শীতে জবুথবু চা শ্রমিক ও বোরো চাষী : বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগবালাই

ইমাদ উদ দীন॥ হাওর, নদী আর পাহাড়ী টিলা বেষ্টিত মৌলভীবাজার জেলার প্রতিটি জনপথই এখন প্রচন্ড শীতে এখন জবুথবুু। জেলার ৯২ টি চা বাগানে কর্মরত চা শ্রমিকারা ঠান্ডায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি,কাউয়াদিঘি,হাইল হাওর। আর মনু,ধলাই,ফানাই ও জুড়ী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা বোরো চাষীরা প্রচন্ড শীতে তাদের কর্মক্ষেত্র ও জনজীবন বিপন্ন হচ্ছে। চা ও বোরো চাষের মৌসুম থাকায় বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা। চলমান ঠান্ডা ও শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেও থেমে নেই তাদের কাজ। তাদের মত এ জেলার নিত্য দিনের কাজে ঘরের বাহিরে যাওয়া লোকজনও ঠান্ডায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঠান্ডার প্রকোপ থেবে বাদ যায়নি গৃহপালিত পশুগুলো। ঠান্ডা থেকে গৃহপালিত পশু রক্ষায় বস্তা ও পুরাতান কাপড় গায়ে বেধে রাখছেন। দরিদ্র লোকজন খড়কুট জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্ঠ চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এ জেলায় ঠান্ডা জনিত রোগে মারা গেছেন কয়েকজন। শীত ও কুয়াশা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার ৭টি উপজেলায় বাড়ছে শীত জনিত রোগও। পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় মানুষ জ্বর,সর্দি,কাশি,শ্বাসকষ্ঠ ও ডায়রিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে ভুগছেন। এছাড়া শীতের কারণে এসব এলাকার মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জেলার,বড়লেখা,জুড়ী,কুলাউড়া,কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শীতের তীব্রতা বেশি। সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলায় শীতজনতি কারণে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ওই উপজেলায় ৫ জন নিহত হয়েছিলেন।
৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ছিল ঘন কুশায়ায় আচ্ছন্ন আর সাথে ছিল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা ও বৃষ্টি কমলেও শীতের তীব্রতা কমেনি। মৃদু শৈত্যপ্রবাহে শীতের তীব্রতা ছিল প্রকট। জেলা ও উপজেলার সরকারী হাসপাতালগুলির চিকিৎসকরা জানান কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে এ জেলার মানুষ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এরমধ্যে সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি। এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে শহরের অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে শীতার্ত মানুষের ভীড়। দোকানী ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান শীত বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন রকমের শীতবস্ত্র বিক্রি বাড়ছে। সব শ্রেণির মানুষই তাদের ক্রেতা। তারা জানান মধ্য ও নিম্ন আয়ের লোকজনই শীতের কাপড় কিনতে আসছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই চা শ্রমিক,দিনমজুর ও কৃষিজীবীই বেশি। শীত যত বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যাও তত বাড়ছে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো. মুজিবুর রহমান বলেন গেল ক’দিন থেকে ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠা নামা করছে। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সৌমিত্র সিংহ জানান ‘শিশু ও বৃদ্ধসহ এ পর্যন্ত মোট ৩ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও ১৫ জন শিশু ও বৃদ্ধ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। একইরকম অবস্থা জেলার অন্যান্য হাসপাতালেও। মৌলভীবাজার জেলার দুর্যোগ ও ত্রাণ পুর্নাবাসন কর্মকর্তা আশরাফ আলী বলেন মৌলভীবাজার জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় ৪১ হাজার ২শ কম্বল ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরও দুই হাজার বরাদ্দ আসছে। সেগুলো ২-৪ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসছে। সেখান থেকে দুই লাখ টাকার শিশু পোষাক কেনা হবে। বাকি টাকা দিয়ে শীতবস্ত্র (কম্বল) কিনে বিতরণ করা হবে।



মন্তব্য করুন