সড়ক সংস্কারের দাবীতে  উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গ্রামবাসীর প্রতিবাদ

February 1, 2018,

ইমাদ উদ দীন॥ চলাচলের একমাত্র সড়ক নিয়ে অন্তহীন দূর্ভোগ। তাই এমন অভিনব প্রতিবাদ। নদী তীরের চারটি গ্রামের একটি মাত্র সড়ক। এই সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত। কিন্তু তা এখন চরম বেহাল দশায়। র্দীঘ সংস্কার হীনতায় সড়কের দু’পাশ ভেঙ্গে গিয়ে দিন দিন সরু হচ্ছে। এমন দূর্দশায় সড়কটি পরিণত হয়েছে পা হাঁটার পথ। কিন্তু তাও অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী। তাই এখন গ্রামে যেমন আসছেনা এ্যাম্বোলেন্স। তেমনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন একসময় এসড়ক পথে ছোট বড় গাড়ি চললেও এখন পায়ে হাঁটাও যাচ্ছেনা। যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন বেহাল দশায় কয়েক হাজার মানুষের অসহনীয় দূর্ভোগ। যাতায়াতে গেল কয়েক বছর থেকে বয়ে চলা এদূর্ভোগ কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা তাদের। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট নানা স্থানে ধর্না দিয়েও যেই সেই। শুধু আশ^াস আর প্রতিশ্রুতি। তাই দূর্ভোগ পোহানো ৪ গ্রামের বাসিন্দাদের উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এমন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ। এক দাবীতে গ্রামবাসীরা একজোট। রাস্তা চাই। এমন দাবীতে উঠান বৈঠকেই তুলে ধরেন রাস্তার কারনে তাদের নানা সমস্যার কথা। সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ব্রাহ্মণ গ্রাম। গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের বাড়ির উঠানে গতকাল বিকেলে বসে এমন প্রতিবাদী উঠান বৈঠক। ওই উঠান বৈঠকে রাস্তায় নিয়ে দূর্ভোগ পোহানো ব্রাহ্মণ গ্রাম,হামর কোনা,দাউদপুর,আলীপুর এই চারটি গ্রামের মুরব্বিরা অংশ নেন। রাস্তা নিয়ে উঠান বৈঠক হবে। বৈঠকে জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন এমন খবর পেয়ে গ্রামের ছোট বড় অনেকেই ওই বাড়িতে ছুটে আসেন। যাতায়াতে তাদের এমন বয়ে চলা দূর্ভোগের কথা জানাতে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান মৌলভীবাজার-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্যানেল স্পীকার সৈয়দা সায়রা মহসীন,স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অরবিন্দু পোদ্দার বাচ্চু ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দদের। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও স্থানীয় আওয়মীলীগের নেতৃবৃন্দ,এলাকার মুরব্বীয়ান,বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দূর্ভোগ গ্রস্থ এই সড়কের উপকারভোগীরা। গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী ও সাবেক ইউপি সদস্য শাহাজান মিয়া গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে রাস্তা নিয়ে তাদের চলাচলে নানা দূর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন রাস্তাটির এমন দূর্দশায় তাদের ৪টি গ্রামের কয়েক হাজার উপকারভোগীরা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। রোগীবাহী গাড়ি এমনকি আগুন লাগলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও আসতে পারেনা। ওই সড়ক পথেই যাতায়াত ৪ গ্রামের ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। রয়েছে মাদ্রাসাও। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা পিচ্চিল ও ভাঙ্গাচুরা রাস্তায় মারাতœক দূর্ঘটনায় পড়েন। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা প্রায় সময় ওই রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে পাশের খাদে পড়ে যাওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন দীর্ঘ দিন থেকে রাস্তাটির সংস্কার কাজ না করায় কার্যত যোগাযোগের কারনেই আমরা আশপাশের এলাকা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। এ থেকে রেহাই পেতে নানা স্থানে ধর্ণা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন সংশ্লিষ্টদের এমন নির্দয় আচরনে মনে হয় আমরা এজেলারই বাসিন্দা নয়। গ্রামবাসীর পক্ষে অবিলম্বে রাস্তাটি মেরামত কাজ করে দেওয়ার জন্য উপস্থিত সংসদ সদস্য  ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ জানান। উঠান বৈঠকে মিহির পোদ্দার বলেন এমননিতে নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে নদী তীরের এই গ্রামগুলো। গ্রামের অধিকাংশ মানুষই খেটে খাওয়া দিনমজুর। তিনি নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো রক্ষায় নদী শাসন বাধ ও একমাত্র রাস্তাটি মেরামত করার জোর দাবী জানান। গ্রামবাসীরা জানান প্রয়াত সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসীন আলী মন্ত্রী হওয়ার পর তাদের এলাকা পরিদর্শন করে তাদের আশ^স্ত করেছিলেন। কিছু কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু কিছু দিন পর তিনি ইন্তেকাল হওয়ায় এই উন্নয়ন কাজ আর হয়নি। এসময় প্রয়াত সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসীন আলীর সহধর্মিণী সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন গ্রামবাসীর কাছ থেকে তাদের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন। রাস্তা নিয়ে তাদের নানা সমস্যা ও দূর্ভোগের কথা শোনে তিনি তাদের আশ^স্ত করেন। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অরবিন্দু পোদ্দার বাচ্চুর কাছে রাস্তা উন্নয়নে কোন বরাদ্দ আছে কিনা তা জানতে চান। উত্তরে বাচ্চু জানান রাস্তা মেরামতের জন্য আশানুরুপ কোন বরাদ্দ এখনো পাননি তিনি। পরে সৈয়দা সায়রা মহসীন তার ব্যক্তিগত সহকারী শ্রীকান্ত ধরের মাধ্যমে তার নিজস্ব তহবিল থেকে শুস্ক মৌসুমেই চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাটি আংশিক মেরামতের আশ^াস দেন। এবং পরবর্তীতে সরকারী বরাদ্দের মাধ্যমে রাস্তাটি পূর্ণাঙ্গ মেরামতের করে দেওয়া হবে বলে জানান। এমন প্রতিশ্রুতিতে উৎফুল্ল গ্রামবাসী তাকে অভিনন্দন জানান। পরে সৈয়দা সায়রা মহসীন উপস্থিত সকলকে নিয়ে গ্রামের রাস্তটি ঘুরে দেখেন। এসময় ব্রাহ্মণ গ্রামের লায়লাবানু,জাহানারা বিবি,রাফিয়া বেগম,বেদানা বেগম,বেলাল মিয়াসহ সকলেই রাস্তানিয়ে তাদের দূর্দশার কথা তুলে ধরেন। এবং ভবিষৎ প্রজন্মের স্বার্থে নদী তীরের ওই গ্রাম গুলো রক্ষায় ও সড়ক মেরামতের তার সাহায্য চান তারা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com