয়ায় প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত

আব্দুর রব॥ বড়লেখার চান্দ্রগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজে অনিয়ম হচ্ছে। বেশী দুরত্বে ভীমের রিং বাঁধা ও নিম্নমানের রড ব্যবহারে বাধা দেয়ায় ঠিকাদারের লোকজন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেনকে লাঞ্ছিত করেছে। তবে সংশি¬ষ্ট প্রকৌশলী কার্যাদেশ এবং ড্রয়িং অনুযায়ী নির্মাণ কাজ না করায় ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
জানা গেছে, চান্দ্রগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় নতুন ভবন নির্মাণের কাজ পায় বড়লেখার আহমদ শরীফ দেলোয়ারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘শরীফ এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু শুরু থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের ফাউন্ডেশন ভীমের রড বাঁধাইয়ে ব্যাপক অনিময় করছে। ব্যবহার করছে নিম্নমানের রড। ফাউন্ডেশন ভীমের রিং তিন ইঞ্চি অন্তর অন্তর থাকার কথা। কিন্তু সেখানে ৭/৮ ইঞ্চি অন্তর অন্তর দেয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের বাধা দেন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী। কয়েক দফা রড পরিবর্তন করতে বলেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাতে গড়িমসি করে। গত ২৯ জানুয়ারি উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল কাজের সাইটে গিয়ে দেখতে পান ভবনের ভীমসহ অনেক জায়গায় নিম্নমানের রড এবং রিং বাঁধাই আগের মতোই চলছে। কোনোটাই সঠিক করা হয়নি। এনিয়ে কথা বললে ঠিকাদারের লোকজন প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করে। এক পর্যায়ে গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা প্রকৌশলীকে উদ্ধার করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের ভীমসহ বেশ কয়েক জায়গায় নিম্নমানের রড ব্যবহার করা হয়েছে। ভীমের একেকটি রিং এর দূরত্ব ৩ ইঞ্চি অন্তরের স্থলে এগুলো ৭ থেকে ৮ ইঞ্চি দূরত্বে বাঁধা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত মিস্ত্রি আবু তালেব বলেন, ‘কিছু নিম্নমানের রড ছিল। এগুলো সরানো হয়েছে। রিংগুলোও ঠিক করা হবে। বাজে রড পরিবর্তন করা হবে। ইঞ্জিনিয়ারের সাথে শ্রমিকদের ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। এসময় তিনি সাইটে ছিলেন না। এ ঘটনায় উনার কাছে শ্রমিকরা ক্ষমা চেয়েছে।’
চান্দ্রগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘শ্রমিকরা ইঞ্জিনিয়ারের সাথে খুব বাজে আচরণ করেছে। কাজে অনিয়ম হওয়ায় তিনি বাধা দিয়েছিলেন। এরা কাজে অনিয়ম করতেছে বলে তাদেরও মনে হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার তো আরো ভালই বুঝতেছেন।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আহমদ শরীফ দেলোয়ার বলেন, ‘ভালো রডের সাথে নিুমানের ২ বান্ডেল রড ভুলে চলে আসে। শ্রমিকরা এগুলো ভুলে ব্যবহার করেছিল। এগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।’
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, ‘তারা ফাউন্ডেশন ভীমসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিম্নমানের (ননগ্রেড) রড ব্যবহার করায় পরিদর্শনে গিয়ে এগুলো পরিবর্তন করতে বলি। ৩ দফা বলার পরও ঠিকমত রড বদলানো হয়নি। সাইটে গিয়ে নিম্নমানের রড লাগানো এবং ফাউন্ডেশন ভীমের রিং তিন ইঞ্চি অন্তর অন্তরের স্থলে ৭/৮ ইঞ্চি দূরত্বে দেখে এগুলো কেন বদলানো হয়নি এবং কাজের গুণগত মান কেন নিশ্চিত হয়নি, এ নিয়ে কথা বললে ঠিকাদারের শ্রমিকরা রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে মারতে আসে। খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে। পরিকল্পিতভাবে তাকে ভেতরে রেখে বাইরের গেট বন্ধ করে দেয়। প্রাণে মারার হুমকি দেয়। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং কাজ বন্ধ রাখতে প্রধান শিক্ষককে বলেছি।’



মন্তব্য করুন