ডাক্তারদের ফ্রি স্টাইলে বাড়তি ফি আদায়

স্টাফ রিপোর্টার॥ মানুষের মৌলিক ছয়টি চাহিদার একটি চিকিৎসা সেবা। ক্রমাগত পরিবর্তনের কারণে চিকিৎসা সেবা খাতের উন্নয়ন পূর্বের চেয়েও বেশ ভালো হলেও, এখন পর্যন্ত স্বাস্থসেবা আইনের কিছু জটিলতার কারণে দারিদ্র, নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লোক থেকে শুরু করে উচ্চ বিত্তশ্রেণীর লোকজন সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার অনেক চিকিৎসক ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার ক্ষেত্রে (প্রাইভেট প্র্যাকটিস) কোনো নিয়মনীতির মধ্যেই থাকতে চান না। রোগীপ্রতি সময় ও ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেঁধে দেওয়া কোনো নির্দেশনাও নেই তাদের। যে চিকিৎসক যত টাকা ফি নির্ধারন করেন ততো টাকা দিতে হয়।
দেখা গেছে ২০১৭ সালে নতুন প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা আইনের খসড়ায় শুধু ডাক্তারদের ফি নির্ধারণে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে উল্লেখ করা হলেও ওই ফি কত হবে সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এদিকে জেলা শহরের কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক চিকিৎসক আছেন, যারা রোগী দেখার সময় খুব বেশি তাড়াহুড়ো করে রোগী দেখেন যার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীরা নিজেদের সমস্যা গোলো ডাক্তারের কাছে ভাল করে বলতে পারেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী আরো জানান যে, রোগীদের কাছ থেকে অনেক ডাক্তাররা ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মতো ফি রাখেন- ফি দেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে সুচিকিৎসা নিতে পারেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সমাজকর্মী জানান, শহরের বেশির ভাগ প্রাইভেট ক্লিনিকের প্রধান আয়ের উৎস্য হলো গর্ভবতী নারীদের সিজার করা। তিনি আরো বলেন যে সদর হাসপাতাল ও শহরের বেসরকারি হাসপাতাল গোলোর অনেক চিকিৎসক আছেন যারা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন, যার যতো টাকা খুশি ততো টাকা ফি নির্ধারন করেন, ফলে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর অনেক লোক ভাল ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না।
সরকারি ভাবে ডাক্তারদের ফি নির্ধারনের জন্য কোনো আইনি নীতিমালা তৈরি না হওয়ায় ডাক্তারদের ফি অরাজকতা বাড়ছে। ডাক্তারদের ফি নির্ধারনে সুনিদির্ষ্ট আইনি নীতিমালা প্রয়োজন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নাঈমা জান্নাত এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন রোগী দেখার ক্ষেত্রে তিনি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি রাখেন।সদর হাসপাতালের সহকারি রেজিস্টার ডাক্তার বিশ্বজিৎ দেব পাতাকুড়িকে বলেন, সদর হাসপাতালের পাশে পালসের নিচে ইউনিক ফার্মেসি রয়েছে ঐ ফার্মেসিতে নিজের একটি প্রাইভেট চেম্বার রয়েছে।তিনি সাধারনত সন্ধ্যায় ঐ চেম্বারে বসে রোগী দেখেন তিনি রোগীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা ফি রাখেন।
তিনি আরো জানান, ডাক্তারদের রোগি দেখার ফি সংক্রান্ত কোনো আইনি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়নি এ ব্যাপারে কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে দক্ষ সুচিকিৎসকরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী মুল্যায়ন পাবেন।বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, শহরের কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তাররা রোগীর সিজার করার জন্য ৭ হাজার টাকা ফি নির্ধারন করে সিজার করেন অথচ দেশের অন্যান্য জেলা শহরের হসপিটাল গোলোতে ৪০০০ হাজার টাকার বেশি ফি- দাবি করেন না চিকিৎসকরা- ফলে সাধারন মানুষ নিজেদের সহায় সম্বল বিক্রি করে হলেও মোটা অংকের ৭০০০ টাকার ফি দিতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই মোটা অংকের টাকা দিতে না পারায় বঞ্চিত হচ্ছেন সুচিকিৎসা থেকে। তাছাড়া অনেক প্রাইভেট ডাক্তার রয়েছেন যাদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগীদের ভিড় কারণ ঐ ডাক্তারের রোগি দেখার ফি অনেক বেশি বলে সাধারন মানুষ মনে করেন ঐ ডাক্তার এর সেবার মান ভালো আবার অনেক ভালো ডাক্তার রয়েছেন যাদের ফি তুলনামুলকভাবে অনেক কম কিন্তু সাধারন রোগীদের কাছে তারা ভাল ডাক্তার নয় বলে যে নেতিবাচক প্রবনতা রয়েছে, তা বেশ জটিল আর এই জটিলতার কারনে অনেক রোগীরা ভালো চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না।



মন্তব্য করুন