চাল চুরি অভিযোগ : শুধুই কি জনপ্রতিনিধিরা দায়ী, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরো কিছু কার্যকারন?

বিকুল চবক্রবর্তী॥ সম্প্রতি চাল চুরি নিয়ে দেশব্যাপী কিছু সংবাদে আমরা বিষন্ন হচ্ছি। বিরুপ প্রভাব পড়ছে জনগণের মনে আবার জনগণ এই ভেবে আশান্বিত যে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রত্যেকটি ঘটনার। এই চাল চুরির জন্য অনেকেই জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করছেন। একটা সামাজিক আন্দোলনের মতো মুখে মুখে ভাসছে, কতিপয় চেয়ারম্যান-মেম্বার চালচুর, গমচুর। কেউ কেউ জনগণের মাঝে বলাবলি করছেন, ত্রানের চাল মেরে খাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। আসলে বাস্তবতা কি, নাকি রয়েছে আরো কিছু কার্যকারন। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে তালিকা, চালের কার্ড আর মাষ্টার রোলে নামে সমন্বয় নেই। হযবরল অবস্থা। ডিলারের আয়ের চেয়ে ব্যায় বেশি। অভাব রয়েছে তদারকি কর্মকর্তার। এ অবস্থায় নায্য প্রাপ্তদের অভিযোগ আছেই। আর এর দায় সরাসরি গিয়ে পড়ছে জনপ্রতিনিধিদের উপরে। তবে আশার বিষয় এ অবস্থায় বুধবার খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ১০ টাকায় ৩০ কেজি চালের তালিকা যাচাই বাছাই করে নতুন করে প্রকৃত গরিব ও দুস্থদের নাম অন্তরভুক্ত করে নতুন তালিকা তৈরী করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ এলাকায় চাল চুরির একাধিক ঘটনা আমাদের সামনে উঠে এসেছে। এরমধ্যে ৩টি ঘটনায় চালসহ আটক হয়েছেন অভিযুক্তরা। একটি ঘটনায় দুইজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে।
এ নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১০ টাকা কেজির চাল দুইজন সাধারন মানুষের (যারা ১০ টাকার তালিকায় অর্ন্তভুক্তি নন) কাছে পাওয়ায় দুইজনকে ৯০ কেজি চালসহ আটক করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। ২য় ঘটনা একই কর্মসূচীর ৩৮৫ চাল এক মুদি দোকানীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে র্যাব- ৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের জোয়ানরা। উদ্ধার করা হয় চালের বস্তাও। ৩য় ঘটনা কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুরের ইসলামপুরে চালের ডিলার ও তার পুত্র আটক হয়েছেন একই অভিযোগে। সর্বশেষ ঘটনা শ্রীমঙ্গল কালাপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যকে একই কর্মসূচীর চাল চুরি ও অনিয়মের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করে ১০ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটিজেনদের মাঝে ঝড় উঠে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর কার্যালয় থেকে জানা যায়, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৬,৪৯৬ জনকে বছরে ৫ বার ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রত্যেক ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি কমিটি ও উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটির সম্পৃক্ততা রয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি তালিকা প্রনয়ন করবে। উপজেলা কমিটি বরাদ্দ অনুযায়ী কার্ড দিবে। এ ক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ডের ফটো কপি ও ছবি সংগ্রহ করে দিবে ইউপি সদস্য ও মহিলা সদস্যরা। কিছু নাম দেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানও। কার্ড হওয়ার পর কিছু উপকারভোগীকে প্রথম দিকে উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ছবি দেখে বিতরণ করেন খাদ্য অধিদপ্তর। বাকী কার্ডগুলো ইউনিয়ন থেকে বিতরণ করা হয়। এই কার্ড দেখে চাল বিতরণের জন্য নিয়োগ করা হয় ডিলার। