মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত রঞ্জন বনিক গেজেটভুক্ত হওয়ার পরও ভাগ্যে জুটেনি সম্মানী ভাতা

চৌধুরী ভাস্কর হোম॥ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত রঞ্জন বনিক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ গেরিলা বাহিনী মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে গেজেটভুক্ত তালিকায় রয়েছে এই বীরের নাম। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছর পরও বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও ৭০ উর্ধ্ব বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন বনিকের ভাগ্যে জুটেনি মুক্তিযোদ্ধের সম্মানী ভাতা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শয্যাশায়ী এই বীরের আক্ষেপ করা আহবান “বাংলাদেশ তুমি কি আমার প্রাপ্য স্বীকৃতি ও মর্যাদাটুকু দেবে”?
কথা হয় তাঁর সাথে, আলাপকালে কখনো চোখে মুখে ফুটে উঠে আলোর ঝলকানি আবার কখনোবা কথায় বেরিয়ে আসে আক্ষেপ, ক্ষোভ, চাপা অভিমান। তিনি উচ্চকিত কন্ঠে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলতে লাগলেন, গেজেটে নাম প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭১ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে দেশমাতৃকার প্রতি তাঁর ও তাঁর দেখা তখনকার সময় সমগ্র সিলেট বিভাগের ত্যাগী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবদানের কথা। তিনি বলেন, সম্মানসূচক স্বীকৃতির জন্য এরকম ভাবে দ্বারে দ্বারে ঘোরে বাঁচার চেয়ে যুদ্ধে প্রাণ যাওয়াটাই কি সম্মানের ছিল না? দেশকে রক্ষা করতে ’৭১ এ যুদ্ধে গিয়েছিলেন। আজও তিনি যুদ্ধ করে চলছেন। তবে তা টিকে থাকার যুদ্ধ।
নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা গ্রামের বনবাসী বনিকের ছেলে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত রঞ্জন বনিক। বর্তমানে অসুস্থ্য অবস্থায় গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত রঞ্জন বনিক মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় ৫ সদস্য নিয়ে বসবাস করছেন। নিজ নামে কিংবা পরিবারের কোন সদস্যের নামেও করতে পারেননি স্থায়ী বসতবিটা।
আলাপকালে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত রঞ্জন বনিক বলেন, মুক্তিযোদ্ধ কালীন সময়ে সুনামগঞ্জ মহকুমা কৃষি অফিসে চাকুরীরত ছিলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধকালীন সময়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যোর বালাটে অবস্থান নেন এবং সেখানে মুজিব নগর অফিসে কাজে যোগদান করেন। এর কিছু দিন পর ভারতীয় এস.এস.বি কাম গেরিলা বাহিনীতে যোগদান করেন তিনি। মেঘালয়ের বালাট ছিল একটি সাব সেক্টর। এস.এস.বি কাম গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার ভারতীয় বি.আর নাথ এর নেতৃত্বে এই সেক্টর থেকে মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত রঞ্জন বনিক। স্বাধীনতার পর তিনি পুনরায় মহকুমা কৃষি অফিসে চাকুরীতে যোগদান করেন।
১৫ আঘষ্ট বঙ্গ বন্ধুকে হত্যার পর দেশের পরিবেশ অনুকুলে না থাকায় তিনি চাকুরী ছেড়ে দেন। পরে শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হন। দেশের বাড়ি সিলেট বিভাগের বাইরে থাকায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তখন নিজ নাম উঠাতে পারেননি এই বীর। অবশেষে ২০১৩ সালের ৪ আগষ্ট গেরিলা বাহিনীতে তালিকাভুক্ত হয় চিত্ত রঞ্জন বনিকের নাম। গেজেট নং-৯৩, গেজেটের যৃষ্ঠা-৬৮৮৪।
২০১৭ সালের জুলাই মাসে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মনোহরদী সমাজসেবা কর্মকর্তা বরাবরে সম্মানী ভাতা প্রদানের জন্য আবেদন নিবেদন করেও ৭০ উর্ধ্ব বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন বনিকের ভাগ্যে জুটেনি মুক্তিযোদ্ধের সম্মানী ভাতা।



মন্তব্য করুন