সিপিবি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ১৪দফা প্রস্তাব সম্বলিত স্মারকলিপি

April 26, 2020,

স্টাফ রিপোর্টার॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বানসহ ১৪দফা প্রস্তাব সম্বলিত স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে সিপিবি মৌলভীবাজার জেলা কমিটি ।

২৬ এপ্রিল রোববার সকালে সিপিবি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি এড মকবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এড নিলিমেষ ঘোষ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে,- প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মহা সংকট মোকাবেলা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে এ সংকটকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে দেশের সবার অংশগ্রহণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভা আহবান করা জরুরি।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জনগণের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা, প্রত্যেক জেলায় করোনা পরীক্ষা ল্যাব স্থাপন করে ব্যাপক জনগণের করোনা পরীক্ষা করা, অন্য সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, বেসকরারি হাসপাতালের ল্যাবসমূহ যেগুলো করোনা পরীক্ষার উপযোগী সেগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য দেশের তারকা হোটেল ও জেলা সদরের ভালো হোটেলসমূহ ছয় মাসের জন্য অধিগ্রহণ করা, করোনা সনাক্তদের চিকিৎসা অন্য সাধারণ হাসপাতালে না করে বিশেষায়িত হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং এজন্য ব্রাজিল, চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আর্মি স্টেডিয়ামসহ সব জেলা-উপজেলা সদরের স্টেডিয়ামসমূহে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা জরুরি। অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতালের সরঞ্জাম ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার করা যেতে পারে।

পাশাপাশি করোনার এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত তহবিল গঠন করা, প্রয়োজনে বাজেটের পুনর্বিন্যাস করে অপ্রয়োজনীয়খাতের বরাদ্দ বাতিল এবং প্রয়োজনে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে এ তহবিলে বরাদ্দ করার আহ্বান জানান তারা। বস্তিবাসী, হকার, রিকশা-ভ্যান-অটো রিকশা-সিএনজি চালক, পরিবহন শ্রমিক, ফুটপাতের ছিন্নমূল মানুষ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী, গ্রামের দিনমজুর, ভূমিহীন নিন্মবিত্ত মানুষসহ হতদরিদ্র সবার আগামী ৩ মাসের খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। শুধু আমলা প্রশাসন ও সরকার দলীয় লোক দিয়ে নয় সর্বদলীয় জাতীয় কমিটির মাধ্যমে করোনা ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা যেন সবার ত্রাণ প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। ফুটপাতের ছিন্নমূল মানুষদের আপদকালীন সময়ের জন্য বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারে থাকার ব্যবস্থা করে প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দিতে হবে।

স্মারকলিপিতে উপরোক্ত প্রস্তাবসমূহ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com