বড়লেখায় এবার সরকারের দোহাই দিয়ে চলছে টিলা কাটা!

আব্দুর রব\ বড়লেখায় এবার সরকারের দোহাই দিয়ে চলছে পাহাড়-টিলা কাটা। সরকারী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি প্রাকৃতিক টিলা কাটা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশি¬ষ্ট সকলকে কড়া নির্দেশ দিলেও কে শুনছে না। পরিবেশ বিপর্যয়কারী টিলা খেকোরা এতটাই প্রভাবশালী যে, মন্ত্রীর নির্দেশও তারা তোয়াক্কা করছে না। শনি ও রোববার নিজের নির্বাচনী এলাকা বড়লেখায় অবস্থানকালেও বেপরোয়া অবৈধ টিলা কাটা চলতে দেখা গেছে। প্রকাশ্যে এক্সকাভেটরে বে-আইনীভাবে প্রাকৃতিক টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। গত ৬ জানুয়ারী জাতীয় দৈনিকে ‘বড়লেখায় টিলা কেটে বিক্রি : হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হলে পরিবেশ অধিদপ্তর ৫ টিলা কর্তনকারীকে জরিমানা করেছে।
জানা গেছে, প্রভাবশালী টিলা খেকোরা এবার রেলওয়ের উন্নয়নকাজের দোয়াই দিয়ে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন টিলা ধংস করে মাটি বিক্রি করছে। টিলা খেকো চক্রটি প্রশাসনের সরকারী বিভিন্ন প্রোগ্রামে ডোনেশন দিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে আড়ালে পরিবেশ ধংস করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ভারী যানবাহনে অবৈধভাবে টিলার মাটি পরিবহন করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট। ধুলোয় ধুলিময় হয়ে উঠে এলাকা। শিক্ষার্থী, পথচারী ও এলাকাবাসী মারাত্মক দুর্ভোগ পোহালেও টিলাখেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মূখ খুলতে সাহস করে না। ভুক্তভোগীরা জানান, ৬ জানুয়ারী বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকদিন টিলা কাটা বন্ধ থাকে। কিন্তু জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহ থেকে চক্রটি পুনরায় শুরু করে টিলা কর্তন। সরেজমিনে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোড়ারগুল গ্রামের রফিজ আলী, ছওয়াব আলী, আব্দুল লতিফ, চেরাগ আলীর যৌথ বিশাল টিলা এক্সকাভেটরে কাটা চলতে দেখা গেছে। মাটি পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে ৬টি বড় ট্রাক ও ৩টি ট্রাক্টর। প্রভাবশালীরা দম্ভোক্তি করে বলে ইউএনও, ওসি, সাংবাদিক এমন কি স্বয়ং পরিবেশমন্ত্রীও টিলা কাটা বন্ধ করতে পারবেন না। সব সেক্টর তারা ম্যানেজ করেই টিলা কাটছে। গাড়ী চালক শরীফ উদ্দিন ও জুলহাস মিয়া জানান, রেলের উন্নয়ন কাজে মাটিগুলো নেয়া হচ্ছে। টিলার মালিক রফিজ আলীর স্ত্রী আমিনা বেগম জানান, সরকারের লোকজন টিলার মাটি কেটে নিচ্ছেন। অনুমতি রয়েছে বললেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। সুত্র জানিয়েছে, রেলের দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী ইয়াছিন আলী, ফয়সল আহমদ, কাজল মিয়া প্রমূখ টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছেন। এতে ধংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিনষ্ট হচ্ছে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা জানান, পরিবেশ আইনে টিলা কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। অবৈধভাবে টিলা কাটার অপরাধে ইতিমধ্যে বড়লেখার ৫ ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। টিলা কর্তকদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুসরাত লায়লা নীরা জানান, টিলা কাটার অপরাধে ইতিমধ্যে কয়েক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করেছে। এক ব্যক্তিকে ১ বছরের কারাদন্ডও দিয়েছে। এরপরও অবৈধভাবে টিলা কাটার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রæত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য করুন