আমন ধানে সবুজের মেলা এক যুগ পর কাউয়াদিঘী হাওর পাড়ের কৃষকের মুখে আমনের হাসি

October 21, 2018,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর কাউয়াদিঘী হাওর পাড় এখন সবুজে সবুজে যেন আচ্ছাদিত। দীর্ঘ প্রায় ১০-১২ বছর পর এবার হাওর পাড়ের কৃষকেরা মনের মত করে রূপা আমন চাষ করেছেন। এখন ধানের উপর দিয়ে যদি কোন রোগ বালাই না আসে তবে অনাহাসে অগ্রহায়ন মাসে ধান কেটে গোলায় তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী কৃষেকেরা। এর আগ থেকে দুই উপজেলার কৃষি ক্ষেতের জন্য পানি নিস্কাশনের একমাত্র অবলম্বন কাশিমপুর পাম্প হাউজের বেশীরভাগ পাম্প মেশিন অচল থাকায় পুরো হাওরটি জলমগ্ন হয়ে থাকতে দেখা যেত। এবার অচল মেশিনগুলো সরিয়ে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে পাম্প মেশিন স্থাপন করায় সহজে হাওরের পানি কুশিয়ারা নদীতে সেচ করে ফেলে দেয়া হয়। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর পানি কমে যাওয়াতে হাওর থেকে অনেক নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে নদীতে। আর তাই এখন পাম্প দিয়ে পানি সেচ না করেই স্লুইচ গেইট খুলে হাওরের পানি বের করে দেয়া হচ্ছে।

মনুনদী সেচ প্রকল্প’র অধিনে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরের  ২৪ হাজার ১শ ৭৮ হেক্টর এলাকার ১৯ হাজার ২শ ২৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমির বন্যা নিয়ন্ত্রন,নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থা প্রদান করার লক্ষে নিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরের কাশিমপুর এলাকায় দ্বিতীয় বারের মত স্থাপন করা হয়েছে নতুন পাম্প মেশিন। পূনরায় নতুন মেশিন স্থাপন করায় স্থানীয় কৃষকরা বেজায় খুশি। এবার নতুন পাম্প স্থাপনের পর বিশাল এই হাওরে আগের মত পানি নাই ।  এদিকে হাওর পাড়ের সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ও একাটুনা ইউনিয়ন ও রাজনগর উপজেলার ফতেপুর,উত্তরভাগ ইউনিয়নের ওয়াপধা সড়ক  সংলগ্ন হাওর ঘুরে দেখা যায় যেন শুধু সবুজের খেলা। কোথাও ধান চারা থেকে ফুটে বের হয়েছে ধান ফুল আবার কোথাও ফুল ফোটার প্রহর গুনছে।

এর আগে ১৯৭৫-৭৬ সালে ফতেপুর ইউনিয়নের কাশিমপুরে পাম্প হাউজ স্থাপন করা হয়। পাউবো প্রকৌশলীরা বলছেন, এ মেশিনগুলো স্থাপন হওয়াতে প্রকল্পের আওতার সকল কৃষকেরা নির্ভিগ্নে কৃষি ক্ষেত করতে পারবে। বন্যা,কিংবা বৃষ্টির পানি হাওরে লেগে থাকলেও নতুন সংযোগের কারনে সহজে সেচ করে কুশিয়ারা নদীতে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

এদিকে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, এবার দীর্ঘ বন্যা না হওয়া, মৌসুমে মৌসুমে বৃষ্টিপাত হওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরাঞ্চল থেকে পানি সেচ করায় আমন ফসল ভাল হয়েছে। রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, তিনি ১০/১৫ কিয়ার রূপা আমন চুক্তি বাগিতে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “এবার ফসল খারাপ হইছেনা। পাম্প হাউজ দিয়ে পানি সেচ করায় ফসল ভালা হইছে এবার”। উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামের কৃষক নুরুল হক বলেন, ২৫/৩০ কিয়ার জমি চুক্তি বাগি দিয়ে চাষ করিয়ে ফসল লাগিয়েছি। এবার দীর্ঘ বন্যা না হওয়া ও মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও ধানে মরক না হওয়াতে ফসল ভাল হয়েছে। একই ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের ময়না মিয়া বলেন, তিনি ১০/১৫ কিয়ার জমি চাষ করেছেন। পানি সেচ করাতে তিনি এসব জমি আবাদ করতে পেরেছেন। তবে,তিনি অভিযোগ করে বলেন, পানি আরো সেচ করতে পারলে নি¤œাঞ্চলের জমি চাষ করা যেত।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার অন্যবারের চেয়ে কাউয়াদীঘি হাওরে পানি একটু কম। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিধ কাজী লুৎফুর বারী বলেন, গত বারের চেয়ে এবার কাউয়াদীঘি হাওরে পানি কম দেখা যাচ্ছে। হাওরের উচু এলাকায় রূপা আমনের মধ্যে ৪৯, বিআর ২২ জাতের ধান রূপন করা হচ্ছে বেশী। জেলায় আমনের লক্ষ মাত্রা ৯৬ হাজার ২শ ৪৬ হেক্টর। এ পর্যন্ত চাষ করা হয়েছে ৪ হাজার ২শ ৭৫ হেক্টর জমি। কাউয়াদীঘি হাওরে আমন চাষের পরিমান ২শ ৯৩ হেক্টর জমি এবং জেলায় রূপা আমন চাষের জমির পরিমান ৯৬ হাজার ৪শ ৩৫ হেক্টর।

এদিকে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নতুন ৮টি পাম্প মিশিন চালু হয়েছে। হাওরের পানি সেচ করতে ৫-৬টি মিশিন চালু থাকে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী রনেন্দ্র শকর চক্রবর্তী বলেন,  ৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এবার ৮টি পাম্প মেশিন লাগানো হয়েছে। আগের চেয়ে এ মেশিনের ক্যাপাসিটি প্রায় ৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য এবছর হাওরে কোন জলাবদ্ধতা নাই। এবার কৃষকেরা বোরো ফসল ও আবাদ করতে পারবে বলে এ প্রতিবেদককে অবহিত করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com