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ২০জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদেরকে ওয়ার্ড ভাগ করে দেয়া হয়েছে। সেই ওয়ার্ড অনুযায়ী চাল প্রাপ্তদের তালিকার একটি মাস্টার কপি চলে যায় প্রত্যেক ডিলারের কাছে। ডিলাররা ছবি দেখে মাষ্টাররোলে স্বাক্ষর বা টিপ সই নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে কেজি প্রতি ১০ টাকা করে নিয়ে চাল বিতরণ করবেন। আর এটি তদারকির জন্য থাকেন খাদ্য অধিদপ্তর থেকে মনোনিত উপজেলা প্রশাসনের একজন অফিসার। এখানে ইউপি সদস্যের ভূমিকা তালিকা প্রদান পর্যন্ত আইনানুগভাবেই শেষ হয়ে যায়। আর ইউনিয়ন পরিষদের গাফিলতি হতে পারে তিনি তাদের পছন্দের লোকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তি প্রদান করা নিয়ে। কিন্তু চাল চুরিতে আইনিভাবে তাদের হস্তক্ষেপ থাকে না। এর দায় ডিলার ও ডিলারকে যারা নিয়ন্ত্রন করেন তাদের। দুইজন ইউপি সদস্য বরখাস্ত হওয়ার পর সরেজমিনে কালাপুর ইউনিয়নের ১,২ও ৩ নং ওয়ার্ডে গেলে এবং অনেকের সাথে যাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের শোকজ করা হয় তাদের সাথে কথা বলে যে বিষয়টি উঠে আসে তা হলো ডিলারের ছলছাতুরী। অধিকতর সরল ও দূর্বল প্রকৃতির মানুষরা হন তাদের লোভ লালসা ও প্রতারণা শিকার। এমনই একজন শ্রীমঙ্গল কালাপুর গ্রামের রঞ্জিত দেব। তিনি একজন সরল প্রকৃতির মানুষ। খুব কষ্ট করে তাদের জীবন চলে। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে তিনি খাদ্যবান্ধব কার্ড পান। ডিলার আনোয়ার মিয়ার কাছ থেকে প্রথম কিস্তির চালও তিনি নেন। ২য় মাসে চাল আনতে গেলে ডিলার তার কার্ড রেখে তার নাম বাতিল হয়ে গেছে বলে জানায়। তারাও সরল মনে তা বিশ্বাস করেন। এ ব্যাপারে কথা হয় রঞ্জিত দেবের স্ত্রীর সাথে। তিনি জানান প্রথমবার চাল দিয়ে ২য় বারের সময় ডিলার তাদের কার্ড রেখে দেয়। আর চাল পাননি। তবে বিষয়টি কাউকে জানাতে হবে তা তারা বুঝতে পারেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্যকেও তারা জানাননি। এ সময় তিনি তাদের কার্ড ও তাদের নায্য চাল ফিরে পেতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এ ব্যাপারে কথা হয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমানের সাথে তিনি জানান রঞ্জিত দেব খুবই গরীব মানুষ। তিনি ১০ টাকার চালে তাদের নাম তালিকা ভূক্ত করে দিয়েছেন। তবে তাদের কার্ড রেখে দিয়েছেন ডিলার। বিষয়টি কোন ভাবেই তার নজরে আসেনি। রঞ্জিত দেবও জানাননি। যদি জানতেন তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতেন। তবে তিনি জানান, এখন যেহেতু তিনি জেনেছেন তার কার্ড ও চাল ফিরে পেতে সহায়তা করবেন। তবে শ্রীমঙ্গল খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তকবির আহমদ জানান, চাল পাওয়ার মাষ্টার রোলে রঞ্জিত দেবের নাম নেই। কার্ডে তার নাম্বার ছিলো ২৩৪ কিন্তু মাষ্টার রোলে দেখা যায় ২০১৬ ইং তার নাম্বারের জায়গায় ২৩৪ এ আছে সায়রা বেগমের নাম। আবার ২০২০ সালে সায়রা বেগম ১৯১ নম্বরে চাল তুলছেন।
