হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব দূর্গা পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন : ৯৯৬টি মন্ডপে সোমবার থেকে পূজা অনুষ্ঠিত হবে

October 13, 2018,

স্টাফ রিপের্টাার॥ জগতের সকল অশুভ দূর করে শুভ ও সুন্দরের বহি প্রকাশ ঘঠাতে শারদীয় দূর্গা উৎসবে মৌলভীবাজার জেলার ৭ উপজেলায় ৯৯৬টি সার্বজনীন ও শতাধিক ব্যক্তিগত মন্ডপে মন্ডপে চলছে শেষ মুহুর্তের শারদীয় দূর্গা পূজার প্রস্তুতি।

আগামী ১৫ অক্টোবর ভোর থেকে ষষ্ঠিপূজা মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে ১৯ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে দূর্গূাপূজা। শরতের কাশ ফুল দুলে জানান দিল মা আসছেন ঘোড়ায় আগমন আর পালকীতে গমন করবেন। আর ঢাকের আওয়াজ বলে দিলো আমাদের মনের আশুরিক শক্তি দুর করতে দিতে হবে মায়ের চরণে পুস্পাঞ্জলি। এই প্রয়াসেই প্রতিবছর দেশের সবচেয়ে বেশি ও জাগজমক পূর্ণ পূজার আয়োজন হয় মৌলভীবাজার জেলায়। গত বছর ছিলো সাড়ে ৮‘শ, এ বছর হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিবছর জেলার প্রচীণ র্তীথস্থান রাজনগরের পাঁচগাও লাল দূর্গার পূজা, কুলাউড়ার কাদিপুর শিববাড়ি, শ্রীমঙ্গলের মঙ্গলেশ্বরী মন্দির ও শিববাড়িতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জেলা সদরের ত্রিনয়নী, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ, লালবাগ ও শাপলাবাগের বেশ কিছু মন্ডপের নান্দনিকতায় প্রচুর পরিমানে ভীড় হয় থাকে।

এদিকে ভক্তদের আকর্ষন করতে জেলার সবচেয়ে বড় পূজা মন্ডপ ত্রিনয়নী শিব বাড়ীর আয়োজনে এবারো ভিন্ন মাত্রা রয়েছে। শিব লিঙ্গের আদলে শিব-বিগ্রহ বিশাল প্যান্ডেল আর ২৫ ফুট উচ্চতার নীল বর্ণের শতনয়না দূর্গা প্রতিমা তৈরী করেছে তারা। আর এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রথম করা হচ্ছে বলে দাবী আয়োজকদের। এছাড়া আবাহন, নতুন কালীবাড়ী, হরিজন সংঘসহ সবকটি পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

পূজার মধ্যদিয়ে অসুরদের দমন করে মা দূর্গা যেভাবে স্বর্গ রাজ্য জয় করেছিলেন ঠিক সেভাবে পৃথিবীর বর্তমান অশান্তি দূর হবে এই প্রত্যাশা ধর্মাবলম্বীদের।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ দূর্গা উৎসব জাঁক-জমকপূর্ন পালনের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। দ্রুত গতিতে চলছে প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা সাজানোর কাজ।

হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলার পূজা ম-পগুলোতে প্রতিমা তৈরী সহ সাজ-সজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে। অধিকাংশ ম-প গুলোতে প্রতিমা তৈরীর পাশাপাশি প্রতিমাকে সাজিয়ে তোলতে প্রতিমা শিল্পীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে দিন রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলার ৭ টি উপজেলায় ৯৯৬টি পূজাপন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দূর্গাপূজা। এর মধ্যে সর্বজনীন ৮৪২টি এবং ১৫৪টি মন্ডে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলার রাজনগরে সার্বজনীন ৭৬টি মন্ডপ ব্যক্তিগত ৫৪টি, বড়লেখায় সার্বজনীন ১৩৩টি ব্যক্তিগত ১৮টি, কুলাউড়ায় সার্বজনীন ১৯৪টি ব্যক্তিগত ২৩টি, জুড়ীতে সার্বজনীন ৬৫টি ব্যক্তিগত ৩টি, মৌলভীবাজার সদরে সার্বজনীন ৮৪টি ব্যক্তিগত ২৩টি, শ্রীমঙ্গলে সার্বজনীন ১৫৪টি ব্যক্তিগত ১৩টি, কমলগঞ্জে সার্বজনীন ১৩৬টি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে রয়েছে ২০টি পূজা মন্ডপ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ রায় মুন্না জানান, ১৫ অক্টোবর ভোর থেকে দেবীর অকাল বোধনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী এই শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে।

১৫ অক্টোবর ষষ্ঠিপূজা আমন্ত্রণ ও অধীবাস, ১৬ অক্টোবর সপ্তমী বিহিত পূজা, ১৭ অক্টোবর মহা অষ্টমী বিহিত পূজা এবং কুমারী পূজা ও সন্ধি পূজা, ১৮ অক্টোবর নবমী বিহিত পূজা এবং ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীর আরতীপূজা শেষে দেবীর প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ দুর্গোৎসব।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ্জালাল জানান, শান্তি পূর্নভাবে উৎসব মূখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দূর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মন্ডপগুলোতে আনসার সদস্যদের বাইরেও পুলিশ, ডিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পূজা মন্ডপে আশপাশে র‌্যাবের সার্বক্ষণিক টহল থাকবে। অধিক নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি পূজামন্ডপে সিসি টিভি ক্যামেরা স্খাপন করা হয়েছে। উৎসবমূখর পরিবেশে দূর্গোৎসব পালন করতে প্রতিটি সার্বজনীন পূজা মন্ডপে আর্থিক সহযোগীতা করেছে জেলা প্রশাসন ও মৌলভীবাজার পৌরসভা ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com