বন্যায় ৯ লক্ষ টাকার মাছ, ১৪০ হেক্টর জমির আউশ ধান ও আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ

ইমাদ উদ দীন॥ হঠাৎ জেলার মনু,ধলায়,ফানাই, জুড়ী ও কুশিয়ারাসহ হাওর ও নদীর পানি বৃদ্ধি হয়ে বন্যায় রুপ নিচ্ছে। ধলাই নদীর একটি স্থানে ভাঙ্গন ও মনুসহ অন্যান্য নদীর বিভিন্ন স্থানের চরম ঝুঁকিপূর্ণ বাধঁ ভাঙ্গার আশঙ্কা করছেন নদী তীরের বাসিন্দারা।
কমলগঞ্জের ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পৌর শহরের রামপাশা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়িসহ ওই এলাকায় আউশ ধান ও আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মাছের খামারেরও। নদীর পানি উপচে ফসলি জমি তলিয়ে গেল ক’দিনের অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মনু ও ধলাই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শনিবার ১৩ জুলাই বিকেল পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় ১৩৩ হেক্টর আউশ ধান ও ৭ হেক্টর আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্যমতে পানিতে ডুবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৮ হেক্টর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ১২৫ হেক্টর আউশ ধান ও সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের ৭ হেক্টর আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কাজী লৎফুল বারী জানান এবছর মৌলভীবাজার জেলায় ৫৩ হাজার ১০ হেক্টর আউশ ধান আবাদ হয়েছে। এপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৪০ হেক্টর ধান ও চারা।
এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: এমদাদুল হক জানান জেলার কমলগঞ্জ ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ২৩ টি পুকুর, ৩ হেক্টর মাছের আবাদের প্রায় ৫.৯ মেট্রিকটন মাছ বানের পানিতে ভেঁসে যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।
শুক্রবার ১২ জুলাই মধ্য রাত থেকে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এতে কমলগঞ্জের রামপাশা এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের ২০ ফুট জায়গা ভেঙে পানি প্রবেশ করে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী জানান উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি না কমলে জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ তাৎক্ষণিক ও দ্রুত মেরামতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।



মন্তব্য করুন