চালের তালিকায় নাম আছে কিন্তু চাল পাননি কালাপুর গ্রামের ছমিরুন নেছা। কথা হয় তার সাথে তিনি জানান, ২/৩ বছর আগে তাদের গ্রামের সাদেক মিয়া তার কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধনের কপি ও দুই কপি ছবি নিয়েছে। কিন্তু তাদের কোন কার্ড দেয়নি। এর পর বহুবার তিনি সাদেক মিয়াকে বলেছেন কার্ডের জন্য সে তাদের আগামীতে হবে হবে বলে এড়িয়ে যায়। তবে ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমানের সাথে তাদের যোগাযোগ কম বলে তারা কখনও কার্ডের জন্য তার কাছে যাননি বলে জানান। তিনি জানান, রোজা শুরু হওয়ার আগের দিন তারা জানতে পেরেছেন তাদের নামে চালের কার্ড হয়েছে কিন্তু তাদের দেয়া হয়নি। এ সময় তিনি তার প্রাপ্য চাল ও কার্ড দেয়ার দাবী করেন সংশ্লিষ্টদের কাছে। কথা হয় রোজিনা আক্তার নামে কালাপুর গ্রামের আরেক ভুক্তভোগীর সাথে তিনি জানান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তার কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড নিয়েছেন ১০ টাকা কেজির চালে তার নাম দেয়ার জন্য। কিন্তু তাদের কোন কার্ড দেননি। তাদের নামে কার্ড হয়েছে তাও তিনি জানেন না। এ ব্যাপারে পরে জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা হলেও কোন সফলতা পাননি। এক মাস আগে তিনি জানতে পেরেছেন তাদের নামে কার্ড আছে। তবে ছমিরুন নেছার মতো তারও দাবী তার কার্ড ও চাল ফিরিয়ে দিবেন সংশ্লিষ্টরা।
কথা হয় চাল প্রাপ্ত সমিরণ শীল নামে কালাপুুরের আরেকজনের সাথে। তিনি জানান, মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে তিনি কার্ড পেয়েছেন চাল আনতে তাকে কেউ বাঁধা দেয়নি। তবে মাঝেমধ্যে তিনি এলাকায় না থাকায় এবং সময় মতো টাকা যোগার না করতে পারায় চাল আনেন নি।
কথা হয় কালাপুরের যোগেশ দেব এর মেয়ের সাথে তিনি বলেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে তার বাবা কার্ড পেয়েছেন। তার বাবা এখন নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। এই চাল পাওয়ায় তাদের খুব উপকার হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কালাপুর ইউনিয়নের সদস্য মুজিবুর রহমান জানান, কালাপুর ইউনিয়নের চার জন চাল পাচ্ছেন না। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যকে ১০ দিনের মধ্যে কারনদর্শাতে বলা হয়েছে। তার ওয়ার্ডে অসচ্ছলতা বিবেচনায় তিনি নাম দিয়েছেন। সবাই চাল পাচ্ছেনও। তবে যে চার জনকে ডিলার চাল দেয়নি তা তার সম্পুর্ন অজানা। কারন ডিলারের চাল বিতরণে জনপ্রতিনিধিদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। আর যারা চাল পাচ্ছেনা তারা কখনও তাকে জানায়নি। জানলে অনেক আগেই তিনি ব্যবস্থা নিতেন।
বিষয়টি অনুসন্ধানে প্রতিয়মান হয় কিছু অসাধু ডিলার ছলতাতুরী করে তারা এক এক ওয়ার্ডের ১৫/২০টি কার্ড নিজেদের কাছে রেখে দেয় এবং নিজেরাই টিপসই দিয়ে তা আত্মসাৎ করে। শুধু আত্মসাৎ নয় অনেক সময় টাকা যোগাড় করতে না পারায় এবং বাড়িতে না থাকায় কিছু ভুক্তা চাল নিতে আসেন না। কিংবা সময়ের পরে গেলে ডিলার তাদের চাল দেন না। কিন্তু এই চাল তারা খাদ্য অধিদপ্তরকে ফেরত দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা ফেরত দেন না। নিজেরা টিপসই দিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। এমনকি দেখা গেছে, বস্তা থেকে ১/২ কেজি চাল সরিয়ে রেখেও ত্রিশ কেজির দাম নিয়ে বিক্রি করছে কতিপয় অসাধু ডিলার।
