মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে করোনাআক্রান্ত রোগীর ভোগান্তি

June 23, 2020,

সাইফুল ইসলাম॥ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি রোগীরা সময়মতো ওষুধ ও খাবার পাচ্ছেন না। তার ওপরে হাসপাতালে মশার উপদ্রব থাকা সত্ত্বেও মশারি কিংবা কয়েলের ব্যবস্থা নেই। দিনের পর দিন সেখানে যান না চিকিৎসকরা। এমতাবস্থায় আইসোলেশন ওয়ার্ডের দেখাশোনা করছেন হাসপাতালের নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
১৩ জুন করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মর্জিনা আক্তার কাছে সোমবার ২২ জুন এসব অভিযোগের কথা জানান। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অপরাজিতা প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রিপট্রাস্টের মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়কারী।
মর্জিনা বলেন, “প্রতিদিন সকালের নাস্তা দেওয়া হয় ১১টায়, দুপুরের খাবার বিকেল ৪টায় আর রাতের খাবার দেওয়া হয় রাত ১০টায়। ভর্তি হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ এর নমুনা নিয়েছেন। ২২ জুন সোমবার পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনি।”
চিকিৎসাসেবায় গাফিলতির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কোনো ডাক্তারের দেখা পাইনি। সঠিক সময়ে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকে একটা, রোগীকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে অন্যটা।”
“মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশারি বা কয়েল চাওয়া হলে ঝাড়ুদাররা বলে বাসা থেকে নিয়ে আসতে।” হাসপাতালটির করোনা আইসোলেশনে থাকা অপর দুই রোগী সম্পা বৈদ্য (৩২) ও জগদীশ সরদারও (৪২) একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহি এলাকায় রহমান মিয়া জানান, ২১ জুন তার ভাই দুরুদ মিয়ার জ¦র, স্বাসকষ্ট দেখা দিলে শহরের শ্রীমঙ্গল সড়কে চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নেন। পরে বাড়ি ফেরার পথে তার শরিরের অবনতি হলে বাড়ি না গিয়ে মৌলভীবাজারে সকাল সাড়ে ১১ টায় ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেন লাগানো হয়। ওই সিলিন্ডারে অক্সিজেন ছিলনা। পরে হাসপাতালেরর করোনা আইসোলশনে পাঠানো হয়। আবার অক্সিজেন দেয়া হলে ওই সিলিন্ডারটিও খালি ছিল। পরে দূপুর ১ টায় মৃত্যু হয়। এর মধ্যে কোন চিকিৎসক দেখতে আনেননি। মৃত্যুর পর তরিগরি করে উপস্থিত পিপিই পরা ২ ব্যক্তি লাশ বাহিরে নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. তাওহীদ আহমদ বলেন, “আইসোলেশনের দায়িত্ব আমার না। আপনি একটু তত্ত্বাবধায়ককে অথবা আরএমওকে জানান।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথী কাননগো বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি আর আমি আরএমওকে বলে দিচ্ছি ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা দিতে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com