পরিবেশ উন্নয়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন পরিবেশ মন্ত্রী

July 31, 2019,

স্টাফ রিপোর্টার॥ পরিবেশ মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এম.পি. বলেছেন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম হচ্ছে জনগণের কণ্ঠস্বর এবং সরকারের সহযোগী। যে কোনো কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করে সেই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে গণমাধ্যম। বর্তমানে বাংলাদেশে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গণমাধ্যমের অভাবনীয় বিকাশ আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। আমরা আমাদের সকল কাজে আপনাদের অব্যাহত সহযোগিতা পেয়ে আসছি, আমি আশা করি আগামীতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে ‘পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা’ শীর্ষক এক মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি এখন বিশ^ব্যাপী একটি আলোচিত বিষয়। আর এ বিষয়ে বর্তমান সরকার গভীর আগ্রহ ও গুরুত্বসহকারে কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রণালযের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করে এসব বিষয় জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রচারের জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে দূষণের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে আইন সম্পর্কে আরও ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হচ্ছে। দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তরল বর্জ্য নির্গমণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রযোজ্যক্ষেত্রে ইটিপি, এটিপি, সাউন্ড ব্যারিয়ার স্থাপন ও পরিচালনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ বন্ধে সারা দেশে ৮টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণকে নিয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের বিগত ৬ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পলিথিনের বিরুদ্ধে সারাদেশে ১২২টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১২৬ টন পলিথিন জব্দ ও ৪৪ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার লক্ষ্যে ৮টি বিভাগীয় শহর এবং ৩৬ টি জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় স্থাপন করে জনবল পদায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ৬৪ টি জেলায় জেলা কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে পলিথিনের উৎস বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, নগরায়ন, শিল্পায়ন, মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম, যানবাহন, যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে দূষণ সৃষ্টি হয়। এ সকল বিষয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির জন্য তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও মনযোগ আকর্ষণ করেন।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত ব্যক্ত করে বলেন পরিবেশ উন্নয়নে সাংবাদিকরা সব সময়ই আন্তরিক। পরিবেশ উন্নয়নে জনগণেকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তারা তাদের লেখনি অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকা- সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে পরিবেশ উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক পলিথিন উচ্ছদের জন্য মন্ত্রণালয়কে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মতামত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব মনজুরুল হান্নান খান, আলমগীর মোহাম্মদ মনসুরুল আলম, ড. নূরুল কাদির, ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফা-ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীপক কান্তি পাল, প্রধান বন সংরক্ষক শফিউল আলম চৌধুরী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. রফিক আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com