অন্যদিকে চালের বিষয়টি কারা নিয়ন্ত্রন করেন। এটি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সরাসরি চলে যায় ডিলারের কাছে। ডিলার কার্ড দেখে তা বিতরণ করেন। এখানে আইনত জনপ্রতিনিধির কোন দায়ই নেই। চাল বিতরণের মাস্টার রোলে স্বাক্ষরও দিতে হয়না কোন জনপ্রতিনিধিদের। এখানে সঠিক মর্মে ডিলার ও তদারকি কর্মকর্তার স্বাক্ষর দিতে হয়।
এ ব্যাপারে কথা হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তকবির আহমদের সাথে তিনি জানান, দূর্নীতির দায়ে কালাপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার আনোয়ার হোসেনকে বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, পুরো উপজেলায় ৬ হাজার ৪শত ৯৬ জনকে চাল দেয় হয়। তারা মাত্র দুইজন কর্মকর্তা তাদের পক্ষে সবসময় সঠিকতা যাচাই করা কষ্টসাধ্য। এখানে আরো লোকবল প্রয়োজন। সঠিক তদারকির অভাবে অনেকে সুযোগ নিচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠে আমাদের ব্যাপক অনুসন্ধানে।
এদিকে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে দূর্নীতির অবশ্যম্ভাবী কারন। খাদ্যবান্ধব এ কর্মসূচীর জন্য প্রতি ডিলারকে কেজি প্রতি দেড় টাকা করে কমিশন দেয়া হয়। ডিলাররা সাড়ে ৮ টাকা করে জমা দেন এবং ১০ টাকা করে বিক্রি করেন। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় উপজেলায় ৬ হাজার ৪শত ৯৬ জনের জন্য ৩০ কেজি করে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮শত ৮০ কেজি চাল বিক্রি করে ২০ জন ডিলার পান ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৩শত ২০ টাকা। এতে প্রতি ডিলারের গড় আয় হয় ১৪ হাজার ৬শ টাকা। এদিকে একজন ডিলারের খরচ হিসেব করলে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল খাদ্য গোদাম থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে ট্রাক ভাড়া গড়ে- ৩ হাজার টাকা, চাল রাখার জন্য গোদাম ভাড়া ৫ হাজার, চাল বিতরনে শ্রমিকের বেতন ৬ হাজার টাকা, মাল ট্রাকে উঠানো ও নামানো খরচ ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা, খাতা পত্রসহ আনুসাঙ্গিক ব্যায় মাসে আরো হাজার টাকা। এতে দেখা যায় একজন ডিলারের গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়। এ অবস্থায় নয় ছয় এর যথেষ্ট সম্ভাবনা থেকেই যায়।
শ্রীমঙ্গলের একজন ডিলার অমলেন্দু চন্দ জানান, এটাতে তেমন লাভ নেই। নিজের ঘর থাকায় এবং তার বড় ভাই এ কাজে সহায়তা করায় তিনি কাজটি পরিচালনা করতে পারছেন। তিনি জানান, তার অবিক্রিত চাল তিনি সমন্বয় করেন পরের মাসে। শ্রীমঙ্গল খাদ্য অধিদপ্তরের রেকর্ড এ দেখা যায়। গত মাসে মির্জাপুরের আব্দুর রশিদ চাল সমন্বয় করেছেন ৬০ কেজি, ভুনবীরের বেলাল আহমদ ৩০ কেজি, ভুনবীরের সুকেশ দেব ৯০ কেজি, কালীঘাটের সূধীর চাষা ২৪০ কেজি, অমলেন্দু চন্দ ১৮০ কেজি। অনেকেই করেনেনি।
অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, কিছু ভোক্তা চাল নিয়ে পরে দোকানে বা অন্যদের কাছে বিক্রি করে তারা অন্যকাজে টাকা ব্যয় করেন। এ ক্ষেত্রে বস্তাসহকারে দিয়ে দেন। আর সরকারেরও নিয়ম নেই বস্তা ফেরত নেয়ার।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়ের সাথে তিনি জানান, ১০ টাকা কেজির চালের অনিয়নে আইনী ভাবে কোন জনপ্রতিনিধিকে অভিযুক্ত করার সুযোগ নেই। কারন এই প্রকৃয়ায় খাদ্য অধিদপ্তর টেগ অফিসার ও ডিলার সমস্ত কর্মকান্ড সম্পাদন করেন। এখানে স্বাক্ষর হচ্ছে ডিলার ও টেগ অফিসারের।
