রমজানে দারুল ক্বিরাত বন্ধ থাকায় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন অসহায় ক্বারীরা

স্টাফ রিপোর্টার॥ পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকেই এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দারুল ক্বিরাত সেন্টারে শুরু হত দারুল ক্বিরাত। সহি পবিত্র কোরআন শিক্ষার প্রতিষ্ঠান দারুল কিরাতে মানুষকে তারতীল ও তাজবীদ সহকারে কুরআন শিক্ষা দেয়া হত। সুদু দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও আছে এই সহিহ কোরআন শিক্ষার প্রতিষ্ঠান দারুল ক্বিরাত।
১৯৪০ সালে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী ছাহেব বাড়ীতে দারুল ক্বিরাত প্রতিষ্ঠা করা হয়। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সর্বপ্রথম কুরআন শিক্ষার এ পদ্ধতি চালু করেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ, শরীয়ত ও তরীকতের হাদী শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)।
বিশ্বে করোনা ভাইরাস (কভিড ১৯) ছড়িয়ে পরায় বন্ধ হয়ে গেছে সহি কুরআন শিক্ষার প্রতিষ্ঠান দারুল ক্বিরাত। শুনা যায় না মসজিদের মাইকে কুরআন এর মধুর সুর, ছোট্র সুনামনিরা আর আসেনা মসজিদে। রমজান মাস আসলেই মসজিদে মসজিদে ছিলো সহি কোরআন শিক্ষা। এখন প্রতিটি মসজিদেই বন্ধ রয়েছে কোরআন শিক্ষা।
প্রায় ৮০ বছর পর এই প্রথম দারুল ক্বিরাত করোনা ভাইরাসের কারনে বন্ধ রয়েছে। দেশে দারুল ক্বিরাত সেন্টার আছে প্রায় ২৩শ। আর বিভিন্ন দেশে আছে প্রায় ৩শ। এসকল দারুল ক্বিরাত সেন্টারের জন্য প্রধান ক্বারী সহ প্রতি সেন্টারে ৬ থেকে ১২ জন হিসেবে শুধু মৌলভীবাজার সদরে ক্বারী আছেন প্রায় ৩ হাজার।
রমজান মাস আসলেই দারুল ক্বিরাতের স্টোরের জন্য প্রধান ক্বারী ও সহকারি ক্বারী নিয়োগ দেয়া হত। ক্বারীদের মধ্যে অনেক ক্বারীরা আছেন অসহায়, পুরো রমজান মাস দারুল ক্বিরাত পড়াতেন তারা। ছাহেব বাড়ি ২৯ রামাদ্বান পর্যন্ত চলেও ২৮ রামাদ্বান দারুল ক্বিরাত সেন্টার গুলো সমাপ্ত হত। তখন এলাকার অনেক বিত্তবানরা অসহায় ক্বারীদের সম্মানি দিতেন, সেই সম্মানি দিয়ে ঈদের বাজার করে বাড়িতে যেতেন। কিন্তু এবছর তা হচ্ছেনা ।
মাওলানা শফিকুল ইসলাম বলেন সরকার অনেক কিছুতে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে,কিন্তু আমাদের জন্য কোন ধরনের কোন প্রণোদনা ঘোষণা করেনি। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমরা চাই যারা দিনের পথে কুরআনের খেদমত করে সরকার তাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি দিবেন।
ক্বারী সোসাইটির সাংগঠনি সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসরাম মাসুক বলেন রমজান মাসে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। এই কুরআন নাজিলের মাসে আমরা কুরআন পড়াতে পারছিনা এটা আমাদের মনে খুব কষ্ট দেয়। তাছাড়া দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে দারুল ক্বিরাত পড়িয়েছি ২৮ বছরে এসে দারুল ক্বিরাত পড়াতে পারলাম না।
লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সভাপতি মাওঃ আব্দুস সোবহান জিহাদী বলেন অনেক অসহায় ক্বারীরা আছে যারা প্রতি রমজান মাসের আশায় দীর্ঘ একটি বছর অপেক্ষা করেন, দারুল ক্বিরাত পড়াবেন, ঈদের আগে হাসি মুখে বাড়িতে যাবেন। এবার করোনা ভাইরাসের কারনে দারুল ক্বিরাত সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের ক্বারী সোসাইটির পক্ষ থেকে ক্বারিদের আর্থিক কিছু সহযোগীতা করেছি। তবে সরকার যদি ঈদের আগে এই ক্বারীদের আর্থিক সহযোগীতা করেন তাহলে ঈদটা ভালো ভাবে করতে পারবে।
শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী (রহ.) উনার সহি ও শুদ্ধ করে পবিত্র কুরআন শরীফ পড়ার জন্য চালু করেছিলেন দারুল ক্বিরাত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
এ সূরের মূর্ছনায় গোটা সমাজব্যবস্থাকে আলোকিত করতে পেরেছিলেন। এই অনন্য খেদমতের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলেই গোটা সমাজব্যবস্থা আল-কুরআনের আলোয় আলেকিত হয়ে উঠবে এমটাই মনে করছেন আলেমগন।



মন্তব্য করুন