অবহেলা-অযত্নে সাতগাঁও শহীদ মিনার

সাইফুল ইসলাম॥ শ্রীমঙ্গলে শহরতলীর সাতগাঁও রেল স্টেশনের কাছে অবস্থিত ‘সাতগাঁও শহীদ মিনারটি’ অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকে বছর জুড়ে।
এমনকি ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ অন্যান্য দিবসে শহীদ মিনারে গিয়েও কেউ শ্রদ্ধা জানাননি।
দেখা গেছে, শহীদ মিনারের সামনে আশপাশের দোকান আর রাস্তার যত ময়লা-আবর্জনা ঝাড়– দিয়ে মিনারের দুই পাশে সামনের পুরোটায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। দোকান ঘরের পেছনে শহীদ মিনারটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছে। পুরো মাঠ জুড়েই যত্রতত্র বাঁশ। শহীদ মিনারটির অবস্থা করুণ দেখায়। মূল বেদী আর ইটের সোলিং করা জায়গাটুকুও ভেঙ্গে গেছে। বেদীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য ময়লা-আবর্জনা।
পশ্চিমদিকের এক কোণা অস্থায়ী প্রস্বরাবখানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এসব কারণে মিনার থেকে উদ্ভট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে।
সাতগাঁও স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো.আব্দুল আজিজ বলেন, সংগঠনের উদ্যোগে সম্প্রতি শহীদ মিনারটি সংস্কার করে ছিলাম। এখন আমি সংগঠনের সাথে জড়িত না থাকায় এভাবেই পড়ে আছে শহীদ মিনারটি।’
সাতগাঁও এলাকার সচেতন বাসিন্দা মো.সেলিম মাহমুদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন,‘শহীদ মিনারের যথাযথ মর্যাদা, পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষার বিষয়টি হানি হচ্ছে। যদি এর যথাযথ মর্যাদা রক্ষা না হয় তাহলে এ দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ভাষা আন্দোলনের শহীদদের অপমান করা হবে। এই শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় কেউ না আসলেও নিজেই পবিত্র রক্তের মূল্যরক্ষার্থে ছুটে যাবো।’
শ্রীমঙ্গল শহরের জালালিয়া রোডের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা মো.আসলাম বলেন, এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। যেসব শহীদ মিনার অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকছে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বা জনপ্রতিনিধিদের প্রতি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ থাকলে, তাহলে তারা সংস্কার করতে এগিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান মো.চেরাগ আলী বলেন,‘সাতগাঁও রেল স্টেশনের পাশে যে শহীদ মিনারটি আছে,কিভাবে আছে সেটি খোঁজ নিতে আমি ভূলে গেছি। তবে ২৫ মার্চ রবিবার সংস্কার করে যাতে স্বাধীনতা দিবসে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানাতে পারে সেই ব্যবস্থা করছি।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম ২৫ মার্চ রবিবার-দুপুরে বলেন,‘বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে তৎক্ষণিক খোঁজ নিয়ে শহীদ মিনারটি রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনা হবে। তবে শহীদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সামাজিক সচেতনতা অধিক জরুরি বলে তিনি মনে করেন।’



মন্তব্য করুন