শ্রীমঙ্গলে মাদক ও যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা ও পেশাগত অধিকার সুনিশ্চিতকরণে সভা

August 27, 2026,

এহসান বিন মুজাহির : শ্রীমঙ্গলে মাদক ও যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা এবং তাদের পেশাগত অধিকার সুনিশ্চিতকরণ শীর্ষক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার রাতে শ্রীমঙ্গলে ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের উদ্যোগে রেলস্টেশন জামে মসজিদে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতিগঞ্জ রাজ্জাকিয়া দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম শায়েখ মাওলানা আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে ও ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদ শ্রীমঙ্গল এর সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কাশেম আফসারীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন, দারুসসুন্নাহ বালিকা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মনির উদ্দিন, সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফেরদাউস আহমদ, আশিদ্রোন জামিউল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মালেক, সংগঠনের সেক্রেটারি মাওলানা শাহিদুর রহমান সালেহ, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান সিরাজী এবং রেলস্টেশন জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল আজিজ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার কাণ্ডারি হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অথচ অনেক  ক্ষেত্রেই তারা পেশাগত ও সামাজিকভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছেন। তাই দেশের অন্যান্য পেশাজীবীর মতো ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারিভাবে অথবা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে একটি নির্ধারিত স্কেলে সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পেশাগত অধিকার সুনিশ্চিত করার বিষয়ে বক্তারা বলেন, মসজিদ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। তাদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবসরকালীন ভাতা বা পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

সরকারের পক্ষ থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের উদ্যোগের প্রশংসা করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করে একটি মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যথাসময়ে সবার কাছে ভাতা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে দ্রুত এর আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা বলেন, মাদক ও যৌতুক ইসলামে যেমন ভয়াবহ অপরাধ, তেমনি রাষ্ট্রীয় আইনেও এগুলো গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। মাদক ও যৌতুকের ভয়াল থাবায় প্রতিনিয়ত অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হচ্ছে। মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের কারণে তরুণ ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সমাজে একের পর এক অপরাধ, বিশৃঙ্খলা ও অনাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বক্তারা সমাজের প্রতিটি স্তরে মাদকের ভয়াবহতা ও যৌতুকের অভিশাপ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে জুমার খুতবাকে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদক ও যৌতুকের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় যৌতুক দেওয়া-নেওয়াকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে সহজ, সাদাসিধে ও বরকতময় বিবাহব্যবস্থা প্রচলনে ইমামদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বদেওয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সভায় বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, মাদক ও  যৌতুকমুক্ত আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অপরিসীম। একই সঙ্গে তারা যে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন, তার যথাযথ স্বীকৃতি, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজÑউভয়ের দায়িত্ব।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com