বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বাড়ছে দূর্ভোগ

July 17, 2019,

ইমাদ উদ দীন॥ কমছে নদীর পানি বাড়ছে দূর্ভোগ। গেল দু’দিন থেকে উজানের ঢল ও বৃষ্টি না হওয়াতে জেলার নদী ও হাওরের পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এতে করে নতুন করে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবনের শঙ্কা কমলেও বাড়ছে দূর্ভোগের দুশ্চিন্তা। কুশিয়ারা নদী ছাড়া জেলার মনু,ধলাই নদীর পানি এখন বিপদ সীমার নিচে প্রবাহিত হলেও বাড়ছে বন্যা কবলিত মানুষের চরম দূর্ভোগ। কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার নদী ও হাওর তীরের বাসিন্দারা হঠাৎ বন্যা কবলিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া লোকজন এখন পড়েছেন জলাবদ্ধতার নতুন দূর্ভোগে। নদী ও হাওরের পানি কিছুটা কমতে শুরু হলেও এখন নতুন করে ভাড়ছে জলাবদ্ধতা। এতে নিজেদের খাদ্যসহ গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে তারা সংকটে পড়ছেন। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সমস্যাও প্রকট হচ্ছে।  জেলা প্রশাসনের  তথ্যানুযায়ী সাম্প্রতিক বন্যায় সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম, রাজনগর উপজেলার  ২টি ইউনিয়নের  ২৩ টি গ্রাম, কমলগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম , কুলাউড়া উপজেলার ২টি ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসকল গ্রামে ৪০৭০টি পরিবার বন্যাক্রান্ত  হয়েছে। তবে বেসরকারী হিসেবে প্রায় লক্ষাধিক পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরা। সদর উপজেলায় ২টি, রাজনগরে ৩টি ও কমলগঞ্জে ২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে শুকনো খাবার চাল ও পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ৭৪টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এপর্যন্ত জেলায় বন্যা দূর্গতদের মাঝে ৬৫০ মেট্টিক টন চাল, নগদ সাড়ে ৯লক্ষ টাকা ও ৭হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করার জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে আরো ২ শ মেট্রিকটন চাল। ধীরে ধীরে তা বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। চাহিদা মোতাবেক আরো বরাদ্ধ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। ১৭ জুলাই বুধবার বিকেল পর্যন্ত মুন একটি স্থানে ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যেটি মঙ্গলবার ছিল ১০০ সে.মিটার উপর দিয়ে,ধলাই নদী ৭৫ সেন্টি মিটার নিচ দিয়ে ও কুশিয়ারা নদী ৫২ সে.মিটার বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যে টি ছিল আগে ছিল ৫৪ সে.মিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী জানান গেল দুদিন উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত না হওয়াতে নদীগুলোর পানি অনেকটাই কমেছে। ভারি বর্ষণ না হলে আর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা কম। তবে ঘর বাড়িতে উঠে যাওয়া পানি নামতে কিছুটা সময় লাগবে। পানি কমলে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধগুলো মেরামত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com