ঠিক এ অবস্থায়, সারাদেশে আলোড়ন তোলা এ চাল-চুরির ঘটনার জন্য সিস্টেমের দুর্বলতাকেই অনেকে দুষছেন। সাথে যোগ হয়েছে ডিলালের কারসাজি ও কতিপয়ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কারসাজির করার উদ্দেশ্যে সম্পর্ক বা সিন্ডিকেট। আর জনপ্রতিনিধিরা পড়ে গেছেন এই সিস্টেমের দুর্বলতার ফারাকে।
অন্যদিকে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির এ খাতগুলোকে যুগোপযোগীভাবে নতুনভাবে পর্যালোচনার দাবী জানান, সমাজের বিশিষ্ট লোকেরা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন আ্যকটিভিস্টরা সরব হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ন্যাশনাল ডাটাবেজের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে সরাসরি জিটুপি ভিত্তিতে মোবালই ব্যাংকিং বা কিউআর কোড কার্ড প্রদানের মাধ্যমে সরকারী সহায়তা পৌঁছানোর জন্য। যার অনেকটাই সরকার ইতিবাচকভাবে দেখে, ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই ভুলবুঝাবুঝি ও সমন্বয়হীনতা সরকারের ভাবমুর্তির জন্য শুভপ্রদ নয়। সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণাকারীর অন্য কোনও পরিচয়কে প্রাধান্য না দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তবে ঢালাওভাবে জনপ্রতিনিধিদের একতরফাভাবে দোষারোপ করলে বাকিরা হাতছাড়া হবে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি জনগণ আস্থাহীন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে সরকার প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়ে যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে, সাধারণ মানুষের সমর্থন ও আস্থা যেভাবে সরকারের প্রতি বাড়ছে, এটিকে বাধাগ্রস্থ করতেই অনেকেই এ থেকে ফায়দা হাসিলের লক্ষে গোপন রাজনৈতিক অভিসন্ধিতে পায়তারা করার ব্যাপারে লিপ্ত থাকতে পারে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ সুকৌশলে ফায়দা নেওয়ার লক্ষে অনেক সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে জনপ্রতিনিধিদের বিপক্ষে দাঁড় করানোর পায়তারায় লিপ্ত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, এরুপ ক্ষেত্রে যেকোন ব্যবস্থা নেওয়ার পুর্বে অধিকতর তদন্ত করে সকল পর্যায় অনুধাবন করে তারপর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই যুক্তিযুক্ত হবে বলে মনে করছেন নাগরিকরা। আর যেহেতু দেশ ডিজিটালে রুপান্তরিত হয়েছে তাই, প্রত্যেক নাগরিকের নামে সিটিজেন পোর্টফোলিও করে দিলে নাগরিকরা সময়ে সময়ে নিজেদের তথ্য নিজেরাই লগইন করে সরাসরি জানাতে পারবেন আর এ ডিজিটাল জাতীয় তথ্যভান্ডার থেকে সরকার সহজেই জানতে পারবে কোথায়, কার কি সহায়তা প্রয়োজন? সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে ব্যাপক সুবিধা। এক্ষেত্রে, এক শ্রেণীর লোকের বায়বীয় অভিযোগ যেমন নিজেদের দলের লোককে দেওয়া হচ্ছে সকল সুবিধা – এ জাতীয় কথার আর অবকাশ থাকবে না, থাকবে না জনপ্রতিনিধিদেরকেও বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়কে দোষারোপের কোন কার্যকারন। এ ব্যাবস্থাটি সকল শ্রেণীর নাগরিকের জন্য করা অতি প্রয়োজন বলে মতামত ব্যক্ত করেন সুধীজনরা। এই সাথে ডিলারের মাধ্যমে তা অভ্যাহত থাকলে সেখানে ডিলারের কমিশন বাড়ানো বা আনুসাঙ্গিক খরচ সরকারকে বহন করতে হবে। টেগ অফিসার বাড়াতে হবে। সর্বোপরি মোবাইলে একটি এপস এর মাধ্যমে চাল নেয়ার জন্য মোবাইলে ম্যাসেজ এবং পাওয়ার পর ফিরতি ম্যাসেজের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।



মন্তব্য করুন