মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সীমিত কার্যক্রম বরাদ্ধ যাচ্ছে ফেরৎ! মাদকের ছোঁয়ায় যুবসমাজ বিপথগামী

January 30, 2018,

ওমর ফারুক নাঈম॥ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও প্রবাসী অধ্যূষিত মৌলভীবাজার জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম চলচে নামকা ওয়াস্তে। এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘঠায় যুব সমাজ হচ্ছে বিপথগামী। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতাও।

মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন ষ্টেশন, হাট-বাজার, সড়ক-মহাসড়ক এমনকি শহরেও গড়ে উঠেছে মাদকের বিশাল রাজত্ব। মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা। এ জেলার সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদকের অনেক বড় বড় চালান। তা পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এর সহজলভ্যতার কারণে যুব সমাজ হচ্ছে বিপথগামী। কিন্তু এসব নিয়ন্ত্রণে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো কার্যক্রম নেই।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৭ সালে মামলা হয়েছে ১২৪টি। এর মধ্যে নিয়মতি ৮৫টি এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৯টি। আসামী গ্রেফতার হয়েছে ১১৮জন এবং পালাতক রয়েছে ৩১জন। উদ্ধার হয়েছে ইয়াবা ৬৯৮পিস, ফেন্সিডিল ২৫ বোতল, গাঁজা ৭৭ হাজার ২শত কেজী, চোলাই মদ ৩৯৬.৫০০ লি:, বেদেশী মদ ৫ বোতল, ওয়াশ ১৩, ৩৭ লি:, পুঁইচ ৯০লি:, ডিএস ৭৩০ লি:, সিএনজি অটো রিক্সা ১টি, নগদ অর্থ ২৪ হাজার ৫শত ৪০টাকা।

অন্যদিকে সেমিনার কনফারেন্স, ও প্রচার এবং বিজ্ঞাপন খাতে সেমিনার কনফারেন্স এর জন্য গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বরাদ্ধ হয়েছে ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা কিন্তু খরচ হয়েছে মাত্র ৮৩ হাজার ৬শত টাকা। প্রচার ও বিজ্ঞাপন এর জন্য বরাদ্ধ এসেছে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা কিন্তু খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা। ১৭-১৮ অর্থ বছরে সেমিনার কনফারেন্স এর জন্য বরাদ্ধ এসেছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা কিন্তু খরচ হয়েছে ১ লক্ষ ৯হাজার ২৮০টাকা। আর প্রচার ও বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্ধ এসেছে ৩ লক্ষ টাকার এর মধ্যে ৫৮ হাজার ৭শত ৪৬ টাকা খরচ হয়েছে।

বরাদ্ধকৃত এই অর্থের বিশাল একটি অংশ ফেরৎ যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে। জেলায় দেশী-বিদেশী মাদক সয়লাব রয়েছে। কিন্তু মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন সাড়া জাগানো কার্যক্রমই করছে না মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আর মাদকের এই ভয়াল থাবায় পড়ে বিপখগামী হচ্ছেন অনেক যুবক। মাদকের ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে অনেক পরিবার। বাড়ছে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতির মত অপরাধ প্রবণতাও।

একটি বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, গেল ২০১৭ সালে মৌলভীবাজারে খুন হয়েছে ৫৮টি। বাসাবাড়িতে ডাকাতি হয়েছে ১০ টি, দস্যুতা হয়েছে বাড়িতে ২টি ও রাস্তায় ১৪টি, অপহরণ হয়েছে ৫টি। নারী নির্যাতন মধ্যে ধর্ষণ ২৪টি ও অন্যান্য ৭৪টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। শিশু নির্যাতন ৫৯টি। চুরি হয়েছে গবাধি পশু ৩২টি, গাড়ি ২২টি, দোকান ৫টি, অন্যান্য জিনিষ ৬৯টি এবং পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে ৬টি স্থানে।

সুশিল সমাজের অনেকের মতে, সরকারী প্রতিষ্ঠান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যদি লোক দেখানো কিছু পোগ্রাম না করে মাঠে কাজ করে তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য সচেতনতার পাশাপাশি বিশেষ অভিযান ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। তা না হলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।

মাদক থেকে পূর্ণবাসন হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এখানে মাদকের প্রতি আসক্ত হওয়ার জন্য হতাশা কাজ করে না। খুব কম লোকই হতাশ হয়ে মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্ত হন। এখানে মাদকের শক্তিশালী বিস্তারের কারণেই মাদকা আসক্তির সংখ্যা বাড়ছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার বিশ্বাস বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমি ছিলাম না আমার পূর্বে যে কর্মকর্তা ছিলেন তিনিই ব্যয় করছেন। যেখানে খবর পাচ্ছি আমরা অভিযান চালাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ীদের কোন তালিকা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের কোন তালিকা নেই।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com