করোনায় কর্মহীন হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা ও রেশন প্রদানের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার॥ রেজিষ্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩০৫-এর পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা, ত্রাণ সামগ্রী ও রেশন প্রদানের দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুই্টমিট শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বানে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ মে রোববার সকাল ১১ টায় জেলা রিকশা হোটেল ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপিটি প্রদান করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ তারেশ বিশ্বাস সুমন, সদর উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি মোঃ জামাল মিয়া, মনা মিয়া, আলমগীর হোসেন প্রমূখ। স্মারকলিপির অনুলিপি শ্রম প্রতিমন্ত্রী, শ্রম সচিব, শ্রমঅধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হোটেল সেক্টরের কর্মরত শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ সেক্টরের শ্রমিকদের মাসিক গড় আয় আট থেকে দশ হাজার টাকার নিচে। যাদের অধিকাংশের মজুরি দৈনিক ভিত্তিতে হওয়ায় ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ নিয়মে মালিকরা মজুরি প্রদান করে আসছে। করোনা ভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে সমস্ত হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত মালিকরা শ্রমিকদের কোন মজুরি প্রদান করে নি। বছরের পর বছর ধরে যে শ্রমিকরা একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে আসছে দেশের সাধারণ ছুটির কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদেরকে মজুরি প্রদান না করা সুস্পষ্ট শ্রম আইন লংঘন। যে শ্রমিকদের দিয়ে মালিকরা লক্ষ/কোটি টাকা মুনাফা করেছে, আজ দুঃসময়ে মানবিক কারণেও তারা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি।
করোনা দুর্গত পরিস্থিতিতে মহামারী মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত ‘ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন’ কর্মসূচির কারণে ১৩ এপ্রিল কর্মহীন হয়ে পড়া অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকগণের আর্থিক/খাদ্য সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৭৬০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেন। এ প্রেক্ষিতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে শ্রমিকদের তালিকা সংগ্রহসহ ব্যাংক/ মোবাইল একাউন্ট করার তাগিদ দেন। মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৩০৫ এর পক্ষ থেকে গত ৫ মে ২০২০ মাননীয় জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ কার্যক্রণ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে ১১০৬ জনের তালিকা প্রদান করা হলেও অদ্যাবধি কোন ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ১২ এপ্রিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শ্রম অধিদপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে সারাদেশে ক্রাইসিস মানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটির কর্ম-পরিধিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক বাঁচাতে সরকারের আর্থিক সহায়তার যেনো আওতাভুক্ত হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ডাটাবেজ তৈরীর কথা বলা হয়। তার প্রেক্ষিতে হোটেল শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি করে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি বা স্ব স্ব অঞ্চলের ইউনিয়ন/ ফেডারেশনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলার সমন্বয় কমিটির তৎপরতার সাথে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উল্লেখিত নির্দেশনাকে কোথাও সমন্বয় করা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করে তালিকা প্রদানের কথা বলা হচ্ছে। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকক্ষেত্রে নাগাল না পেয়ে এবং তালিকাভুক্ত হতে না পেরে শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে ছুটছে। উপরন্তু বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে স্থানীয় কাউঞ্চিলরদের পছন্দ এবং দলীয় বিবেচনায় ত্রাণ সামগ্রি প্রদানের জন্য কিছু তালিকা হচ্ছে। যেসব তালিকায় হোটেল শ্রমিকসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষদের ঠাঁই হচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় কেবল মাত্র ভোটারদের ( জাতীয় পরিচয় পত্র দেখে) বিবেচনা করা হচ্ছে বিদায় বাহির থেকে যেসব অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ এসে শহরের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলেছে তারা এর আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ফলে অসহায় হোটেল শ্রমিকরা দারিদ্রতার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছুটাছুটি করছে। কোথাও থেকে তাদের খাদ্য সামগ্রি প্রদানের নিশ্চয়তা না পেয়ে হতাশা ও গ্লানিতে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে “সংগনিরোধ” বজায় রাখতে সরকারের ‘ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শ্রমিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে প্রায় দুই মাস যাবত কর্মহীন হোটল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করে রেশন কার্ড, খাদ্য সহায়তা ও নগদ আর্থিক সহযোগিতা জরুরি ভিত্তিতে প্রদান আবশ্যক হয়ে উঠেছে।



মন্তব্য করুন