বড়লেখা ট্র্যাজেডির স্বজন হারানো চন্দনার ঠাই হল সরকারি শিশু পরিবারে

আব্দুর রব: বড়লেখার পাল্লাথল চা বাগানে লোমহর্ষক সিক্স মার্ডারের ঘটনায় মা, নানি, মামা-মামীসহ স্বজন হারিয়ে ঘাতক সৎ বাবার হাত থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া শিশু চন্দনাকে (৯) নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরকারি শিশু পরিবারে পাঠানো হয়েছে।
১৬ ফেব্রয়ারী রোববার বিকেলে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্বাবধানে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে তাকে শ্রীমঙ্গল সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯ জানুয়ারি ভোরে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন পাল্লাথল চা-বাগানের অস্থায়ী শ্রমিক নির্মল কর্মকার (৩৮) পারিবারিক কলহের জের ধরে তার স্ত্রী জলি বুনার্জি (৩০), শাশুড়ি ল²ী বুনার্জি (৬০), জলির ভাই বসন্ত বক্তা (৪৫) এবং তার মেয়ে শিউলি বক্তাকে (১৪) দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে নিজে ঘরের ভেতর ছাদের কাঠে ঝুলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন বসন্ত বক্তার স্ত্রী কানন বক্তা। ১ সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে তিনিও হাসপাতালে মারা যান। ঘটনার সময় কোনো মতে প্রাণে বেঁচে যায় জলি বুনার্জির আগের স্বামীর পক্ষের মেয়ে চন্দনা বুনার্জি (৯)। ঘটনার পর সব হারানো চন্দনার ঠাই হয়েছিল বাগানের হেডক্লার্ক অঞ্জন বাবুর বাড়ীতে।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, লোমহর্ষক পাল্লাথল ট্্র্যাজেডির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ইউএনও মোঃ শামীম আল ইমরান কথা দিয়েছিলেন শিশু চন্দনার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা তিনি দ্রæত করবেন। এরপর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটনের প্রচেষ্ঠায় বাগান কর্তৃপক্ষ চন্দনাকে সরকারি শিশু পরিবারে পাঠাতে সম্মত হয়। অবশেষে সকল প্রতিক্রিয়া শেষে রোববার বিকেলে ইউএনও মোঃ শামীম আল ইমরানের তত্বাবধানে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে তাকে শ্রীমঙ্গল সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম চন্দনাকে শ্রীমঙ্গল সরকারি শিশু পরিবারে পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেন।



মন্তব্য করুন