খোলামেলা খাদ্য বিক্রি, জনস্বাস্থ্য ভয়ানক ক্ষতির মুখে

January 4, 2026,

বশির আহমদ : বর্তমানে ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে খোলামেলা অবস্থায় কেক, বেকারি পণ্য ও বিভিন্ন ধরনের রান্না করা খাদ্যসামগ্রী প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য-অনেক মানুষ এগুলোকে নিছক আমোদ ও সাময়িক স্বাদের তাড়নায় কিনে খাচ্ছেন, কিন্তু এসব খাদ্যের স্বাস্থ্যসম্মত দিকটি আদৌ যাচাই করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষ করে খোলামেলা কেক ও বেকারি সামগ্রীতে ইচ্ছেমতো কৃত্রিম রং, কেমিক্যাল ও অস্বাস্থ্যকর উপকরণ ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এসব খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশ্ন হলো-এই খাদ্যসামগ্রীগুলো কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (ইঋঝঅ) বা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে?

একইভাবে রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে তৈরি ও পরিবেশিত খাবার-যেমন খিচুড়ি, হাঁসের মাংস, গরুর মাংস, রুটি ইত্যাদি-খোলা পরিবেশে ধুলোবালি, মাছি ও নানা জীবাণুর সংস্পর্শে থাকে। এসব খাবার প্রস্তুতকারীদের অনেকেরই নেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসনদ, নেই পরিচ্ছন্নতা বা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা। ফলে ভোক্তারা অজান্তেই খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়গুলোকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দ বা বাজারের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি, লাইসেন্সিং, খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা একান্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকেও সচেতন হতে হবে-স্বাদ বা স্বল্প মূল্যের মোহে নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। জনস্বার্থে, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে-এখনই প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com