দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিষ্ণুপদ ধামে শুরু হয়েছে গীতা যজ্ঞ

March 9, 2020,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ অশুভ শক্তির বিনাশ আর দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় মৌলভীবাজারের রাজনগরের তারাপাশা শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধামে আজ থেকে শুরু হয়েছে এক সপ্তাহব্যাপি গীতা যজ্ঞ ও নামযজ্ঞানুষ্ঠান। দের জন্য বিষ্ণুপদ ধাম তীর্থস্থান হিসেবে যেমন জনপ্রিয় তেমনি পর্যটক আকর্ষক হিসেবেও আদ্রিত। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে প্রতিদিনই শত শত মানুষ ভীড় জমান সেখানে। আগত দর্শনার্থীরা ভগবান বিষ্ণুর পদচিহ্ন দর্শন করে যেমন পুণ্যলাভ করেন, তেমনি এখানে মন্দিরের সৃষ্টিশীল কারুকাজ আর প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখেও তৃপ্ত হন।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় আয়োজন করা হয়েছে ৪০ প্রহরব্যাপী ৩৬ তম বার্ষিক নামযজ্ঞানুষ্ঠান। সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে পিন্ডদান, পিতৃতর্পন ও শ্রী শ্রী গীতা হোমযজ্ঞ। ১৪ মার্চ নামযজ্ঞে পূর্ণাহুতি দধিভান্ড ভঞ্জন এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করা হবে।

অনাদিকালে মর্ত্যধামে ভগবান শ্রীবিষ্ণু লীলা প্রকট করেছেন। লীলা শেষে ভগবান অন্তরীক্ষে লীন হওয়ার সময় পৃথিবীর দু তিনটি স্থানে মানবকুলের জন্য রেখে গেছেন তাঁর পদচিহ্ন। প্রায় সাড়ে তিনশত বছর আগে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার তারাপাশায় মনুনদীর তীরে আবিষ্কৃত হয় এমই একটি পদচিহ্ন। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে যার উল্লেখ আছে।

তবে এটি যে একটি ঐতিহাসিক পুণ্যস্থান, এখানে ভগবানের পদচিহ্ন যে আজও বিরাজমান তা অনেকেরই অজানা ছিল। সময়ের সাথে সাথে এর ব্যাপ্তি ঘটলে বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ লোকজন তা দর্শনে আসতে শুরু করেন। একটি প্রস্তরখন্ডে রেখে যাওয়া ভগবান বিষ্ণুর পায়ের ছাপ ও এর নান্দনিকতায় বর্তমানে এটি রূপ নিয়েছে একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও।

আর মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানান, এটি সনাতন ধর্মালম্বীদের পূর্বপুরুষের মঙ্গলার্থে পি-দানেরও একটি তীর্থস্থান। ভারতের গয়াতে পিন্ড দানের যে ফল এখানেও সমান ফল লাভ হয়।

বার্ষিক অনুষ্ঠানে আগত লক্ষাধিক দর্শনার্থীদের জন্য আরো ভূমি সংযোজন করে মন্দিরের ব্যাপ্তি বাড়ানোসহ এর উন্নয়নে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com