করোনা রোধে মৌলভীবাজারে সাধারণ মানুষকে ঘরে ফেরাতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন!

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম॥ শনিবার ৪ এপ্রিল জেলার রাজনগর উপজেলায় মারা যাওয়া ব্যবসায়ীর শরীরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমন ছিল এমন তথ্য মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ তাউহীদ আহমদ নিশ্চিত করা পর জেলার প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ায় জেলাজুড়ে চারিদিকে আতঙ্ক আর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় প্রশাসন রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম লকডাউন করে ফেলে। এমন অবস্থায় সংক্রমন রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে চলে যেতেও বাধ্য হয়।
সোমবার ৬ এপ্রিল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মৌলভীবাজার শহরের কুসুমভাগ, পশ্চিমবাজার,সেন্ট্রাল রোড,চৌমুহনা, আদালত সড়ক, শাহমোস্তফা সড়ক,বেরিরপাড়সহ বিভিন্ন সড়কে কেউ পায়ে হেটে কেউবা রিকসা যোগে গন্তব্যে যাচ্ছেন। সময় যত গড়াচ্ছে তত শহরমূখী মানুষের যাতায়াতও যেন বেড়ে চলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষকে আইন মানাতে কিংবা ঘরে ফেরাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সাথে শহরের পথে পথে সশস্ত্রবাহিনীর তৎপরতাও দৃশ্যমান দেখা যায়।
শহরের প্রতিটি প্রবেশপথে মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যদেরকে যানবাহন প্রবেশে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করতে দেখা গেছে। পশ্চিমবাজারে দোকানপাঠ বন্ধ রাখতে ও সাধারণ মানুষকে ঘরে ফেরাতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। দুপুরের দিকে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করছেন ঘরে ফিরে যেতে।
এর আগে রবিবার রাত ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের ব্যবহৃত ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সোমবার ৬ এপ্রিল বিকাল পাঁচটার পর থেকে কাঁচাবাজারসহ মৌলভীবাজার জেলার সকল দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন। তবে জরুরী সেবা এর আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।
অর্থাৎ সকাল থেকে বিকেল ৫টার আগ পর্যন্ত কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। পাঁচটার পর তা বন্ধ করে দিতে হবে। তবে ফার্মেসি, হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ জরুরি সেবা এর আওতামুক্ত থাকবে।
এছাড়া করোনার সামাজিক সংক্রমণ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের কথাও জানান জেলা প্রশাসক। এ ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষকে ঘরে ফিরাতে এবং দোকানপাঠ বন্ধ রাখতে পুলিশের ১০টি টিম মাঠে কাজ করছে। তিনি বলেন, সংক্রমন রোধে প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে পুলিশ।
এদিকে বিকাল পাঁচটার দিকে শহর ও আশপাশের এলাকায় দোকানপাঠ বন্ধ রাখতে সেনাবাহিনীকে টহল দিতেও দেখা যায়।



মন্তব্য করুন