শিল্পকলায় বৈঠকী আড্ডায় সাংস্কৃতিক ইতিহাস-ঐতিহ্য স্মরণ

ইমাদ উদ দীন॥ শহরের সাংস্কৃতি অঙ্গনের গুণীজন একসাথে বসে বৈঠকী আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন শহরে শিল্পকলা একাডেমিতে। স্মরণ হল ফেলে আসা দিনের সাংস্কৃতি অঙ্গনের নানা কর্মের। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দীর্ঘ সময় চলে এই স্মৃতি স্মরণ বৈঠকী আড্ডা।
প্রচলিত ও প্রথাগত অনুষ্ঠানের ভীড়ে এটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন। ওই বৈঠকী আড্ডায় স্মরণ হল মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতি অঙ্গনের গৌরব গাঁথা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের। আড্ডার আয়োজক ও মধ্যমণিরা জেলার সাংস্কৃতি অঙ্গনের প্রাণ পুরুষ। যাদের কর্মস্পৃহায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ও হচ্ছেন অনেক অনুজ।
৬ মার্চ শুক্রবার রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যালয়ের ওই বৈঠকী আড্ডার আয়োজক ছিলেন সুইডেন প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগীত শিল্পী মহকুমা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ.কে সুজাউল করিম সুজা। আর আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন সুনির্মল কুমার দেব মীন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো: আজিজুর রহমান। সুনির্মল কুমার দেব মীন এ জেলায় যিনি রাজনীতি,সাহিত্য, নাটক ও সংস্কৃতির অঙ্গনে কাজ করেছেন বেশ সুনামের সাথে। ছিলেন শিক্ষক। ওই পেশা থেকেই বিদায় নিয়ে হয়েছেন প্রবাসী। অপরজন আলহাজ মো: আজিজুর রহমান তিনিও ছিলেন নাটকের অন্তপ্রাণ। একসময় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে সাংসদ হয়েছেন, এখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। দেশ ও প্রবাসে থাকা একসময়ের স্ব স্ব কর্মে তুখোড় দুই কর্মীকে ঘিরে মৌলভীবাজার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হয়ে গেল এক চমৎকার ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আড্ডা। সেখানে তাঁরা যেমন তাঁদের সেই ফেলে আসা সময়কে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছেন। তেমনি তাঁদেরকে দেখে যারা বেড়ে ওঠেছেন, তারাও বলেছেন তাদের স্মৃতিমুগ্ধ কথাগুলো। এভাবেই একটি সময়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ওঠে এসেছে আড্ডায়, কথনে।
আয়োজকরা জানান এটা কোনো প্রথাগত আয়োজন ছিল না। ছিলেন না সভাপতি, অতিথি। ছিল না ব্যানার। সুনির্মল কুমার দেব মীন ও আজিজুর রহমান মূলত এ দুজনকে কেন্দ্র করে তাঁরা চেয়েছেন নিজেদের মধ্যে হারানো সময়কে ফিরিয়ে আনতে। নতুনদের সামনে ষাট, সত্তর গড়িয়ে আশির দশকের সেই সময়কে তুলে ধরতে। যাতে ইতিহাস-ঐতিহ্যের পথটি কিভাবে তৈরি হয়েছে, তা নতুন প্রজন্ম জানতে পারে। পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মানবিক মমত্ববোধের মহাসড়ক ধরে ইতিহাস আরও বহু দূর যেতে পারে। নীতি-নৈতিকতা, আদর্শচ্যুতির খরার বিপরীতে একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণ হতে পারে।সুইডেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সংগীতশিল্পী এ.কে সুজাউল করিম সুজা আড্ডাকে প্রাণবন্ত করতে এই শহরের জ্যেষ্ঠ ও অনুজ সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের একত্রিত করেছেন। তার এই রুচিশীল মনোমুগ্ধকর আড্ডার আয়োজন আর ওখানকার নানা স্মৃতিকথায় অগ্রজ ও অনুজদের মধ্যে সৃষ্টি হয় সাংস্কৃতি অঙ্গনের এক চমৎকার মেল বন্ধন। ওই আড্ডায় একত্রিত হয়ে তা প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তুলেন শিল্প-সংস্কৃতির সংগঠন আলোকধারার সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক এম এ আহাদ, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক মোহাম্মদ আব্দুল খালিক, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ও সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আব্দুল ওহাব চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ আব্দুল মোত্তালিব রঞ্জু, কানাডাপ্রবাসী নুরুর রহমান তরফদার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রবীণ সাংবাদিক হারুনুর রশীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোহিত টুটু,নাট্যকার খালেদ চৌধুরী, সংগীতশিল্পী রণধীর রায়,নাট্যকার আব্দুল মতিন,সাবেক পৌর কাউন্সিলর আজমল আহমদ চৌধুরী, কবি দীপংকর মোহান্ত, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এম এমদাদুল হক মিন্টু, সাংবাদিক আকমল হোসেন নিপু ও সালেহ এলাহী কুটি, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটির সভাপতি সুবিনয় রায়সহ অন্যান্যরা। সুনির্মল কুমার দেব মীন ও আজিজুর রহমান দুজনই তাদের ফেলে আসা দিনের নিজ কর্ম নিয়ে নানা স্মৃতিচারণ করেন। তাদের ওই স্মৃতিচারণ উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। অনুজদের স্বীয় কর্মে অনুপ্রাণিত করে। দীর্ঘ প্রায় ৫ ঘন্টা চলা ওই আড্ডায় ছিলেন না সভাপতি ও সঞ্চালক। তারপরও ভঙ্গ হয়নি শৃঙ্খলা ও আড্ডার প্রাণবন্ততা। সবাই এমন ব্যতিক্রমী ও শিক্ষণীয় আড্ডার আয়োজনের জন্য এ.কে সুজাউল করিমকে অভিনন্দন জানান।



মন্তব্য করুন