বড়লেখায় পুনর্বাসন কাজের ৩ মাসেই দেবে গেছে রাস্তা, পিচ উঠে গর্ত : সিংহভাগ বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার

আব্দুর রব : বড়লেখায় পৌনে ৩ কোটি টাকার রতুলী আরএইচডি-আজিমগঞ্জ জিসি এলজিইডি রাস্তার পুনর্বাসন কাজে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। মেগাডম, কার্পেটিং ও সিলকোটের কাজ সম্পন্নের ৩ মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থান দেবে গেছে। পিচ উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে আবারও রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। তবে, সাড়ে ৬ মাস আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের বরাদ্দের সিংহভাগ অংশ ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।
ঠিকাদারের কাজের অনিয়মে রাস্তা বেহাল হয়ে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টির ব্যাপারে তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগি স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে সালদিগা গ্রামের আগর-আতর ব্যবসায়ি আব্দুল কুদ্দুস বৃহস্পতিবার ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে উপজেলার রতুলীবাজার আরএইচডি-আজিমগঞ্জ এলজিইডি রাস্তাটির সংস্কার কাজ হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটির পিচ উঠে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে প্রায় চলাচল অনুপযোগি হয়ে উঠে। ২০২২ সালের বন্যায় রাস্তাটির কিছু জায়গা তলিয়ে ভেঙ্গে গিয়ে অসংখ্য বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে আগর-আতরের রাজধানী খ্যাত সুজানগর ইউনিয়নের হাজার হাজার জনগণ চরম দুর্ভোগ পোহান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচ্ছল ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইট-বালু ও মাটি ফেলে গর্ত ভরাট করেন। কিন্তু ভারি বৃষ্টিপাত ও ছোটবড় যানবাহণ চলাচলের কারণে বেশিদিন তা টিকেনি।
অবশেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ২০২৩ সালে ‘বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীণ রাস্তা অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির প্রায় ৩ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭ টাকা বরাদ্দ দেয়। রাস্তার পুনর্বাসন কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স মুহিবুর রহমান নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ২৩ অক্টোবর কাজ শুরুর নির্দেশনা থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলিত বছরের জানুয়ারিতে রাস্তাটির মেকাডম, কার্পেটিং ও সিলকোটের কাজ করে। কিন্তু কাজ করার তিন মাস না যেতেইে সিলকোটের পাথর উঠতে থাকে এবং অনেক জায়গা দেবে যায়। নতুন পিচ রাস্তায় জমে থাকে বৃষ্টির পানি।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ঠিকাদার সঠিক নিয়মে কাজ করেননি। জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধি কর্তৃক ইট ও মাটি দিয়ে ভরাটকৃত স্থানে রোলার মারা হয়নি। প্রয়োজনীয় বিটুমিন না দিয়ে কেরোসিনের গন্ধযুক্ত তরল পদার্থ ছিটিয়ে ভরাট মাটির উপর কার্পেটিং করায় রাস্তার বিভিন্ন জায়গা দেবে গেছে। সিলকোটে প্রয়োজনীয় বিটুমিন ও সঠিক মাপের চিপ পাথর না দিয়ে বড় সাইজের পাথর দিয়ে সিলকোর্ট করায় রাস্তার উপরভাগ সমান হয়নি। কাজ চলাকালিনই পাথর উঠতে থাকে। উচুনিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে মুহিবুর রহমান কুকিল জানান, রাস্তায় গর্ত ও দেবে যাওয়ার বিষয়টি কেউ তাকে জানায়নি। তবে, রাস্তাটির কাজ চলমান রয়েছে। মেয়াদের মধ্যেই অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে দিবেন।
ইউএনও গালিব চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার এলাকাবাসির পক্ষে সংশ্লিষ্ট রাস্তার পুনর্বাসন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছেন।



মন্তব্য করুন